২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টের স্বর্ণ নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ

-

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টের স্বর্ণ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। যদিও কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্ণর ফজলে কবির বলেছেন, ভল্টে থাকা স্বর্ণের হেরফের হয়নি। হিসেবে কিছুটা গরমিল হয়েছে। মিডিয়াতে এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত খবর ছাপানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এদিকে বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটি সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি নিয়ে কমিটিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বই-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে যেতে পারেন কিন্তু সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আসেন না। এটা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিটি সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, ফরহাদ হোসেন ও শওকত চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টের স্বর্ণ নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা ছিল না। তবে বিবিধ আলোচ্যসূচীতে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ভল্টে স্বর্ণ ঠিক আছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর-এর মধ্যে কিছু একটা ঝামেলা আছে। আমরা এনবিআরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে যাই হোক ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সাবধান হওয়া উচিত। তারা যেটাই দাবি করুক এ ধরণের তথ্য গণমাধ্যমে কেন আসল? এতে দেশে যেমন ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই আগামীতে আরো সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে সংসদীয় কমিটিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনভাবেই ভোল্টের সোনা গায়েব হওয়ার সুযোগ নেই। কেননা সেখানে ৪২টি সিসি ক্যামেরা আছে। তাছাড়া ১৮ ইঞ্চির দু’টি চাবি আছে। সেই চাবি দিয়ে ছয় জায়গায় খুলে তারপর ভোল্টে যেতে হয়। কাজেই কোনভাবেই এটা সম্ভব নয়। তাদের দাবি আধুনিক মেশিনের কারণে কষ্টি পাথরের হিসেবের সঙ্গে ৪ শতাংশের পার্থক্য হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কাস্টমারদের এনে দেখিয়েছে, কাষ্টমাররা বলেছেন- তারা যেটা রেখেছিল সেটা ঠিক আছে।

রাজস্ব আয় সর্বনিম্ন
জিডিপি’র অনুপাতে মোট রাজস্ব আহরণ দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সর্বনি¤œ পর্যায়ে। এ বিষয়ে বিগত ১০ বছরেও কোন উন্নতি হয়নি। বৈঠকে উত্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিগত দশ বছরে দেশে জিডিপি অনুপাতে রাজস্ব আহরণ গড়ে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। যা পার্শবর্তী দেশ ভারতে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এমনকি নেপালে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। উন্নত অর্থনীতির দেশে জিডিপি অনুপাতে রাজস্ব আহরণ গড়ে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
কমিটি সূত্র জানায়, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মনে করে সংসদীয় কমিটি। কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান সংসদীয় কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। অন্যান্য দেশের রাজস্ব আয় সংগ্রহ পদ্ধতি থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজনে পাইলট প্রজেক্ট হাতে নিয়ে ভ্যাট ও ট্যাক্সের আওতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। রাজস্ব আহরণ কম হওয়ার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, অর্থ সচিবও এনবিআরের যুক্তি শুনতে নারাজ। তিনি বলেছেন, এসব যুক্তি দিয়ে লাভ হবে না। রাজস্ব বাড়াতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে আগামীতে গ্রাম থেকে শুরু করে রাজধানীসহ সর্বত্র একটা সার্ভে করে কার কত আয়, কোন এলাকার দোকানে কি পরিমাণ রাজস্ব আছে সেটা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ট্যাক্স নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক ঋণের সুদ
ব্যাংক ঋণের ওপর আরোপিত সুদের হার ৯ শতাংশে নিয়ে আসা সংসদীয় কমিটির দীর্ঘ দিনের দাবি। এখনও অনেক ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং হঠাৎ করে কোন কোন ব্যাংক ঋণের সুদ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাংক ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনার সুপারিশ কার্যকর করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে অনেক ব্যাংক তাদের ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে এনেছে। সকলকে আনতে বাধ্য করা হবে।


আরো সংবাদ