২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

‘মন্ত্রী আমলা ব্যবসায়ী সব সিণ্ডিকেটের অংশ’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার বিক্ষোভ - নয়া দিগন্ত

সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মন্ত্রী, আমলা, ব্যবসায়ী সব সিণ্ডিকেটের অংশ। সরকারি দলের মাস্তানরা শহর থেকে গ্রামের হাটে-ঘাটেও চাঁদাবাজি করছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও ভেজাল খাদ্য মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে। সরকার যদি কৃষকদের কৃষি কার্ড দিতে পারে তাহলে দরিদ্র স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য পল্লী রেশন কার্ড কেন দিতে পারে না? বাজার নৈরাজ্য বন্ধ করে দেশব্যাপী টিসিবি ও গণবণ্টন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধের দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে বাম নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এদিন।
সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি চর্চার নামে সরকার বাজার নৈরাজ্যকে প্রণোদনা দিচ্ছে। মানুষের আয় বেড়েছে এই যুক্তি দিয়ে বাজারে যে লুট চলছে তাকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী, আমলা, ব্যবসায়ী সব সিণ্ডিকেটের অংশ। সরকারি দলের মাস্তানরা শহর থেকে গ্রামের হাটে, ঘাটে চাঁদাবাজি করছে। তিনি বলেন, বাম বিকল্প শক্তিই পারে বাজার অর্থনীতির বিকল্প অর্থনীতির দিতে।

সমাবেশে সিপিবি সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, দেশে একটি নব্য ধনীকশ্রেণি গড়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের কোন সমস্যা তৈরি করে না বরং তারা লাভবান হয়। এই শ্রেণির মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, ঘুষখোর, মুনাফাখোর রয়েছে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনে আয় বৃদ্ধির তত্ত্ব কোন প্রভাব সৃষ্টি করেনি। তারা রুটি-রুজির সংস্থান করতে প্রতিনিয়ত গলদঘর্ম হন। অথচ সরকার তাদের সংকটের কথা মনে রাখে না। তারা লুটেরা ব্যবসায়ীদের অবাধে লুটের সুযোগ করে দেয়।

বাসদ কেন্দ্রীয় সদস্য বজুলর রশীদ ফিরোজ বলেন, টিসিবি’র মাধ্যমে জনগণকে খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে। মুনাফাখোর, সিণ্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লুটেরা সরকারের কাছে গরিবদের দাবী জানিয়ে কোন লাভ নেই। তিনি দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে পাড়া মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, প্রতি বছর রোজার আগে মন্ত্রীরা ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করেন ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দেন দাম বাড়বে না। সরকার সেটা প্রচারও করেন; কিন্তু দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ে এটা একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme