১৭ আগস্ট ২০১৮

মায়ের আদর পেতেই প্রাণ ফিরে পায় হরিণ শাবক (ভিডিও)

হরিণ শাবক
নিস্তেজ সন্তানের গায়ে আদর করছে মা - সংগৃহীত

মায়ের কোলই সন্তানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সব বিপদ থেকে সন্তানকে বুকে আগলে রাখেন মা। আর মায়ের ছোঁয়া পেতেই সব ভয়-ডর উবে যায় সন্তানের। মানব সন্তানের মতো প্রাণীদের বেলায়ও একই রকম। সন্তানের যেকোনো বিপদ সবার আগে আঁচ করতে পারেন মা। আর মাকে ছোঁয়া আর ভালোবাসায় সব বিপদ কাটিয়ে উঠে সন্তান। এমনটাই দেখা গেছে, এক হরিণ শাবকের বেলায়। বিপদে ভেঙে পড়েছিল সে। বাঁচার সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল তার। কিন্তু মায়ের ভালোবাসার ছোঁয়া পেতেই প্রাণ খুঁজে পায় সে।

সন্তানকে মাঝ সড়কে পড়ে থাকতে দেখে দুরু দুরু বুকে কাছে আসে মা হরিণ

 

হরিণ শাবক এবং তার মায়ের হৃদয়ছোঁয়া এ মুহূর্তটি ক্যামেরায় বন্দি করেছেন লেসি লারসন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের পোর্ট ওর্চার্ডের এক রাস্তায় এ ঘটনাটি ঘটে। পুরো ঘটনাটি ঘটেছে লারসনের গাড়ির সামনেই। রোববারের এ ঘটনার ভিডিও তিনি তার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। রাতের মধ্যেই সেটি দুই লাখবার দেখা হয়।

 

মায়ের ছোঁয়া পেতেই নড়ে চড়ে উঠে হরিণ শাবক

 

ভিডিওতে দেখা যায়, দুইপাশে ঘন জঙ্গল। মাঝের সড়কটিতে পড়ে আছে মৃতপ্রায় একটি হরিণ শাবক। সন্তানকে মাঝ সড়কে পড়ে থাকতে দেখে দুরু দুরু বুকে কাছে আসে মা। মনে হয়ত তার মনে অজানা শঙ্কা উঁকি দেয়। সন্তানকে মুখ দিয়ে আদর করতে থাকে মা হরিণ। কিন্তু সন্তানকে নিস্তেজ পড়ে থাকতে দেখে আশপাশে তাকাতে থাকে, হয়ত কারো সাহায্য চায় সে। ঠেক সেই মুহূর্তেই নড়ে চড়ে উঠে হরিণ শাবক। খুব কষ্টে পা জোড়ায় ভর দিয়ে দাঁড়ায়। তারপরই মাকে দেখে সটান হয়ে যায় শাবকটি। দ্রুত মায়ের সাথে হেটে হেটে বাড়ি ফিরে যায়।

মায়ের সাথে বাড়ি ফিরছে হরিণ শাবক

 

হরিণ শাবক আর তার মায়ের এই ঘটনা অনেকের মনকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনাটি তুলে আনা সেই লেসি লারসন বলেছেন, 'মাকে দেখেই যেন প্রাণ ফিরে পায় হরিণ শাবকটি।'

দেখুন ভিডিওটি-

 

 

আরো পড়ুন : সিংহ শাবকের কাছ থেকে গুইসাপকে বাঁচালো মহিষ

দারুণ অবিশ্বাস্য রকমের একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। যেখানে একটি মহিষ গুইসাপকে বাঁচানোর জন্য সিংহ শাবককে আক্রমণ করে এবং গুঁতো দিয়ে দূরে ফেলে দেয়। এই চমৎকার ঘটনাটি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশলাল পার্ক-এ ঘুরতে আসা একদল দর্শনার্থীর ক্যামেরা বন্দী হয়। ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায় নদীর তীরের সমতল ভূমিতে একদল সিংহ শাবক একটি গুইসাপের সাথে ধস্তাধস্তি করছে।

ঠিক তখনই দেখা যায় একটি সিংহের বাচ্চা গুইসাপটিকে মুখে তোলে অন্যসব সিংহ শাবক থেকে আলাদা হয়ে চলে যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিলো সিংহটি লম্বা ঘাসের ঝোপের দিকে গুইসাপটিকে খাওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। আর তার পিছু নিয়েছিল আরো একটি সিংহশাবক।

ওই সময় একটি মহিষকে ঘটনাস্থলে আসতে দেখা যায়। মহিষটি সিংহের বাচ্চা দুটিকে আক্রমণ করে। মহিষের গুতো খেয়ে একটি সিংহের বাচ্চা শুন্যে ভাসতে ভাসতে ছিটকে গিয়ে পড়লো। আহত শিকারটিকে এভাবেই সিংহশাবকের কাছ থেকে বাঁচিয়ে দিলো মহিষটি। মহিষের তাড়া খেয়ে সিংহ শাবকের দল তাদের নাজুক অবস্থা বুঝতে পেরে সেই স্থান ত্যাগ করলো। মহিষটি আহত গুইসাপের পাশে দাঁড়ানোর ফলে সরীসৃপটি প্রাণী রক্ষা পেলো।

সুনে এলোফ (৩২), এই ভাগ্যবান প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন যিনি এই ঘটনা সরাসরি দেখেছেন।

তিনি বলেন, আমরা সূর্যাস্তের আগে কিছু ইম্পালা দেখছিলাম, যারা পানি খেতে নদীর তীরে এসেছিলো। আমরা তখন ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম আর দেখলাম যে, কয়েকটি সিংহের বাচ্চা নদীর তীরে শুয়ে আছে। তাদেরকে খুবই শান্ত দেখাচ্ছিলো। তখনই দেখা গেলো তারা নলখাগড়ার ঝোপের ভেতরে ঢুকেছে। আমি আমার ক্যামেরা বের করলাম তখন দেখলাম তারা কিছু একটা দেখছে যেটা আমরা দেখতে পাচ্ছিনা ।

ঐসময়ই একটি সিংহ শাবক নলখাগড়ার ঝোঁপ থেকে একটি গুইসাপকে ধরে নিয়ে এলো। সে এটাকে পানি থেকে ধরে নিয়ে এসেছে। আশেপাশে থাকা কয়েকটি মহিষ লক্ষ করলো যে সিংহের বাচ্চারা একটি গুইসাপকে ধরেছে। এরই মধ্যে একটি মহিষ ঝড়ের বেগে গুইসাপটিকে রক্ষা করতে চলে এলো। দেখে মনে হলো মহিষটি বোধহয় জানে যে গুইসাপটিকে উদ্ধার করা দরকার।  

আমরা হতবাক হয়ে গেলাম এটা দেখে যে, মহিষটি সিংহের বাচ্চাটিকে গুতো দিয়ে শুন্যে উঠিয়ে দিলো আর সিংহের বাচ্চাটি মুহুর্তের মাঝে বাতাসে কয়েকটা পাল্টি খেয়ে দূরে ছিটকে পড়লো।এটা সত্যিই অন্যরকম দৃশ্য ছিল!

ঘটনাটি খুবই উত্তেজনাকর ছিলো। আমার যদিও বাচ্চা সিংহটির জন্য খারাপ লেগেছে। কিন্ত সৌভাগ্যবশত সে বুঝতে পারছিলো যে তাকে এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত। আর সে খুব দ্রুত এই স্থান ত্যাগ করলো। অন্যদিকে তিনটি মহিষ নলখাগড়ার ঝোঁপ থেকে সিংহ শাবকদের তাড়িয়ে দেয়।

এর আগে আমার জীবনে আমি এমন চমৎকার দৃশ্যের সন্মুখীন হইনি। যদিও আমি আমার ২ বছর বয়স থেকে ক্রুগার পার্কে ঘুরতে আসি।

সূত্র: ডেইলি মেইল।


আরো সংবাদ