০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

২৮ অক্টোবর ও আবরার

আবরার
আবরার - ছবি : সংগ্রহ

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। ওই দিন রাজধানীর পল্টনে নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন ছিল চারদলীয় সরকারের পাঁচ বছরের শাসনের সমাপনী দিন। এ উপলক্ষে পল্টনে একটি সভার আয়োজন করেছিল জোট সরকারের শরিক দল জামায়াতে ইসলামী। এটা বিস্ময়কর যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এত সদস্য থাকতে দিবালোকে রাজপথে নিরপরাধ তরুণদের নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছিল সন্ত্রাসীরা। সেদিন মিডিয়ার বদৌলতে বিশ্ববাসী ওই নির্মম হত্যার ঘটনা অবলোকন করেছেন। মানুষ কত নির্মম হতে পারে; সেদিনের ঘটনা না দেখলে বোধগম্য হওয়ার কথা নয়। পিটিয়ে, খুঁচিয়ে হত্যা করে লাশের ওপর উল্লাস করা যে কী জঘন্য আচরণ, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মানুষ নামের হিংস্র প্রাণীর পক্ষেই কেবল এমন কাজ করা সম্ভব। মূলত ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডবে ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের বিশেষ চিত্রনাট্য ছিল সম্পৃক্ত।

দলীয় সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। দলীয় স্বার্থেই সেদিন হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটিত হয়। ২৮ অক্টোবর হত্যার নির্দেশ কারা দিয়েছিলেন, তার প্রমাণ মিডিয়ার কাছে এখনো রয়েছে। তবে এর বিচার হয়নি। ২৮ অক্টোবরের রক্তাক্ত উপাখ্যান দেশপ্রেমিক কারো পক্ষে কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। একদিন না একদিন এর সুষ্ঠু বিচার হবে বলে দেশবাসী আশাবাদী। যেসব ঘাতক নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল সেদিন, তাদের উত্তরসূরিরাই বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে হত্যা করেছে। এরা সবাই একই রাজনীতির অনুসারী এবং একই চরিত্রের ও একই দলের। ২৮ অক্টোবরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হলে আজ আবরারকে এভাবে হয়তো জীবন দিতে হতো না।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রতিবেশী ভারতের স্বার্থ রক্ষায় লিপ্ত বলে জনগণ মনে করছে। দেশের কিছু মিডিয়া প্রতিবেশী দেশটির আগ্রাসনের ইস্যুকে চেপে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু আবরার শহীদ হওয়ার পর নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সেই নীতি আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। ‘দলকানা’ মিডিয়াও বলতে বাধ্য হচ্ছে, আবরারের মতামত দেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান। এটি সহ্য করতে পারেনি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা। বর্তমান সরকারের শাসনামলে ১১ বছরে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। ক্ষমতসীন দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে তারা হত্যার শিকার বহু লোক। হাজারো মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। গুম হয়েছেন অনেকে। ভিন্নমতাবলম্বী হাজারো মানুষ কর্মচ্যুত। অসংখ্য মানুষ কারাগারে আটক।

এদিকে মদ, জুয়ার বিস্তার ঘটেছে দেশে। আর শুদ্ধি অভিযানে দেখা যাচ্ছে, এসব অনৈতিক ও অপকর্মের সাথে জড়িত প্রধানত আওয়ামী লীগের ও এর অঙ্গ বা সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik