২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মাটি খুঁড়তেই গুপ্তধন!

মাটি খুঁড়তেই গুপ্তধন!
গুপ্তধন (প্রতিকী ছবি) - ছবি : সংগৃহীত

'যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই। পাইলেও পাইতে পারো অমূর‌্য রতন।' এই কথার মতো ছাই না উড়ালেও অমূল্য রতন পেয়েছেন কৃষক দম্পতি অ্যাডাম স্টেপলস এবং লিজা গ্রেস। আঙুর বাগানের মাটি খুঁড়ে তারা যা পেলেন, তা সাত রাজার গুপ্তধন বলা যায়। যার মূল্য প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ডলার।

মধ্যবয়সী অ্যাডাম ও স্টেপল ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারেরে বাসিন্দা। উত্তর পূর্ব সমারসেটে এক চাষির বাগানে এই গুপ্তধন পান তারা। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে জমি পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে ধাতুর অস্তিত্ব। খনন করে পাওয়া যায় ২৫৭১টি রুপোর মুদ্রা।

ইতিহাসবিদদের ধারণা, এই মুদ্রাগুলো রাজা দ্বিতীয় হ্যারল্ড এবং উইলিয়ম দ্য কঙ্কারার-এর সমসাময়িক। তারা ছিলেন ভিন্ন যুগের দুই বিজয়ী। রাজা দ্বিতীয় হ্যারল্ড ছিলেন ইংল্যান্ডের শেষ অ্যাংলো স্যাক্সন রাজা। তার সাথেই শেষ হয় অ্যাংলো স্যাক্সন শাসন।

এরপর নর্ম্যান অভিযান। ১০৬৬ খ্রিষ্টাব্দে সেই অভিযানের পরে সিংহাসনে বসেন উইলিয়াম। ১০৬৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইংল্যান্ডের প্রথম নর্ম্যান রাজা। এই দুই যুগের সন্ধিক্ষণের মুদ্রাই উদ্ধার করেছেন অ্যাডাম ও লিজা। মাটির অন্ধকারে থাকার প্রায় হাজার বছর পরে।

গুপ্তধন উদ্ধারের পরে নিয়ম অনুযায়ী তারা যোগাযোগ করেছেন ডার্বিশায়ার কাউন্টির স্থানীয় লিয়াজঁ আধিকারিকের সাথে। তারপর তা পাঠানো হয় ব্রিটিশ মিউজিয়ামে।

এই গুপ্তধন উদ্ধার হয়েছে প্রায় সাত মাস আগে। তারপর এত দিন ধরে তার মূল্যায়ন চলছে। যদি মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ একে দেশের সম্পদ বলে ঘোষণা করেন, তবে উদ্ধারকারীরা তাদের খননের সমমূল্য পাবেন। সেই অর্থের অর্ধেক অবশ্য দিতে হবে জমির মালিককে। অ্যাডাম-লিজা অবশ্য নিশ্চিত, খুব শিগগিরই এই ঘোষণা হয়ে যাবে।

ইউরোপ জুড়ে এখনও আছেন গুপ্তধন সন্ধানী বা ট্রেজার হান্টাররা। অ্যাডামস ও লিজা সে রকমই গুপ্তধন শিকারি। তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন, কারণ উদ্ধার হওয়া মুদ্রাগুলো খুবই ভাল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সংগ্রাহকের কাছে এই মুদ্রা অমূল্য।

ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মুদ্রাগুলোর মধ্যে রাজা দ্বিতীয় হ্যারল্ডের সমসাময়িক মুদ্রাগুলো অনেক বেশি মূল্যবান ও দুর্লভ। প্রাচীন রোমানরা ঈশ্বরের উদ্দেশে পুঁতে রাখতেন সম্পদ। কিন্তু মুদ্রাগবেষকদের ধারণা, এ ক্ষেত্রে তা হয়নি।

ইতিহাসবিদদের মত, ডার্বিশায়ারে উদ্ধার হওয়া মুদ্রা কোনো রাজার ছিল না। বরং ছিল সমাজের অভিজাত কোনো পরিবারের। সম্ভবত সুরক্ষার কারণে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এই সম্পদ। কিন্তু পরে তা আর উদ্ধার হয়নি। যা এখন ভাগ্য ফেরবে অ্যাডাম এবং তার সঙ্গী লিজার।


আরো সংবাদ