২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সিংহ ও মানুষের বন্ধুত্বের অবিশ্বাস্য ঘটনা (ভিডিও)

-

একটি পুরুষ সিংহের কেশরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে একজন মানুষ। আর সিংহটির সাথে ঐ মানুষটি খেলা করছে। এমন অবিশ্বাস্য একটি দৃশ্য দেখা গেল দক্ষিণ আফ্রিকায়। এই ভিডিওটিতে দেখা যায় একটি সিংহ তার বন্ধুর (একজন মানুষের) সাথে সময় কাটাচ্ছে আর সে মৃদু স্বরে স্বস্তিদায়ক গর্জন করছে।

অসাধারণ এই ভিডিও ক্লিপটি দক্ষিণ আফ্রিকার হ্যারিস্মিথ অঞ্চলের গ্লেন গার্রিফ অভয়ারণ্য থেকে ধারণ করা হয়েছে। সিংহটিকে তার সঙ্গী মাইক টুলানি সাথে দেখা যায়। এই পুরুষ সিংহটির নাম স্মোকি বা ধূসর।

মাইক জুলু সম্প্রদায়ের মানুষ। সে সবার থেকে আলাদা। তার সাথে এখানকার সব সিংহের আলাদা সম্পর্ক রয়েছে বিশেষ করে স্মোকি’র, বলছিলেন গ্লেন গার্রিফ অভয়ারণ্যের সিংহদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচালক সুজান স্কট।

তিনি বলেন, মাইকের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা কঠিন কিন্তু সে সিংহদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে যা আমাদের আয়ত্ত্বের বাইরে।

১০ বছর বয়সী স্মোকি একটি পুরষ সিংহ যে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সুপারস্টারে পরিণত হয়েছে। মাইক সিংহটির সমগ্র জীবন সম্পর্কে জানে। আর সে সিংহটির প্রধান পরিচর্যাকারী। মাইক ও সিংহের মধ্যে চমৎকার মানবীয়/পশুপ্রকৃতির সম্পর্ক রয়েছে।

আমি পরিস্কারভাবে বলতে চাই মাইক ও সিংহের মাঝে খুবই অসাধারণ এবং আলাদা একটি সম্পর্ক রয়েছে। আর আমরা তা মানুষের মাঝে বাড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহিত না। এগুলো কোন পোষা সিংহ বা বাচ্চার সাথে হলে সিংহের ভবিষ্যতের জন্য তা ক্ষতিকর।

গ্লেন গার্রিফ অভয়ারণ্য আফ্রিকান সিংহ সংরক্ষণ এবং সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। ১৯০২ সালে প্লেটবার্গে যখন যখন সর্বশেষ দুটি বন্য সিংহ শিকার করা হয়েছিল তার ১০০ বছর পর ২০০২ সালে গ্লেন গার্রিফে প্রথম সিংহ নিয়ে কাজ শুরু করে।

গ্লেন গার্রিফ অভয়ারণ্য আফ্রিকান সিংহ কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, এদের বিভিন্ন প্রজাতি নিয়ে গবেষণা করতে বদ্ধ পরিকর।

সজান স্কট বলছিলেন, পরিসংখ্যানে দেখা যায় আমাদের এই প্রজাতির সিংহগুলো বর্তমান অবস্থায় হুমকির মুখে আছে। সিংহরা অভ্যাসগত, মানুষ/প্রাণীজগতের দ্বন্ধ, পরিবেশেগত পরিবর্তনসহ জলবায়ুর পরিবর্তন এবং ক্রমাগত শিকারের ফলে তারা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

আমি নিজে এবং আমাদের স্বত্ত্বধীকারী প্যাট্রিক শ্যারন আমরা বেড়ার খুব কাছ থেকে ভিডিও ধারণ করার চেষ্ঠা করি যাতে করে বর্তমান অবস্থা বুঝানো যায়।

 

আরো দেখুন : চিতাবাঘের সাথে গুইসাপের দুর্দান্ত লড়াই


দুইটি চিতাবাঘের কাছে একটি গুইসাপ নিহত হয়েছে। এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি জাম্বিয়ার কায়িনগো সাফারি পার্কের দর্শনার্থীদের সামনে ঘটেছে। দর্শনার্থীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার উপর একটি গুইসাপের সাথে চিতাবাঘের দুটি বাচ্চা লড়াই করছে।

চিতাবাঘের একটি বাচ্চা গুইসাপটির কাছোকাছি চলে যায় এবং গুইসাপটিকে বার বার বারবার থাবা দিয়ে ধরতে চেষ্ঠা করে।

সাফারি পার্কের রাস্তার উপরে চলে আসা গুইসাপটিকে একটি চিতাবাঘের বাচ্চা তার থাবা দিয়ে ধরতে চাইলে গুইসাপটি তার লম্বা লেজ দিয়ে চিতাবাঘের বাচ্চাকে আঘাত করতে থাকে।

রাস্তার উপরে চলে আসা গুইসাপটি পালানোর চেষ্ঠা করতে থাকে। গুইসমাপটি এগুতে চাইলেই চিতাবাঘের বাচ্চাটি তার পিছু নিয়ে আক্রমণ করতে থাকে।

পরে গুইসাপটি আবার রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলের ভেতর চলে যেতে চাইলে বেশ ভালো ভাবেই চিতাবাঘের বাচ্চাটি গুইসাপের উপর আক্রমণ করে বসে।

এবার আর গুইসাপটি নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়নি। চিতাবাঘের বাচ্চাটি গুইসাপের ঘাড় কামড়ে ধরে নিয়ে জঙ্গলের ভেতর চলে যায়।

ঘটনার প্রতক্ষদর্শী কোস্টা ফ্র্যাঙ্গেসকাডেস বলেছিলেন যে, তিনি অন্যান্য পর্যটকদের সাথে সাফারি পার্কের ভেতরের তিনি এ চিতাবাঘ আর গুইসাপের যুদ্ধ দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, আমরা দেখলাম দুটি চিতাবাঘের বাচ্চা গুইসাপটিকে ধরতে প্রাণপণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। একটি চিতাবাঘের বাচ্চা গুইসাপের কাছাকাছি আসতেই গুইসাপটি তার চাবুকের মতো লেজ দিয়ে চিতাবাঘের থাবাতে আঘাত করে যাচ্ছিল। গুইসাপের লেজটি ক্রমাগতভাবে চারদিকে নাড়িয়ে চাড়িয়ে চিতাবাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্ঠা করছিল।

কোস্টা বলেন, গুইসাপটি জানত সে খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর তাই সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য তার শক্তিশালী লেজটি দিয়ে আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছিল। আর যখনি চিতাবাঘের বাচ্চাটি সুযোগ পেলো গুইসাপটিকে ধরার জন্য সাথে সাথেই সেগুইসাপের ঘাড়ে কামড়ে ধরলো এবং তাকে ঝোপের আড়ালে নিয়ে গেলো। আমি নিশ্চিত যে চিতাবাঘের হাত থেকে গুইসাপটি তার জীবন রক্ষা করতে পারবে না। তবুও আমি এমন একটি ঘটনার প্রতক্ষদর্শী হতে পেরেছি।

যদিও গুইসাপের শক্তিশালী হাত ও থাবা রয়েছে যা তারা শত্রুর সাথে যুদ্ধ করতে বা শিকার করার জন্য ব্যবহার করে থাকে।

গুইসাপের অন্যতম একটি অঙ্গ হল তার লেজ। যা যথেষ্ঠ শক্তিশালী, লম্বা এবং শত্রুকে দুর্বল করে দিতে পারে।

গুইসাপ শত্রুকে আক্রমণ করতে বা শিকার ধরার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। লেজ দিয়ে আঘাত করে গুইসাপ প্রতিপক্ষের হাড় ভেঙ্গে দিতে পারে বা চামড়া ছিঁড়ে ফেলতে পারে।

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme