১৭ নভেম্বর ২০১৮

জলহস্তির কামড়ে মৃত্যু

প্রতীকী ছবি। - সংগৃহীত

কেনিয়ায় জলহস্তির কামড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। জলহস্তিটির কাছে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করার সময় এঘটনা ঘটে। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে ৯০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বন্যপ্রাণী অবকাশ কেন্দ্র লেক নাইভাশাতে শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জলহস্তিটি তাইওয়ানের নাগরিক ৬৬ বছর বয়সী চ্যাং মিং চুয়াং এর বুকে কামড় বসিয়ে দিয়েছিল। এ ঘটনায় তার সঙ্গী আরেক তাইওয়ানিজও আহত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর কেনিয়ার এই এলাকায় জলহস্তির কামড়ে ছয় জন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

জলাশয়ের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় জলহস্তিগুলো ওই অবকাশ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে উঠে ঘুরাফিরা করছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই প্রাণীগুলোকে স্থলের সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী স্তন্যপায়ী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোপা হোটেলের প্রাঙ্গণে ওই দুই জন ওই জলহস্তিটির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। জলহস্তি কামড় দেওয়ার পর আহতের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
সামান্য আহত অপর পর্যটক য়ু পেং তে-কে নাইভাশা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি থেঁতলানো ধরনের ব্যথা পেয়েছেন।

প্রথমে ওই দুই পর্যটককে চীনা নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছিল কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস। পরে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিজেদের নাগরিক বলে শনাক্ত করে। তাইওয়ানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা কেনিয়া তাইওয়ানের ওপর চীনের মালিকানার দাবিকে সমর্থন করে।

লেক নাইভাশা বোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ডেভিড কিলো কেনিয়ার স্টার সংবাদপত্রকে বলেছেন, পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় জলহস্তিদের চারণভূমি কমে গেছে, এই কারণে প্রাণীগুলো আশপাশের খামার ও হোটেল প্রাঙ্গণগুলোতে উঠে আসতে বাধ্য হচ্ছে, এ কারণেই হিংস্র এ প্রাণীগুলোর সঙ্গে লোকজনের বেশি সংস্পর্শ ঘটছে।
জলহস্তি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় তারা প্রাণীগুলোকে অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছে কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ।
জলহস্তিদের ওজন ২,৭৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে এবং এদের ধারালো দাঁত আছে। প্রতি বছর আফ্রিকায় প্রাণীটির আক্রমণে গড়ে ৫০০ লোকের মৃত্যু হয়।

 

 

আরো দেখুন: দীর্ঘ বিষাদ ভ্রমণ শেষে মৃত সন্তানকে বিদায় জানালো সেই তিমি মা

সমুদ্রে কমপক্ষে এক হাজার মাইল বহন করার পর অবশেষে মৃত নবজাতককে বিদায় জানালো সেই তিমি মা। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের তিমি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকরা বলছেন, ‘মা তিমিটির বিষাদ ভ্রমণ শেষ হয়েছে এবং তার আচরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বিচিত্র।’

এই ধরণের তিমি মাছ সাধারণত সপ্তাহখানেক ধরে মৃত সন্তান বহন করে থাকে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এই এক্ষেত্রে তিমিটি রেকর্ড করেছে।


মা তিমিটি গত কয়েকদিনেই সারাবিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

তিমি গবেষণা কেন্দ্র শনিবার এক বিবৃতিতে বলে, ‘সমুদ্রতট থেকে নেয়া টেলিফটো ডিজিটাল চিত্র থেকে ধারণা করা যায় যে মা তিমিটি শারীরিকভাবে সুস্থ অবস্থাতেই রয়েছে।’

‘মৃত তিমিটির দেহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যবর্তী স্যালিশ সাগরে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে তিমির দেহের 'নেক্রপসি' (পশুর ময়নাতদন্ত) করার সুযোগ হয়তো পাবেন না গবেষকরা।’

ভ্যাঙ্কুভার উপকূলে মা তিমিটিকে মৃত শাবক বহন করে নিয়ে যেতে দেখা যায় ২৪ জুলাই।

ওই দিনই শাবকটি মারা যায় বলে ধারণা করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই এই ধরণের তিমিকে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই ধরণের তিমির প্রধান খাবার চিনুক স্যামন মাছ, যার সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক কমে গেছে।


আরো সংবাদ