২১ নভেম্বর ২০১৮
বিএফইউজে-ডিইউজের বিবৃতি

নির্বাচনকালে গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকরে তাড়াহুড়া

-

সাংবাদিক, সম্পাদক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনী ছাড়াই সংসদীয় কমিটিতে চ’ড়ান্ত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র নেতৃবৃন্দ। সংসদের চলতি অধিবেশনে আইনটি পাশ না করে এটি আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং সংশোধনের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, আইনটি চূড়ান্ত করতে এক মাসের সময় নেওয়ার পর দিনই তাড়াহুড়া করে সংসদীয় কমিটিতে চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হচ্ছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি হরণের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। সংসদীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে এবং গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় সম্পাদক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে সব ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন যেসব ধারা বহাল রেখেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। বহুল বিতর্কিত ৩২ ধারাটি তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থী। এছাড়া চ’ড়ান্তকৃত আইনের ৮, ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারা প্রচলিত ফৌজদারি দন্ডবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিষয়গুলোকে এসব ধারায় বিভক্ত করে যেভাবে আরও কঠোর এবং অধিকতর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে তা মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারে সংবিধানিক সুরক্ষার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্যাতন-নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে এটি নির্বিচারে ব্যবহার হওয়ার আশংকা প্রবল।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এ আইন কার্যকর হলে একদিকে প্রয়োগের ক্ষেত্রে অরাজকতা সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হবে। বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ আইনের পাশ ও কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের আহবান জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি


আরো সংবাদ