২৭ জানুয়ারি ২০২০

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আগে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে : স্পিকার

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আগে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে : স্পিকার - ছবি : সংগৃহীত

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সবার আগে সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, উগ্রবাদী হয়ে কেউ জন্ম নেয় না। নানা অনিষ্পত্তিমূলক বিরোধ পরিস্থিতি তাদের বিপথগামী করে। সারাবিশ্বের সব সফলতার জন্য উগ্রবাদ আজ হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সহিংসতা ও উগ্রবাদ বৈশ্বিক সমস্যা। কোনো একটি দেশ এককভাবে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে পারবে না। উগ্রবাদ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে সিটিটিসি, ইউএস-এইড ও ইউএন’র যৌথ আয়োজনে দুই দিনব্যাপী উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্পিকার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর আর মিলার, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম প্রধান মনিরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সারাবিশ্ব জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ সহিংসতার সম্মুখীন। উগ্রবাদ সহিংসতা থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য নিজের দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে অন্য দেশে অর্থাৎ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ফোরামগুলোতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে পুরো বিশ্বে ঐকমত্য আছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদে জড়িতরা দেশের শত্রু, সভ্যতার শত্রু, মানবতার শত্রু। আজকে সারাবিশ্বে জঙ্গিবাদ সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। টেরোরিজম এক্সট্রিমিজম ভায়োলেন্স কোনোভাবেই সারাবিশ্বের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়- সেটা আজ স্পষ্ট। সেজন্য আমাদের ব্যক্তিগতভাবে, সমষ্টিগতভাবে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন কনসেপ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। জাতিসংঘ কর্তৃক একটি গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি ২০০৬ সালে গ্রহণ করা হয়েছে। সারাবিশ্বের নেতারারা ওই গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিতে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

কীভাবে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে তা আগে চিহ্নিত করার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সন্ত্রাসীরা কীভাবে কী কারণে সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে? কোনো মানুষ কিন্তু সন্ত্রাসী জঙ্গি ও উগ্রবাদী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। তাহলে কী কারণে তারা এই পথ বেছে নেয়, সেটি আমাদের চিহ্নিত করতে হবে, এটা খুবই জরুরি। সেই দিকটি লক্ষ্য রেখেই গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে যদি কোনো বিরোধ চলমান থাকে, তাহলে এ ধরনের উগ্রবাদের জন্ম হতে পারে। যেহেতু মানুষ উগ্রবাদী, জঙ্গি হয়ে জন্মায় না, সেজন্য জঙ্গিকে কোনো ধর্মের বা কোনো গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। আমরা জানি, কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গির কোনো দেশ নেই, কোনো ধর্ম নেই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ সহিংসতাকে মোকাবিলা করতে হলে আমাকে দারিদ্র্যতাকে দূর করতে হবে, সামাজিক বৈষম্য দূর করতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ সহিংসতার ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে। তাদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি করতে হবে, যাতে করে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের হতাশা ও নৈতিকতার অবক্ষয় না ঘটে। আমাদের আর্থ-সামাজিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে।
স্পিকার বলেন, এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও কাউন্টার ন্যারেটিভ অর্থাৎ উগ্রবাদ বিরোধী যুক্তিগুলো সক্রিয়ভাবে তুলে ধরতে হবে, প্রচার করতে হবে। এটা খুবই জরুরি।

মিয়া সেপ্পো বলেন, উগ্রবাদ শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই থ্রেট। উগ্রবাদ নির্মূলে নারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের হাত ধরেই এই সংকট সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক অংশীজনদের উগ্রবাদ বিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

ড. গওহর রিজভী বলেন, তিন বছর আগে উগ্রবাদ এ দেশে মাথাচারা দিয়েছিল। পরবর্তীতে সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় সেই পরিস্থিতির উত্তরণ হয়েছে। তবে উ্রবাদ বিরোধী এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া উগ্রবাদ দমন সম্ভব নয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর আর মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার উগ্রবাদ প্রতিরোধে ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে। উগ্রবাদ দমনে ইতোমধ্যেই ৩৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, সমন্বয়ের মাধ্যমে উগ্রবাদ বিরোধী কাজ করার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়নি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে তা শুরু হলো। আলোচনার মাধ্যমে উগ্রবাদ দমন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে বিপথগামীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।


আরো সংবাদ

আফগানিস্তানে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়া নিয়ে ধুম্রজাল আসামকে বিচ্ছিন্ন করতে বলে বিপাকে ভারতের মুসলিম ছাত্রনেতা প্রাইভেট কারসহ ভুয়া মেজর আটক টেকসই ও বিশ্বমানের আধুনিক নগর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি তাবিথের বিমান পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান ‘ইফার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট হবো’ রানওয়ে থেকে ছিটকে হাইওয়েতে ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ২০ হাজার বেসরকারি শিক্ষকের অবসর সুবিধার আবেদন অপেক্ষায় এক খনি থেকে অতিরিক্ত ৩৫০ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন করবে ইরান ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই’ সিরিয়ায় রুশ-মার্কিন সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ

সকল

হামলার পর ইশরাকের বাসায় এসে যা বললেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার (১৫৭৬৮)ওমর আবদুল্লাহকে দেখে চিনতেই পারলেন না, কষ্টে মুষড়ে পড়ছেন মমতা (১৩০৮৮)হামলার পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে যে ঘোষণা দিলেন ইশরাক (৯০৮৩)চীনের পক্ষে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না, বলছেন বিজ্ঞানীরা (৬৯৫২)স্ত্রী হিন্দু, তিনি মুসলিম, ছেলেমেয়েরা কোন ধর্মাবলম্বী? মুখ খুললেন শাহরুখ (৬৫৮৮)সাকিবের বাসায় প্রাধানমন্ত্রীর রান্না করা খাবার (৬৪৭৬)শ্বাসরোধ করে হত্যার রুদ্ধশ্বাস রহস্যের উদঘাটন (৫৬৬১)কোলে তুলে দেড়ঘণ্টা লাগাতার উদ্দাম নাচ, হিজড়াদের 'অত্যাচারে' নবজাতকের মৃত্যু (৫১০৯)সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস (৪৭৮১)ইশরাকের গণসংযোগ জনস্রোতে পরিণত (৪৫৯৬)