১৭ নভেম্বর ২০১৮

সরকারি চাকরিতে তিন লাখ পদ শূন্য

-

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধিনে ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৪৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এই মন্ত্রণালয়ে মোট ৫৮ হাজার ৯৮৯ টি পদ শূন্য রয়েছে। তারমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪১ হাজার ৮৬৯ টি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ৮৩৭টি। এছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৪ হাজার ২৮৩টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, সরকারি অফিসসমূহে শূন্য পদে লোক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এর অধীনে সংস্থার চাহিদার প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ৯ম ও ১০ গ্রেডের (১ম ও ২য় শ্রেণী) শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এছাড়া ১৩-২০ গ্রেডের (৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী) পদে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থার নিয়োগবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থা জনবল নিয়োগ করে থাকে। শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ৩৪ হাজার ৯২৩টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া জননিরাপত্তা বিভাগে ২৮ হাজার ৩৫০ টি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৫ হাজার ৫২৫টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ১৫৫টি, কারিগরি মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৪ হাজার ২৮৩টি পদ খালি রয়েছে। এরকম সবগুলো মন্ত্রণালয়ে কম বেশি পদ খালি রয়েছে। শুণ্য পদ দ্রুত পুরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগকে অনুরোধ জানিয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) তত্বাবধানে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে সাংবিধানিক অনুশাসন অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদে প্রার্থী মনোনয়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেধা ক্রমানুসারে পাঁচ ধরণের কোট পদ্ধতি অনুসরণ সাপেক্ষে চাকরিতে যোগদান করানো হয়। এসব কোটাসমূহের মধ্যে মেধাভিত্তিক (জেলা কোটা বর্হিভূত) ৪৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, মহিলাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫ শতাংশ এবং জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ১০ শতাংশসহ মোট শতভাগ। তবে, প্রাধিকার কোটার অপূরণকৃত ১ শতাংশ কোটা প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করা হয়ে থাকে।

মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ : মৎস্যমন্ত্রী
প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জানান, শুধু খাদ্য নয়, মাছেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা যদি গুণগতমান ঠিক রাখতে পারি তবে চিংড়ি ছাড়াও অন্যান্য মাছ বিদেশে রফতানি করে মৎস্য চাষীরা লাভবান হতে পারবে।
সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৯ হাজার ৭০৬ টন হিমায়িত চিংড়ি রফতানি করে ৪৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। একই অর্থ বছরে রফতানির মাধ্যমে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ২ দশমিক ৩২ শতাংশ।


আরো সংবাদ