২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ঘোষণা দিয়েও অনেকেই প্রতিশ্রুত অর্থ দেয়নি, সংসদে অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ছবি - সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ঋণ ও অনুদানের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত অনেক দেশ ও দাতা সংস্থা প্রতিশ্রুত অর্থের পুরোটা দেয়নি। তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি অর্থ দিয়েছে।বৃহস্পতিবার স্পকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে বৈদেশিক প্রাপ্ত সাহায্যের পরিমাণ ১৪ হাজার ৬১২ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব অর্থের মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ২৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর অনুদান ৩৮০ দশমিক ৭৩ মিলিয়র মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, প্রাপ্ত ঋণ ও অনুদানগুলো বৈদেশিক সাহায্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান, পানি সম্পদ, শিল্প, বিদ্যুৎ, তৈল-গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবহন, যোগাযোগ, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ, শিক্ষা ও ধর্ম, স্বাস্থ্য-পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ, সমাজ কল্যাণ-যুব উন্নয়ন ও মহিলা বিষয়ক, জন প্রশাসন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, গণ-যোগাযোগ, বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টর ও সাব-সেক্টরে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে। এ প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য ইআরডির মনিটরিং ব্যবস্থা চালু আছে।

মন্ত্রী জানান, ঋণ ও অনুদান দেয়া দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে এডিবির প্রতিশ্রুত ৭৮০ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে পাওয়া গেছে ৮৯৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আইডিএ (বিশ্বব্যাংক) প্রতিশ্রুতি ২৯৩০ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৪২২ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, চীনের প্রতিশ্রুত ৩৬০৭ দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৯৭৮ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ইউএন সংস্থার প্রতিশ্রুতি ১৮৩ দশমিক ০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৬৯ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আইডিবির প্রতিশ্রুতি ১১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপানের প্রতিশ্রুত ১৮২৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৫৪৪ দশমিক ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের প্রতিশ্রুত ৪৫০৭ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৪৯ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে রাশিয়ার প্রতিশ্রুত সব অর্থ পাওয়া গেছে। দেশটির প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৮৩২ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিন লেনদেন ৯৯৪ কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৯৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বর্তমান গ্রাহক প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ। এরমধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৬ লাখ গ্রাহক সক্রিয়ভাবে লেনদেন করছেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৬১২ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাস পাওয়া যায়। এরমধ্যে ৬ হাজার ২৯০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুহিত জানান, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩০৬টি। এরমধ্যে জেড ক্যাটাগরির ৪৪টি।

বেসরকারি পর্যায়ে পেনশন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে প্রবর্তনের কাজ চলতি অর্থবছরে
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরতদের জন্য একটি টেকসই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে প্রবর্তনের কাজ এ অর্থবছরেই শুরু হবে।


আরো সংবাদ