২০ এপ্রিল ২০১৯

এই লড়াইয়ের রেফারি তিনি!

দু'জনের মাঝামাঝি বসে লড়াই দেখছে, যেন কোনো বক্সিং ম্যাচের রেফারি - সংগৃহীত

দিগন্ত বিস্তৃত খোলা মাঠ। হু হু বাতাস বইছে। অসাধারণ কিছু ফ্রেমে বন্দি করার জন্য সেখোনে ক্যামেরা তাক করে বসে ছিলেন অ্যান্ড্রু শ। পেশায় ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার। 'সবুরে মেওয়া ফলে' - এ কথাই সত্যি হলো। সেখানে হাজির হলো তিন খরগোশ। এদের মধ্যে দু'জন একটু বেশি চঞ্চল। আর একজন একটু গম্ভীর। চঞ্চল দুই খরগোশ এসেই খেলা শুরু করে দিলো। হঠাৎ তাদের মধ্যে লড়াই বেধে গেলো। সে কী লড়াই! কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। ওই গম্ভীর খরগোশটা কী করছে? সে দু'জনের মাঝামাঝি বসে লড়াই দেখছে, যেন কোনো বক্সিং ম্যাচের রেফারি!

আর এ মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করে ফেললেন ৬২ বছর বয়সী অভিজ্ঞ অ্যান্ড্রু শ। ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ শায়ার থেকে ছবিটি তিনি তুলেছেন ৩০ জুলাই।

hare-4

এই অভিজ্ঞতা নিজের মুখেই বয়ান করলেন অ্যান্ড্রু, 'আমার যতটুকু মনে হয়েছে, চঞ্চল খরগোশ দুটি থেকে গম্ভীর খরগোশটি বয়সে বড়। প্রথমদিকে ছোট দুই খরগোশ খেলছিল। হঠাৎ একজন আরেকজনকে গুঁতো দিতেই বাধে গণ্ডগোল।'

hare-5

''দুই জনের মধ্যে লড়াই বেধে গেলে গম্ভীর খরগোশটি রেফারির মতো আচরণ করতে থাকে। যেন কোনো বক্সিং ম্যাচ। তাতে রেফারির মতো তিনি যেন বলছেন, 'উ হু..বাচ্চারা, সুন্দর করে খেলো।''

 

আরো পড়ুন : ফরাসি পেঁচার খোঁজে গুপ্তধন সন্ধানীরা

বিবিসি
 
আসল পেঁচাটি তৈরি হয়েছে সোনা এবং রূপা দিয়ে, কিন্তু সেটিকে পেতে হলে ব্রোঞ্জের পেঁচাটিকে আগে খুঁজে বের করতে হবে
ফ্রান্সের কোথাও ব্রোঞ্জের তৈরি একটি উড়ন্ত পেঁচার মূর্তি লুকানো আছে। যে এটিকে খুঁজে পাবেন, তিনি যে তখন সোনা ও রূপা দিয়ে তৈরি পেঁচার আসল ভাস্কর্যটি উপহার হিসাবে পাবেন তাই নয়, তিনি পাবেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান করা গুপ্তধনের খোঁজ।

কারণ এই গুপ্তধনটি খোঁজা হচ্ছে গত ২৫ বছর ধরে। আসল পেঁচাটি তৈরি হয়েছে সোনা এবং রূপা দিয়ে, কিন্তু সেটিকে পেতে হলে ব্রোঞ্জের পেঁচাটিকে আগে খুঁজে বের করতে হবে।


এই গুপ্তধনের বিষয়ে প্রথম একটি বই প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। 'সোনালি পেঁচার খোজে' নামে ওই বইতে গুপ্তধনের বিষয়ে কিছু সূত্র দেয়া হয়েছে। এর কিছু দিন আগে বইটির লেখক ম্যাক্স ভ্যালেন্টিন ওই সোনার ভাস্কর্যটি ফ্রান্সের কোনো এক স্থানে লুকিয়ে রাখেন।

সেই সময় ব্রিটেনের সবচেয়ে বিক্রি হওয়া বই ছিল 'ম্যাসকিউরেড'-যেখানে একটি সোনার খরগোশ খুঁজে বের করার বেশ কিছু জটিল ধাঁধা তৈরি করেছিলেন শিল্পী কিট উইলিয়ামস।

কিন্তু এ ধরণের সব ধাঁধার শেষপর্যন্ত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। কিন্তু ফরাসি এই বইয়ে উল্লেখ করা পেঁচার রহস্য এখনো বের হয়নি। পঁচিশ বছর পরেও শত শত মানুষ সেই গুপ্তধন খুঁজে বেড়াচ্ছে।

এখন সেসব রহস্য নিয়ে ইন্টারনেটে বিশেষ ফোরাম তৈরি হয়েছে, যারা নিয়মিত আলোচনার বাইরেও প্রতিবছর বিশেষ সভায় মিলিত হন। এমনকি ফ্রান্সের আদালতে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীদের স্বার্থ দেখভাল করার জন্য একটি সমিতিও তৈরি হয়েছে।

এটুকো নামের ওই সমিতির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পিয়েরে ব্লোউচ বলছেন, ''১৯৯৩ সালের অগাস্ট মাস থেকে আমি এই গুপ্তধন খুঁজছি।''

অন্যদের মতো ব্লোউচেরও এই গুপ্তধনের বিষয়ে নিজস্ব কিছু মতামত আছে। সেই ধারণা অনুযায়ী বোর্গেস শহরের আশেপাশের অনেক জায়গায় তিনি খোঁড়াখুঁড়িও করেছেন।

অবসরপ্রাপ্ত এই প্রকৌশলী এখন অনলাইন সাহিত্য নিয়ে সময় কাটান। তিনি আশা করছেন, গুপ্তধন উদ্ধারে খুব তাড়াতাড়ি নতুন কোনো ধারণা খুঁজে পাবেন। তবে এই ধাঁধার রহস্য বের করতে হলে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, কল্পনাশক্তি আর কিছু সংকেত জানতে হবে।

বইয়ের ১১টি ধাঁধার ভেতর গুপ্তধনের আসল সন্ধান রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই ধাঁধা অনুসরণ করে প্রথমে ফ্রান্সের একটি শহর সনাক্ত করতে হবে। আরো ১২টি ধাঁধার রহস্য উদ্ধার করে সেই শহরের ভেতর লুকানো গুপ্তধনটির স্থান সনাক্ত করা যাবে।

ইন্টারনেটে এ নিয়ে অনেক ধাঁধা এবং তার সম্ভাব্য সমাধান রয়েছে। সেগুলো নিয়ে অনেক তর্কবিতর্ক হচ্ছে, কিন্তু এখনো আসল গুপ্তধনের খোঁজ মেলেনি।

বইটি লেখার পর ভ্যালেন্টিন বেশ কিছুদিন একটি চ্যাট লাইন চালাতেন, যেখানে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীরা তাকে প্রশ্ন করতে পারতেন। এখন তার সেইসব উত্তর একত্রে ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোকে এই গুপ্তধন খোঁজার একটি তথ্যাগার বলে মনে করা হচ্ছে।

পেঁচাটি কি কখনো খুঁজে পাওয়া যাবে?

ভ্যালেন্টিন এখন আর এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য বেঁচে নেই। নয় বছর আগে তিনি মারা যান। তবে তার গুপ্তধনের রহস্য একটি চিঠিতে লিখে মুখবন্ধ খামের ভেতর রেখে গেছেন, যা এখন তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।

এই রহস্যের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন শিল্পী মিচেল বেকার, যিনি বইয়ের ভেতরের অঙ্কন এবং পেঁচাটির ভাস্কর্য তৈরি করেছেন।

লুকিয়ে রাখা ব্রোঞ্জের পেঁচাটি সত্যিকারের সোনার পেঁচার একটি নকল। আসল পেঁচাটি রয়েছে বেকারের হেফাজতে। চার বছর আগে তিনি সেটি বিক্রি করার চেষ্টা করলে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীদের বাধার মুখে পড়েন। আদালত সেই বিক্রি নিষিদ্ধ করে আদেশ দেন, তিনি এটি বিক্রি করতে পারবেন না, কারণ এটি ভবিষ্যতের গুপ্তধন বিজয়ীর প্রাপ্য।

যদিও বইটি লেখা ও সাজাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মিচেল বেকার, কিন্তু তিনি নিজেও জানেন না, ব্রোঞ্জের পেঁচাটি কোথায় লুকানো রয়েছে।

সুতরাং, এখন জীবিত এমন কেউ নেই, যিনি জানেন কোথায় রয়েছে সেই উড়ন্ত পেঁচা।

অনেকে আশঙ্কা করতে শুরু করেছেন, এই গুপ্তধনের সন্ধান আর কখনো পাওয়া যাবে না। কারণ ওই স্থানটির ওপর হয়তো কোনো কিছু তৈরি হয়েছে। অথবা এসব সূত্র সমাধানের যোগ্য নয়। হয়তো প্রথম থেকেই এটি একটি মজা ছিল।

তবে সত্যিকারের অনুসন্ধানকারীরা ভ্যালেন্টিনের কাছ থেকে এখনো আসল প্রেরণা গ্রহণ করেন। কারণ তিনি বলেছিলেন, ''যদি সকল অনুসন্ধানকারী তাদের সব জ্ঞান একত্র করেন,.... তাহলে পেঁচাটিকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে।''

দেখুন:

আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al