১৯ অক্টোবর ২০১৯

কে হবেন কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

-

আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনী আগামী ২১ অক্টোবর কানাডায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনী হাওয়া এখন সর্বত্রই। সবার মুখে মুখে একই প্রশ্ন- কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, কোন দল গঠন করবে সরকার?

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা ছয় সপ্তাহব্যাপী প্রচার অভিযান শুরুর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর, বুধবার গভর্নর জেনারেল জুলি প্যায়েতের সাথে সাক্ষাতের পর তিনি এ ঘোষণা দেন। এক বক্তব্যে তিনি ট্রুডো বলেন, নির্বাচনী আগামী ২১ অক্টোবর কানাডায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চার বছর ধরে আমরা অনেক কাজ করেছি। যদিও সত্যি কথা হলো, আমরা সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছি। আগের কনজারভেটিভ সরকারের সঙ্কোচন ও ছাঁটাইয়ের ব্যর্থ নীতিতে ফিরতে চান কি না; কানাডার জনগণ এবার তা-ই ঠিক করবেন। তবে আমার বিশ্বাস দেশবাসী আমাদের অবদান সব সময়ই মনে রাখবেন। আর যার প্রতিক্রিয়া নির্বাচনের মাধ্যমে জানা যাবে।

কানাডার জনগণকে সোনালি সুদিনের স্বপ্ন দেখিয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি। ট্রুডোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল, অভিবাসীদের পক্ষে কাজ করা, নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা, সমপ্রেমীদের অধিকার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যুগুলোতে জোর দেবেন। তবে এবার জাস্টিন ট্রুডোকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার জরিপের ফলাফল। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কানাডার উন্নয়নমূলক নীতির জন্য যতই প্রশংসা হোক না কেন, নিজ দেশে একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে ট্রুডোর ভাবমূর্তি বর্তমানে এক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাছাড়া জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ট্রুডা নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টির ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছে প্রতিপক্ষ কনজারভেটিভ পার্টি।

গত ফেডারেল নির্বাচনে করজারভেটিভ পার্টির হেরে যাওয়ার কারণ ছিলও একাধিক। হারপারের দীর্ঘ সময় শাসনে জনগণ পরিবর্তন প্রত্যাশা করছিল। এ ছাড়া অনেক দিন একই দল বা একই ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকলে কিছুটা ‘স্বৈরশাসন’ ভাব চলে আসে। সেজন্য হারপার সরকার বেশ ক’টি ইমিগ্রেশন-বিরোধী বিল পাস করেছিল। তার মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণীর আইন অন্যতম।

অন্য দিকে, কনজারভেটিভ পার্টি কখনোই অভিবাসীবান্ধব রাজনৈতিক দল নয়। কনজারভেটিভ পার্টির শ্বেতাঙ্গ মনোভাব দেশটির অভিবাসী ভোটারদের মধ্যে লিবারেল পার্টির দিকে ঝুঁকতে সাহায্য কররে। ফেডারেল নির্বাচনে যার প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন কানাডার ভোটাররা।

সম্প্রতি লিবারেল পার্টি দেশটির অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে গো-হারা হেরে যায়। শুধু হেরেই যায়নি, সংসদে তৃতীয় দল হওয়ার জন্য আটটি আসন দরকার হয়, তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। ফলে অন্টারিওতে টানা ১৫ বছর পর লিবারেল পার্টির শাসনের অবসান ঘটল। এই পরাজয় থেকে হয়তো লিবারেল শিক্ষা নিয়ে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করবে।

বিগত হারপার সরকারের বেশ কিছু বিতর্কিত বিল যা অভিবাসীবিরোধী ছিল; তা গত নির্বাচনের ফলাফলে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। এটাই লিবারেলদের বেশ এগিয়ে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া কানাডার ইতিহাসে জাস্টিন ট্রুডো অন্যতম মতো জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে বাদ দিলেও জাস্টিনের ব্যক্তিগত গুণাবলিও শুধু কানাডাবাসীদের মধ্যে নয়; বিশ্ববাসীদেরও নজর কেড়েছে। যদিও তার এবং তার সরকারের কিছু কিছু নেতিবাচক বিষয় সর্বমহলে সমালোচিত হচ্ছে।

বিভিন্ন জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই দল কনজারভেটিভ আর লিবারেলের জনপ্রিয়তার দাঁড়িপাল্লা উঠানামা করছে আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনডিপি)। এবারের নির্বাচনে ক্ষামতাসীন লিবারেল পার্টির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, কনজারভেটিভ পার্টির এন্ড্রু শিয়র ও নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এনডিপি) জাগমিত সিংয়ের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

কানাডার বর্তমান সংবিধান ১৯৮২ সালে রচিত হয়। ১৯৮২ সালে জারিকৃত কানাডা অ্যাক্ট অনুসারে, দশটি প্রদেশ এবং তিনটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত কানাডা সংসদীয় গণতন্ত্র এবং আইনগত রাজ্যতন্ত্র উভয়ই মেনে চলে। কানাডা একটি ফেডারেশন; যাতে সংসদীয় গণতন্ত্রভিত্তিক সরকারব্যবস্থা এবং একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রচলিত। রাষ্ট্রের প্রধান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

কানাডার সরকার দুই ভাগে বিভক্ত। কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকার। প্রশাসনিক অঞ্চলগুলোর তুলনায় প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের পরিমাণ বেশি। এ সংবিধানে আগের সাংবিধানিক আদেশগুলো একটিমাত্র কাঠামোয় একত্র করা হয় এবং এতে অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর একটি চার্টার যোগ করা হয়। এই সংবিধানেই প্রথম কানাডার নিজস্ব স্থানীয় সরকারকে তার সংবিধানের ওপর পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়। আগে কানাডা ১৮৬৭ সালে প্রণীত ব্রিটিশ উত্তর আমেরিকা অধ্যাদেশবলে পরিচালিত হতো এবং এতে ও এরপরে প্রণীত আইনগুলো ব্রিটিশ সরকারকে কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল।


আরো সংবাদ

দেশী-বিদেশী পাইলটরা লেজার লাইট আতঙ্কে (৩৯৯৩৬)পাকিস্তান বনাম ভারত যুদ্ধপ্রস্তুতি : কে কতটা এগিয়ে (২৮৪৮৪)ভারতীয় বিমানকে ধাওয়া পাকিস্তানের, আফগানিস্তান গিয়ে রক্ষা (২১৮৯৮)দুই বাঘের ভয়ঙ্কর লড়াই ভাইরাল (ভিডিও) (২০৬১৪)শীর্ষ মাদক সম্রাটের ছেলেকে আটকে রাখতে পারলো না পুলিশ, ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা (১৪৭১৯)রৌমারী সীমান্তে বিএসএফ’র গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ! (১৪৫৭২)বিশাল বিমানবাহী রণতরী নির্মাণ চীনের, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেকে (১৪৩৩৮)‘গরু ছেড়ে মহিলাদের দিকে নজর দিন’,: মোদির প্রতি কোহিমা সুন্দরীর পরামর্শে তোলপাড় (১৩৫৮২)বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়ে যা বললো বিজিবি (১১৮৬৩)লেন্দুপ দর্জির উত্থান এবং করুণ পরিণতি (৯৩৩৫)



portugal golden visa