১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে সৌদি রাজকন্যার ১০ লাখ ডলারের হার চুরি, তোলপাড়

ধনকুবের খালিফা বিন ভুট্টি আল-মুহাইরাকে বিয়ে করেছেন সৌদি রাজকন্যা আমিরা আল-তাওয়েল - সংগৃহিত

গত মাসে বিশ্বের সবচেয়ে রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়ে গেছে 'সিটি অব লাভ' প্যারিসে। বলুন তো সেটি কার বিয়ে ছিল? সৌদি রাজকন্যা আমিরা আল-তাওয়েলের বিয়ে। ৯ সেপ্টেম্বর সৌদি ধনকুবের খালিফা বিন ভুট্টি আল-মুহাইরাকে বিয়ে করেছেন তিনি। জনপ্রিয় উপস্থাপিকা অপরা উইফ্রের মতো অনেক নামকরা ব্যক্তিত্বকে এই বিয়েতে অতিথি করা হয়েছিল। কিন্তু জাকজমক এই বিয়ে কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে কারণ কনের বিয়ের দামী হারটি যে চুরি হয়ে গেছে!

বিয়ের অতিথিরা

 

হ্যাঁ, ১০ লাখ ডলারের হারটি সুকৌশলে নিয়ে চম্পট দিয়েছে অভিজ্ঞ চোর। কারণ চুরির কোনো প্রমাণ রেখে যায়নি সে। রাজকন্যার রিটজ স্যুইট থেকেই সেটি চুরি হয়েছে। বিয়ের তিন দিন পর হারটি চুরি হয়ে যায়।

এই চুরির তদন্ত চলছে। পুলিশের ভাষ্য মতে, কোনো কিছু ভেঙ্গে হারটি চুরি করা হয়নি।

এখানেই আয়োজন হয়েছে বিয়ের

 

তবে রিটজ প্যারিস নামের যে স্যুইট থেকে হারটি চুরি হয়েছে, এর কর্তৃপক্ষ এখনো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা দুর করতে অনন্য উদ্যোগ

সান ডিয়েগো ইউনিয়ন ট্রিবিউন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে বিভিন্ন ধর্মের উপর সত্যিকারের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রামোনা লাইব্রেরী কমিউনিটি। আর তারা ‘উই লাভ আওয়ার নেইবরস প্রজেক্ট’ নামের একটি উদ্যোগের মাধ্যমে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

চলতি বছরের আগস্ট মাসের ৩০ তারিখে রামোনা লাইব্রেরী কমিউনিটি এর হল রুমে অন্তত ৬০ জন সদস্য অংশ গ্রহণ করেন। তারা সেখানে ইসলাম ধর্ম এবং এর অনুসারী মুসলিমদেরকে নিয়ে বিশ্ব ছড়িয়ে থাকা অনেক ভুল ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

হেলেন হিলিক্স নামের একজন মানসিক স্বাস্থ্যবিদ জানান, তিনি বিশ্বাস করেন নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষের চিন্তা চেতনা বদলে দেয়া যায়। তারা তখন সত্য আর মিথ্যার মধ্যকার বিভেদ সম্পর্কে বুঝতে পারে।

‘আমাদেরকে অবশ্যই ইসলাম সম্পর্কে ছড়িয়ে থাকা ভুল এবং মিথ্যের অবসান ঘটাতে হবে। অন্যথায় আমরা প্রতিনিয়ত যে শান্তি খুঁজে চলেছি তা আমাদের কাছে ধরা দিবে না।’

রামোনা লাইব্রেরী কমিউনিটি এর বৈঠকে তিনজন আলোচক ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস এবং এর আচার অনুষ্ঠানগুলো তুলে ধরেনঃ

আজিজ পুরমুল নামের আলোচক যিনি অর্থনীতির উপর স্নাতক এবং জনপ্রশাসনের উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ‘উই লাভ আওয়ার নেইবরস প্রজেক্ট’ এর প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি বলেন, ইসলামিক আচার-আচরণের চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে চাই এবং এভাবে আমরা তাদের সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি আমাদের বৈচিত্র্যের ব্যাখ্যা দিতে কাউকে ধর্মান্তরিত করতে নয়।’

তিনি ইসলামী বিশ্বাস এবং ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের প্রতি আলোকপাত করেন। তিনি তার আলোচনায় পবিত্র কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ইসলাম হচ্ছে একটি শান্তির ধর্ম এবং এর অনুসারীরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে। মুসলিমরা বিশ্বাস করে মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত দূত।’

আরাওয়া আলখাওয়াজা নামের অপর আলোচক যিনি রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার আলোচনার বিষয় ছিলো-‘ইসলামে নারীদের ভূমিকা’। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকাকালীন এ বিষয়ে অন্তত ১০০টির অধিক বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামিক আইনে নারীরা তাদের পিতা বা স্বামীর ইচ্ছার প্রতিফলনের জন্য হিজাব পরিধান করেন না বরং তারা হিজাব পরিধান করেন আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানানোর জন্য। পবিত্র কুরআনে নারী এবং পুরুষদেরকে সমান অধিকার দেয়া হয়েছে।’

তেহসিন লাজ্জোউনি নামের অপর আলোচক যিনি তেহসীন ইসলামিক স্পীকারস ব্যুরো অফ সান দিয়েগো (আইএসবি) এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তিনি স্থানীয় জনগণের নিকটে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০০০ সালে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তেহসিন সান ডিয়েগো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল-‘ইসলাম এবং শান্তি’। তিনি ব্যক্তিগত এবং জাতীয় দিক থেকে ইসলাম ধর্মের শান্তির বাণী তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামের অর্থই হচ্ছে শান্তি। যেকোনো ধরনের সংঘাতে জড়ানো ইসলামী মূল্যবোধের বিরোধী। ব্যক্তিগত আত্মরক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাড়া অন্যকিছুর জন্য যুদ্ধ করার অনুমতি ইসলামে নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে আমরা জিহাদ বলতে বুঝি অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আসলে জিহাদের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ‘নিজের কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা’।’

অপর একজন আলোচক ছিলেন ফাদার পিটার সিকেলেস। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো রাজ্যে একটি চার্চের পরিচালক। তিনি আগত অতিথিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ইসলাম হচ্ছে একটি ধর্ম, এটি কোনো বর্ণবাদ নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘খ্রিস্টান, ইহুদী এবং মুসলিমরা একই সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন যদিও তারা আলাদা আলাদা আসমানি কিতাবের অনুসরণ করে। পবিত্র কুরআনে মাতা মেরী এবং যিশু সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া হয়েছে। অপরের সাথে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার সবচাইতে উত্তম পন্থা হচ্ছে একে অন্যের গৃহে সফর করা।’ 

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের করা প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়। সেখানে ফাদার পিটার সিকে-লেস বলেন, ‘ ইসলাম হচ্ছে একটি ধর্ম এটি কোনো বর্ণবাদ নয়।’

যেকোনো ধরনের সংঘাত ইসলামী বিশ্বাসের বিপরীত। ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। শান্তিই হচ্ছে ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ। ইসলামের নামে যেমন সংঘাত ছড়ানো হয় তেমনি খ্রিস্টানিটির নামেও সংঘাত ছড়ানো হয়ে থাকে। এসব সংঘাতের পেছনে মূলত সংস্কৃতিগত প্রভাব বেশি কাজ করে ধর্ম নয়।

বেশীরভাগ মুসলিম শান্তিতে বিশ্বাস করে। আলোচকরা অতিথিদের বলেন, ‘কিছু বিপথগামী লোকের আচরণ দ্বারা পুরো মুসলিম জাতিকে যেন খারাপ চোখে দেখা না হয়।জিহাদের মূল অর্থের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়ে থাকে। জিহাদ অর্থ অ-মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নয় বরং নিজের কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।

মুসলিম নারীরা হিজাব পরিধান করে ইসলামের প্রতি তাদের ভালোবাসার কারণে। তারা এটি বাধ্য হয়ে পরিধান করে না। পবিত্র কুরআনে যিশু এবং মেরীসহ খ্রিষ্টান ধর্মের অনেক নবী-রাসূলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষা নেওয়া ইসলামের অন্যতম অঙ্গ।ইসলাম সম্পর্কে যেসব ভুল ধারণা ছড়িয়ে আছে তা দুর করার জন্য মুসলিমদের সাথে সাথে অ-মুসলিমদেরও এগিয়ে আসতে হবে।


আরো সংবাদ




Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme