film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indirEzhel mp3 indir, Ezhel albüm şarkı indir mobilhttps://guncelmp3indir.com Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ

-

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বলতে গেলেই ব্যাংকিং খাতের কথা এসে যায়। কারণ এ দেশের অর্থনীতি মূলত ব্যাংকনির্ভর। ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগের পরিবেশ, তার আদায় পদ্ধতি ও এ খাতের নিয়ম-নীতির সাথে জাতীয় অর্থনীতির চাকারও পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যাত্রা করছে। স্বাধীনতার পর ৪৮ বছরে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের আয় বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা একটি সন্তোষজনক অবস্থানের দিকে এগিয়ে চলে। মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের অর্থনৈতিক যাত্রা। বিশেষ করে গত এক দশক ধরেই দেশে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। সর্বশেষ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নামেনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল, তদানীন্তন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার আর্থসামাজিক বৈষম্য। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বঞ্চনার কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়। তবে আমরা এখন মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৬৫২ ডলার। অন্যদিকে, ওই বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৭৫১ ডলার। এটা সামষ্টিক অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় ভালো। তবে অতি সম্প্রতি অর্থনৈতিক সূচকগুলোর অনেকগুলোরই অবনতি ঘটছে। যেমন, রেমিট্যান্সে ধস নেমেছে, রফতানি আয় কমে এসেছে; তৈরী পোশাক, কৃষিজাত প্রক্রিয়া খাত, পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমে গেছে (সূত্র : রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো)। এ অবস্থা থেকে আমাদের বের হতে হবে অবিলম্বে। আমাদের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চমাত্রায় খেলাপি ঋণ রয়েছে। এদিকে প্রবৃদ্ধি বেড়েই চলেছে। যেসব খাতে খেলাপি ঋণ বেশি, সেসব খাতেই জিডিপি বাড়ছে। উৎপাদন বা সেবা খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায় মন্দার কারণে, ব্যবসায়ীদের লোকসানের কারণে অনেক সময় তারা ঋণ ফেরত দিতে পারেন না, ফলে বেড়ে যায় খেলাপি ঋণ। কিন্তু প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি দেখে মনে হচ্ছে, তা ইচ্ছে করে ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না। ফলে বারবার পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা দিয়েও কার্যত লাভ হচ্ছে না। দেশের সব ক’টি ব্যাংকের মোট মূলধন ৯২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। কিন্তু খোলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র পাঁচ বছরেই ৯০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে ২৩ হাজার ২১০ কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা হয়েছে ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসেই ২১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। ঋণ আদায়ের বিষয়ে জোর না দিয়ে পুনঃতফসিলপ্রক্রিয়াকে সহজ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৯ শতাংশ সুদ ও এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে ২০১৯ সালের ১৬ মে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ পুনঃতফসিল করার সুবিধা নিয়ে হাইকোর্টে রিটও করা হয়। রিট নিষ্পত্তির রায়ে বলা হলো, বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সময়সীমা বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে সর্বোচ্চ ৯০ দিন বাড়াতে পারবে। তবে এর আওতায় যারা পুনঃতফসিল করবেন, তাদের নতুন ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে ২০১২ সালের জারি হওয়া ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত মূল প্রজ্ঞপনের বিধিনিষেধ অনুসরণ করতে হবে। এদিকে খেলাপি ঋণ অবলোপনের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে, অর্থাৎ খেলাপি অবস্থা থাকার পাঁচ বছরের আগেই ঋণ অবলোপন করা যাবে- মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতসব বাড়তি সুবিধা প্রদান করা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ কমছে না। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশির ভাগ ব্যাংক আমানতকারী ও গ্রাহকদের সাশ্রয়ী সুবিধা না দিয়ে, বরং বড় ঋণগ্রহীতা এবং বড় গ্রাহকদের প্রতি বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্য কাজ করছে।

ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা, খেলাপি ঋণের ক্রমাগত বৃদ্ধি ও এই সেক্টরের নানা অনিয়ম বন্ধ করা না গেলে উৎপাদনশীল খাতসহ অর্থনীতির অন্যান্য খাত ক্রমান্বয়ে রুগ্ণ হয়ে পড়বে। কারণ ব্যাংক হলো- ‘উৎপাদন ও উন্নয়নের মধ্যস্থতাকারী’। এ খাতের সঙ্কট অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে সহজেই।

ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন এবং খেলাপি ঋণের ক্রমাগত বৃদ্ধি থেকে মুক্তির জন্য প্রথমত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং ব্যাংকিং সেক্টরের যে নীতি, বিধি ও প্রজ্ঞাপন রয়েছে তা সঠিকভাবে পরিপালন করা হলে এ খাতের যে সমস্যা তা দূর হতে বাধ্য। খেলাপি ঋণের বিষয়ে অনেকে আলোচনা করছেন, পত্রপত্রিকায় সমালোচনাও করা হচ্ছে, কিন্তু এ থেকে উত্তরণের পথ কী হতে পারে, কিভাবে দেশের অর্থনীতিকে আমরা সুষম ও টেকসই করতে পারি- সে বিষয়ে ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এজন্য সর্বপ্রথম আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন দরকার। সমস্যা কারা তৈরি করছে, কিভাবে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এসবই ব্যাংকিং সেক্টরের অভিজ্ঞজনরা জানেন, রাজনীতিবিদরাও কম জানেন না। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায়, ব্যাংক আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থ রক্ষার্থে, সর্বোপরি দেশের আর্থসামাজিক উন্নতিকল্পে নিরপেক্ষভাবে ব্যাংকিং নীতিমালাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন করা হলে খেলাপি ঋণের কু-প্রভাব থেকে সেক্টরটি মুক্ত হতে পারে।

এজন্য প্রথমত, ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগের আগে ব্যাংকারদেরকে পর্যাপ্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, খেলাপি ঋণ গ্রাহকদের সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি উপযুক্ত শাস্তিরও ব্যবস্থা করতে হবে। ভালো গ্রাহকদের উৎসাহ দিতে হবে এবং তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিতে হবে। অর্থঋণ আদালতকে অর্থবহ করতে হবে- যাতে কম সময়ে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয় এবং খেলাপি গ্রাহকরা দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে যাওয়া কিংবা উচ্চ আদালতে গিয়ে সময়ক্ষেপণ করার সুযোগ না পান। ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সর্বশেষ প্রণীত ICRRS (ইন্টারনাল ক্রেডিড রিস্ক রেটিং সিস্টেম) মেনে চলা জরুরি। বিশ্বাসযোগ্য একটি রেগুলেটরি অবস্থান দিতে হবে। যারা সুবিধা নিয়েও বারবার খেলাপি হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে হতে হবে আরো কঠোর।

লেখক : সাবেক কলেজ শিক্ষক
ই-মেইল: [email protected]


আরো সংবাদ