১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

রেস্তোরায় ফোন জমা দিলেই ফ্রি খাবার

-

বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতাটা এমন যে, পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হলেও দেখা যায় তারা একে অন্যের সাথে সময় কাটানোর চেয়ে নিজেদের স্মার্ট ফোন বা ট্যাবলেটে মুখ গুঁজে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। তবে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি রেস্তোরা চেইন মানুষের এই প্রবণতা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

রেস্তোরাটির পরীক্ষামূলক এক পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব অভিভাবক দোকানে প্রবেশ করার পর দোকানের কর্মচারীদের হাতে স্মার্ট ফোন বা ট্যাবলেট হস্তান্তর করবে, তাদের সন্তানদের বিনামূল্যে খাবার দেয়া হবে।

'ফ্র্যাঙ্কি অ্যান্ড বেনি'জ' নামের ওই রেস্তোরা বলছে, গবেষণা অনুযায়ী, শিশুরা চায় তাদের অভিভাবকরা যেন নিজেদের ফোনের পেছনে কম সময় ব্যয় করে তাদের দিকে বেশি সময় দেয়।

আরো বলা হয় যে, প্রায় ১০% শিশু কোনো না কোনো সময় তাদের অভিভাবকদের ফোন লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে যেন তাদের অভিভাবকরা তাদের দিকে মনোনিবেশ করে।

আর প্রায় ২০% শিশুর ধারণা, তাদের অভিভাবকরা তাদের সাথে গল্প করার চেয়ে নিজেদের স্মার্ট ফোনের পেছনে সময় ব্যয় করতে বেশি পছন্দ করে।

অভিভাবকদের প্রায় এক চতুর্থাংশ স্বীকার করেন যে, পরিবারের সবাই মিলে খাবার সময় তারা নিজেদের ফোনের পেছনে সময় ব্যয় করেন।

এদের মধ্যে ২৩% নিজেদের ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন যখন তাদের সন্তান দিনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করছিল।

'ফ্র্যাঙ্কি অ্যান্ড বেনি'জ' রেস্তোরা চেইনের পৃষ্ঠপোষকতায় করা এই জরিপটি ১৫০০ অভিভাবক ও শিশুকে প্রশ্ন করেছিল।

'নো ফোন জোন' নামক প্রচারণাটি চালানোর সময় রেস্তোরাটি প্রতিটি পরিবারকে একটি বাক্স দেবে যেখানে তারা তাদের ফোন রাখতে পারবেন।

এই উদ্যোগে জোরপূর্বক কাউকে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না; তবে রেস্তোরার কর্মচারীরা অতিথিদের এই উদ্যোগে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

যুক্তরাজ্যে ২৫০টি শাখা রয়েছে রেস্তোরা চেইনটির। তারা জানিয়েছে, তাদের এই প্রকল্প সফলতা পেলে নিয়মিত ভিত্তিতে নিজেদের সবগুলো রেস্তোরায় তারা এই ধরণের উদ্যোগ নেবে।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে মানুষ।

টুইটারে কিছু মানুষ এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার এর সমালোচনাও করেছেন অনেকে।

একজন মন্তব্য করেছেন, "চমৎকার অভিপ্রায়, কিন্তু পরিবারের সদস্যরা কি জানেন যে একসাথে খেতে বসলে নিজেদের মধ্যে কী বিষয়ে কথা বলতে হয়?"


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma