film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indirEzhel mp3 indir, Ezhel albüm şarkı indir mobilhttps://guncelmp3indir.com Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নিরাপত্তাহীন নারী

-

সেবার মহান ব্রত নিয়ে যেসব নারী একত্র হয়েছেন ঢাকা নার্সিং কলেজে, ফাতেমা তাদেরই একজন। দেখতে দেখতে পেরিয়ে যায় প্রশিক্ষণের সময়। তারও সমাপ্ত হয় প্রশিক্ষণ, স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যান একধাপ। চাকরির দৌড়ে টিকেও যান ফাতেমা। কর্মস্থল ইবনে সিনা হাসপাতাল। ভালোই কাটছিল তার দিন। কেটে যায় বেশ কয়েক মাস। তীব্রভাবে অনুভব করেন নাড়ির টান। বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবা, ছোট ভাইবোন সবাই অপেক্ষা করছে তার জন্য। ছুটি নিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ান ফাতেমা।

সন্ধ্যায় নৈশকোচে বাড়িতে আসছেন ফোনে জানিয়ে দেন সেই সংবাদ। ছোট ভাই আরিফ রাত ১০টায় উপস্থিত থাকবেন বাস কাউন্টারে। ঢাকার পর আর তেমন যানজট দেখা যায় না এ পথে। বাস যতই এগোচ্ছে, ফাতেমার মনটা কেমন যেন অস্থির হয়ে ওঠে। রাত যতই গভীর হয়, এক এক করে প্রতি স্টেশনে নেমে যান যাত্রীরা। উঠছেন না তেমন, ফাতেমা বুঝতে পারছেন না এমন কেন হচ্ছে, এখন তো তেমন গভীর রাতও নয়। তিনি তো এ পথে আরো চলাচল করেছেন, কখনো তো এমন হয়নি। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তিনি আবিষ্কার করেন বাসজুড়ে ড্রাইভার ও তার দুই সহকারী হেলপার ছাড়া আর কেউ নেই। মাঝখানের দিকে একটি সিটে তিনি একা বসে আছেন। ইতোমধ্যেই একটি স্টপেজে এসে হার্ড ব্রেক ধরে ড্রাইভার। থমকে ওঠেন ফাতেমা। সাথে সাথে বিদঘুটে হাসি হেসে বাসে উঠল দুই যুবক। লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে তাকাল ফাতেমার দিকে। ভেতরটা আঁতকে উঠল, বাস আবার চলতে শুরু করল। তবে এবার বাসটি অন্য একটি পথে বাঁক নিলো। যুবকরা জানালা লাগিয়ে দিচ্ছে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি একটি জনমানবশূন্য নির্জন এলাকায় পৌঁছে ব্রেক করল আর লম্পট হায়েনার তীব্র থাবায় ক্ষতবিক্ষত হলেন ফাতেমা। বাস্তব জীবনের বহু ঘটনারই এর চেয়ে বীভৎস চিত্র ফুটে ওঠে। যদিও কল্পনার চোখে দেখা এ ঘটনার মিল বাস্তবতার সাথে, একীভূত হওয়াটা দুরূহ নয়। কিন্তু নিষ্ঠুর ও নির্মম এ পৃথিবীর বহু বাস্তবতাই কল্পনাকে হার মানায়।

যৌন নিপীড়নের মতো পশুত্বমূলক আচরণ আমাদের সমাজব্যবস্থায় এক মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে আজ আত্মপ্রকাশ করেছে। পরিবেশ পরিস্থিতির নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা যুবসমাজকে নানাভাবে অপকর্মে লিপ্ত করছে। নীচু প্রকৃতির একদল পশু তাদের যৌনক্ষুধা নিবারণে লোভ-লালসার ফাঁদে ফেলে বা জোরপূর্বক গণধর্ষণে হাজারো নারীর জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। ফেসবুক, ইন্টারনেট ব্যবহার করে সহজেই শহর থেকে গ্রামান্তরে বড় থেকে ছোটদের হাতে পৌঁছে নগ্নতা, যার অযাচিত শিকার হয়ে যুবসমাজ নানা অপকর্মে জড়িয়ে সমাজকে কলুষিত করছে। আর তাদের চাহিদা পূরণ পদ্ধতি এতটাই জঘন্য, যা সৃষ্টির সেরা মানবজাতিকে নিকৃষ্ট পশুর স্তরে নামিয়ে দিচ্ছে। বিচারহীনতার নিকৃষ্ট নীতির কারণে অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে সমাজ ব্যবস্থাপনাকে আরো বিষাক্ত করে তুলছে।

সামাজিক এই পুঁতিগন্ধময় দশা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চ সতর্কতা। একজন বাবা যখন তার সন্তানকে পরিপূর্ণরূপে মনুষ্যত্ববোধ, মানবিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে জীবনযাপন শিক্ষা দেবেন, তখন তার থেকে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়া খুবই কঠিন। ঠিক তেমনিভাবে একজন নারী যখন আল্লাহর বিধান মেনে চলবেন, আশা করা যায় তখন তিনি তার সম্ভ্রম রক্ষা করে এই সমাজে সম্মানিত জীবন পরিচালনা করতে পারবেন।

ইসলাম এ কথা কখনো বলে না যে, একজন নারী ঘরে বসে থেকে অজ্ঞ মূর্খ গোয়াররূপে তার জীবন পার করে দেবেন। অবশ্যই ইসলাম নারীশিক্ষাকে সমর্থন করে। সমাজ জীবনে পুরুষের যেমন শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, ঠিক ততটাই প্রয়োজন রয়েছে নারীশিক্ষার। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর পদচারণায় একটি সুস্থ সমাজ গঠনে অতীব প্রয়োজন। তবে অঙ্গনটি হতে হবে নিরাপদ। যেখানে একজন নারীর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, একটি অপরাধ সমাজে সংঘটিত হয়ে তার বিচার পর্যন্তই সীমিত থাকে না, বরং এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ে সমাজে বসবাস করা অন্য ব্যক্তির ওপর। সুতরাং এর ক্ষতিকর প্রভাবে সমাজিক জীবন যেন বিনষ্টের কারণ না হয় এবং সাথে সাথে সমাজ যেন এ ধরনের নোংরামি থেকে মুক্ত থাকে, এ জন্য আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার।

লেখক : শিক্ষার্থী, কওমি মাদরাসা


আরো সংবাদ