১৪ নভেম্বর ২০১৮

চিতাবাঘের সাথে গুইসাপের দুর্দান্ত লড়াই (ভিডিও)

চিতাবাঘের বাচ্চাকে আক্রমণ করছে গুইসাপ। ছবি - ডেইলি মেইল।

দুইটি চিতাবাঘের কাছে একটি গুইসাপ নিহত হয়েছে। এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি জাম্বিয়ার কায়িনগো সাফারি পার্কের দর্শনার্থীদের সামনে ঘটেছে। দর্শনার্থীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার উপর একটি গুইসাপের সাথে চিতাবাঘের দুটি বাচ্চা লড়াই করছে।

চিতাবাঘের একটি বাচ্চা গুইসাপটির কাছোকাছি চলে যায় এবং গুইসাপটিকে বার বার বারবার থাবা দিয়ে ধরতে চেষ্ঠা করে।

সাফারি পার্কের রাস্তার উপরে চলে আসা গুইসাপটিকে একটি চিতাবাঘের বাচ্চা তার থাবা দিয়ে ধরতে চাইলে গুইসাপটি তার লম্বা লেজ দিয়ে চিতাবাঘের বাচ্চাকে আঘাত করতে থাকে।

রাস্তার উপরে চলে আসা গুইসাপটি পালানোর চেষ্ঠা করতে থাকে। গুইসমাপটি এগুতে চাইলেই চিতাবাঘের বাচ্চাটি তার পিছু নিয়ে আক্রমণ করতে থাকে।

পরে গুইসাপটি আবার রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলের ভেতর চলে যেতে চাইলে বেশ ভালো ভাবেই চিতাবাঘের বাচ্চাটি গুইসাপের উপর আক্রমণ করে বসে।

এবার আর গুইসাপটি নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়নি। চিতাবাঘের বাচ্চাটি গুইসাপের ঘাড় কামড়ে ধরে নিয়ে জঙ্গলের ভেতর চলে যায়।

ঘটনার প্রতক্ষদর্শী কোস্টা ফ্র্যাঙ্গেসকাডেস বলেছিলেন যে, তিনি অন্যান্য পর্যটকদের সাথে সাফারি পার্কের ভেতরের তিনি এ চিতাবাঘ আর গুইসাপের যুদ্ধ দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, আমরা দেখলাম দুটি চিতাবাঘের বাচ্চা গুইসাপটিকে ধরতে প্রাণপণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। একটি চিতাবাঘের বাচ্চা গুইসাপের কাছাকাছি আসতেই গুইসাপটি তার চাবুকের মতো লেজ দিয়ে চিতাবাঘের থাবাতে আঘাত করে যাচ্ছিল। গুইসাপের লেজটি ক্রমাগতভাবে চারদিকে নাড়িয়ে চাড়িয়ে চিতাবাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্ঠা করছিল।

কোস্টা বলেন, গুইসাপটি জানত সে খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর তাই সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য তার শক্তিশালী লেজটি দিয়ে আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছিল। আর যখনি চিতাবাঘের বাচ্চাটি সুযোগ পেলো গুইসাপটিকে ধরার জন্য সাথে সাথেই সেগুইসাপের ঘাড়ে কামড়ে ধরলো এবং তাকে ঝোপের আড়ালে নিয়ে গেলো। আমি নিশ্চিত যে চিতাবাঘের হাত থেকে গুইসাপটি তার জীবন রক্ষা করতে পারবে না। তবুও আমি এমন একটি ঘটনার প্রতক্ষদর্শী হতে পেরেছি।

যদিও গুইসাপের শক্তিশালী হাত ও থাবা রয়েছে যা তারা শত্রুর সাথে যুদ্ধ করতে বা শিকার করার জন্য ব্যবহার করে থাকে।

গুইসাপের অন্যতম একটি অঙ্গ হল তার লেজ। যা যথেষ্ঠ শক্তিশালী, লম্বা এবং শত্রুকে দুর্বল করে দিতে পারে।

গুইসাপ শত্রুকে আক্রমণ করতে বা শিকার ধরার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। লেজ দিয়ে আঘাত করে গুইসাপ প্রতিপক্ষের হাড় ভেঙ্গে দিতে পারে বা চামড়া ছিঁড়ে ফেলতে পারে।

আরো দেখুন : অজগরটি যেভাবে একটি নারীকে গিলে ফেলেছিল

অজগর আস্ত মানুষকে গিলে খেয়েছে - এরকম ঘটনা বিরল। কিন্তু গত এক বছরে ইন্দোনেশিয়ায় এরকম দু-দুটো ঘটনা ঘটেছে।

কী হয়েছিল ঐ নারীর?
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশের মুনা দ্বীপের বাসিন্দা ৫৪ বছরের ওয়া থিবা গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির কাছে সবজি ক্ষেতে গিয়ে আর ফেরেননি।

ঘণ্টা কয়েক পর গ্রামের মানুষজন তাকে তোলপাড় করে খুঁজতে শুরু করে। পরের দিন তারা ক্ষেতের কাছে জঙ্গলে দেখতে পায় ওই নারীর পায়ের স্যান্ডেল এবং হাতের ছুরিটি পড়ে রয়েছে। আর তার ৩০ মিটার দূরে শুয়ে আছে পেট মোটা বিশাল এক ডোরাকাটা অজগর সাপ।

"গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয় সাপটিই হয়তো ওয়া থিবাকে খেয়েছে। তারা সাপটি মেরে সেটিকে জঙ্গলের বাইরে নিয়ে যায়," স্থানীয় পুলিশ প্রধান বার্তা সংস্থা এ এফপিকে জানান। "পেট চিরে দেখা যায় তার ভেতর ঐ নারীর মরদেহ।"

সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ফুটেজে দেখা যায়, অজগরের পেট থেকে বের করে আনা হচ্ছে পূর্ণবয়স্কা একটি নারীর অক্ষত লাশ।

কীভাবে অজগর শিকার ধরে?
সুলাওয়েসির ঐ অজগরটি ছিল বিশাল আকৃতির ডোরাকাটা প্রজাতির। এ ধরণের অজগর ৩২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এরা অতর্কিতে হামলা চালায়। তারপর দ্রুত শিকারকে শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলে প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকে। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যে শিকারটি দম বন্ধ হয়ে বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়।

তারপর আস্ত গিলে খেয়ে ফেলে সেটিকে। অজগরের চোয়ালের পেশীগুলো খুবই নমনীয়। ফলে শিকারের আকৃতি বড় হলেও সেটিকে আস্ত মুখের ভেতরে নিতে সক্ষম হয় তারা।

মানুষ গিলে খাওয়া কি সহজ হয়?
তবে মানুষ গিলে খাওয়ার সময় বিশেষ এক সমস্যার মুখোমুখি হাতে পারে অজগর।

সিঙ্গাপুরে বন্যপ্রাণীর গবেষক এবং অজগর বিশেষজ্ঞ মেরি রুথ-লো বিবিসিকে বলেন, "মানুষের কাঁধের হাড় সমস্যা তৈরি করে, কারণ ঐ হাড় বাঁকে না।"

অজগর কি আর কোনো বড় প্রাণী খায়?

লো বলেন, "অজগরের প্রধান খাবার স্তন্যপায়ী প্রাণী। তবে তারা মাঝে মধ্যে কুমিরসহ বিভিন্ন সরীসৃপও খায়।"

অজগরের নিয়মিত খাবার বড় ইঁদুর এবং ছোটোখাটো জন্তু। তবে আকারে যত বড় হতে থাকে ততই বড় আকারের প্রাণী তারা টার্গেট করে। তার প্রধান কারণ, ইঁদুর খেয়ে তখন বড় অজগরের ক্যালরির প্রয়োজন মেটেনা।

তখন বন্য শুকর বা এমনকি গরুকেও তারা ছাড়ে না।

তবে অনেক সময় হিসাবে ভুল করে ফেলে অজগর। ২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় একটি বার্মিজ অজগর, যেটিকে অজগর প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় বলে ধরা হয়, একটি কুমির ধরে খেতে গেলে দুটিরই জীবন যায়।

শিকার ধরার ব্যাপারে অজগর অনেক বাছ-বিচার করে। তাদের পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে। উপযুক্ত বড় আকৃতির শিকার না পেলে, অনেক সময় তারা অনাহারে থাকতেও আপত্তি করেনা।

এটাই কি প্রথম অজগর কোনো মানুষ খেল?
না। ২০০২ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পাহাড়ি অজগর (রক পাইথন) ১০ বছরের একটি বালককে গিলে খায়।

গত বছর মার্চ মাসে সুলায়েসিতেই ২১ ফুট লম্বা একটি অজগর এক কৃষককে খেয়ে ফেলে। ২৫ বছরের ঐ যুবক বাড়ির কাছে পাম বাগানে গেলে করুণ পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে।

গত বছর ইন্দোনেশিয়ারই সুমাত্রা প্রদেশে প্রায় ২৪ ফুট লম্বা এক অজগর একটি পাম বাগানে এক কৃষকের ওপর চড়াও হয়। অনেক যুদ্ধ করে মারাত্মক জখম নিয়ে সে অবশ্য প্রাণে বেঁচে যায়।

নৃবিজ্ঞানী টমাস হেডল্যান্ড ফিলিপিন্সের একটি জঙ্গলে একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাথে কয়েক দশক কাজ করেছেন। তিনি জানান, ঐ সম্প্রদায়ের অন্তত ২৫ শতাংশ পুরুষ তাকে বলেছে জীবনের কোনো না কোনো সময় তারা ডোরাকাটা অজগর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ব্রাওয়িজায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্প বিশেষজ্ঞ নিয়া কুরনিয়াওয়ান বিবিসিকে বলেন, অজগর সাপ কম্পন, শব্দ বা বাতির আলো থেকে নিঃসরিত তাপের ব্যাপারে খুব স্পর্শকাতর এবং সে কারণে তারা মানুষের বসতি এড়িয়ে চলে।

কিন্তু তাদের আবাসস্থলের কাছাকাছি পেলে খাবার হিসেবে মানুষকে টার্গেট করা অজগরের জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়।


আরো সংবাদ