২১ আগস্ট ২০১৯

রকমারি ভিক্ষুক

রকমারি ভিক্ষুক - ছবি : সংগ্রহ

কতকাল থেকে শুনে আসছি দ্বারে দ্বারে ভিক্ষুকের করুণ আর্তনাদ, ‘মা-গো ভিক্ষা দেন’। সেই ব্রিটিশ আমলে যখন ছোট ছিলাম, দেখেছি- গ্রামের দেয়ালঘেরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মহিলা ভিক্ষুক আর্তনাদ করতেন, ‘মা-গো ভিক্ষা দেন’। মা-চাচীরা তাদের খালি হাতে ফিরাতেন না। ১৯৪৮ সালে ছ’বছর বয়সে গ্রাম ছাড়ার পর বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন শহরে ছিলাম। এখনো আছি। বাসার বন্ধ গেটের সামনে থেকে মাঝে মধ্যে ভেসে আসে সেই আকুতি, ‘মা-গো ভিক্ষা দেন’। আমার বয়স এখন সাতাত্তরে পা রেখেছে। বুঝ হওয়ার পর থেকে ভিক্ষুকের এ ডাক শুনে আসছি। জানি না, কোন আদিকাল থেকে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষুকের এ আর্তনাদ সম্পন্ন পরিবারগুলো শুনে আসছে। মনে হয়, যখন থেকে সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য ও কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে তখন থেকেই অপেক্ষাকৃত দুর্বল মানুষের এ পেশার উদ্ভব। তবে ভিক্ষুকেরও রকমফের আছে।

১৯৫০ দশকের কথা। ঢাকায় হাতিরপুলের কাছে রেললাইনের ধারে পরিবাগে বাসা। আমাদের বাসায় মাঝে মধ্যে কালো পাড়ের পরিচ্ছন্ন একটি খয়েরি রঙের শাড়ি পরে এক মধ্য বয়সী মহিলা ভিক্ষে করতে আসতেন। মাথার ঘোমটা সামনের দিকে বেশ এলানো। তাই তার তামাটে রঙের মুখটা পুরোপুরি দেখা যায় না। চোখ তার সর্বদাই আনত। তেমনি নত হয়ে থাকা মুখে গুটি বসন্তের দাগ, যেন খোদাই করা পাটা। শাড়িটি এমনভাবে তিনি পরতেন যে, তার গায়ের কোনো অংশই দেখা যেত না। মাটির উপরে খালি পায়ের পাতা দু’টি আর ডান হাতের যে ক’টি আঙুল দিয়ে মাথার ঘোমটার আঁচলটি সামলে রাখতেন, যে ক’টি আঙুলই কেবল দেখা যায়। তিনি এলে আমরা ভাইবোন মা- সবাই তার সামনে এসে বারান্দায় দাঁড়াতাম। তিনি নিচে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকবারই অনেক্ষণ ধরে আমাদের জন্য এই বলে দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহ আমার ভাইয়েগরে বিদ্যাবুদ্ধি দিঅ। টেহাপইসা ধনদৌলত দিঅ। সুখেশান্তিতে রাইখ্খ। ইহকালে পরকালে পানা দিঅ... আমার বইনেগরে হেফাজতে রাইখ্খ। সুখ শান্তি দিঅ...।’ অনেক বড় দোয়া, অনেক্ষণ ধরে আমাদের জন্য তিনি করতেন। আমরা সবাই মনোযোগ দিয়ে তার দোয়া শুনতাম। এক সময় মা তাকে কিছু চাল বা ক’টা পয়সা দিতেন। ভিক্ষা পাওয়ার পর ধীর পায়ে ভদ্র নম্রভাবে হেঁটে তিনি গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতেন। এ ধরনের মার্জিত স্বভাবের মহিলা ভিক্ষুক আমার নজরে এর আগে বা পরে কোনো দিন পড়েনি।

ধর্মে আছে, গরিবের হক আদায় করা সামর্থ্যবানদের দায়িত্ব। আমার মা ভিক্ষুকদের কখনো বিমুখ করতেন না। এই ভিখারিনীর দোয়ার বরকতেই কিনা জানি না, আমরা চারজনের মধ্যে তিন ভাইবোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার শেষ ধাপ পার করেছি। অষ্টম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বড়বোনের বিয়ে হয়ে যায়, তাই তার লেখাপড়া তেমন এগোয়নি। ধর্মবিশ্বাসী হিসেবে মাঝে মাঝে সেই ভিখারিনীকে মনে পড়ে, যিনি আমাদের জন্য বহুবার বহু দোয়া করেছেন। একটি বিষয় আমাকে অবাক করে- ভিক্ষুকদের আল্লাহর কাছে নিজের জন্য কিছু চাইতে দেখিনি। কেউ তাদের ভিক্ষা না দিলে হতাশায় ‘আল্লাহ’ বলে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চলে যায়। এটা ঠিক, রাস্তায় ধূলিধূসরিত পঙ্গু ভিখারিরা বিরতিহীনভাবে ‘আল্লাহ্ দে। আল্লাহ্ দে’ বলে জিকির করে। শুনেছি, তারা কোনো-না-কোনো দুষ্টচক্রের আয়ের উৎস। এ ছাড়াও আরো হরেক রকম ভিক্ষুক আছে যারা গৃহস্থের দরজায় কেউ মৃদু, কেউ জোরেশোরে কড়া নাড়ে। এদের কেউ মেয়ে বিয়ে দেবে, রোগের চিকিৎসা করাবে, সন্তান পড়াবে, সন্তানকে কুরআনে হাফেজ বানাবেন, মাদরাসা চালাবে ইত্যাকার সব ভালো কাজের খরচের জোগান দিতে সাহায্য চাইতে আসে।

অনেকেই বলে, ‘গরিবের কথা বাসি হলে ফলে, আর গরিবের দোয়া শিগগিরই কবুল হয়’। এক ভিক্ষুক দুপুরে ভিক্ষে করতে এসে আমার ছোট ভাইকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিল। দুপুর বেলা গোসলখানার দেয়াল বেয়ে আধপাকা বাড়ির টিনের ছাদে উঠে সে কিছু একটা করছিল। এমন সময় ছাদের উপর দিয়ে চলে যাওয়া টেলিগ্রাফের তারে তার হাত আটকে যায়। আব্বা অফিসে, আমি স্কুলে। বাসায় কোনো ছেলে মানুষ নেই। মা-ও দেখেননি। রেললাইনের পাশ দিয়ে মধ্যবয়সী ও ডান হাত অবশ এক ভিক্ষুক যাচ্ছিল। তার নজরে পড়ে, ছাদে একটি ছোট ছেলে টেলিগ্রাফের তারে আটকে গেছে। সে তৎক্ষণাৎ দৌড়ে এসে ছাদে উঠে বাম হাতের লাঠি দিয়ে টেলিগ্রাফের তারে আঘাত করে ভাইটিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে। বিকালে আমরা বাসায় এলে মা আমাদের কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। প্রতিদানে ভিক্ষুকটি কিছুই নেয়নি। বিত্তবানদের বিত্ত থাকলেও চিত্ত থাকে না। দরিদ্রের তা থাকে। দরিদ্ররা নিজ সন্তানটিকে সস্নেহে যেভাবে বুকে আগলে রাখে, বিত্তবানরা সন্তানদের কদাচ ততটা করে। এ ঘটনার পর থেকে সে ভিক্ষুক এলেই মা তাকে ভাত খাইয়ে দিতেন।

১৯৬৩-১৯৬৭ সময়কালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জগন্নাথ হলের যে অংশটি ১৯৮৫ সালে ধসে পড়ে, সে সময় তার লাগোয়া ফুটপাথে শ্মশ্র“ধারী পরিচ্ছন্ন লুঙ্গি ও সফেদ পাঞ্জাবি পরিহিত এক ভিক্ষুককে প্রায়ই দেখতাম। সে পথ দিয়ে সাইন্স অ্যানেক্সে ক্লাসে যাওয়ার পথে আমাদের পথ আগলে ধরে হাত বাড়িয়ে বলত, ‘দুই আনা দে, আল্লাহ্ তর বালা করব’। একদিন কিছু খুচরা পয়সা যেমন দুই পয়সা, এক আনা, দুই আনা, সিকি ও আধুলির কয়েন হাতের তালুতে নিয়ে তার সামনে ধরলাম। সে বেছে বেছে একটি দু’আনি বের করে নিয়ে বলল, ‘যাহ্’। আমার মনে হয়, সে নির্লোভ এবং তার নীতি ছিল যে, কারো কাছ থেকে দুই আনার কম বা বেশি নেবে না। এ কথা ভাবলে এখনো অবাক লাগে। পরে শিক্ষকতা জীবনে কোনো কোনো ভিক্ষুককে ভিক্ষার জন্য ক্লাসে ঢুকে পড়তে দেখেছি। ক্লাসের ছাত্রদের কেউ কখনো-কখনো ভিক্ষা দিতে ইচ্ছুক ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে পয়সা তুলে দিয়ে তাকে বিদায় করত।

এক ধরনের ভিক্ষুক আছে যারা রিকশায় চড়ে মাইক বাজিয়ে ভিক্ষা করে। এদের খোলামেলা সুরেলা হুঁশিয়ারি, ‘টাকা পয়সা জমিদারি/পাইয়াছ সুন্দর নারী/কিছুই সাথে যাবে না’। নিশ্চয়ই তারা ভিক্ষা পায়। কেউ তাদের ভিক্ষা না দিলে এ ‘পেশা’ তারা ছেড়ে দিত। ১৯৯০-এর দশকে শিক্ষকতা করে যে বেতন পেতাম, শুনেছি- কুমিল্লার কান্দির পাড়ে ধূলিধূসরিত রাস্তায় প্রখর রোদে উপুড় হয়ে শুয়ে ‘আল্লাহ্ দে। আল্লাহ্ দে’ জপে একজন পঙ্গু ভিক্ষুক আমার মাসিক বেতনের দ্বিগুণ টাকা পেত এক দিনেই। শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা ছিল এবং আমার মাসিক আয়টা তুলনামূলকভাবে সম্মানজনক উপায়ে ও কম কষ্টে আসত। জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় মাঝে মধ্যে দেখি কোনো কোনো ভিক্ষুক কোটিপতি হয়ে গেছেন। দীর্ঘ ৩০ বছর কলেজে শিক্ষকতা করে তার ধারেকাছেও যেতে পারিনি।

বাস্তবতা হচ্ছে, প্লেনে চড়েও অনুন্নত দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিরা ধনী দেশে ‘ভিক্ষা’র জন্য ধরনা দেন। বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান বলেছিলেন, ‘যখন বিদেশ সফরে যাওয়ার জন্য প্লেনে উঠি, তখন আমার দু’চোখে পানি এসে যায়। আমি জানি, ভিক্ষা করতে বিদেশ যাচ্ছি।’ এর আগে পরে বহু অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী ‘ভিক্ষা’ করতে বিদেশ গেছেন এবং এখনও যান, কিন্তু এমন তিক্ত সত্য অনুভূতির কথা কারো মুখে তো শুনিইনি, বরং বিদেশ থেকে ‘ভিক্ষা’ আনতে পারাটা তারা নিজেদের ক্রেডিট বলেই দাবি করেন। তবে ১৯৮০-এর দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন বিদেশে সাহায্যের জন্য যেতেন, তিনি বলতেন, ‘বিদেশে ভিক্ষা করতে যাই না বরং তারা আমাদের যে সম্পদ লুট করেছে, তার পাওনা আনতে যাই।’

কথা ঠিক, যেসব দেশে তারা ‘ভিক্ষা’ করতে যেতেন এবং এখনো যান, সেসব দেশের সম্পদ গৌরবজনকভাবে অর্জিত নয়। তারা একসময় সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উপনিবেশ স্থাপন করে পৃথিবীর সম্পদ লুট করে এখন ‘ভিক্ষা’ দাতা। সেসব দেশ আজও নানা কৌশলে পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোকে বঞ্চিত করে লাভবান হচ্ছে। সে কথা আজ খুব কম লোকেই বলে। আমাদের ঘরের দুয়ারে প্রতিনিয়ত যে ভিক্ষুক আসে; সেও তেমনি একজন বঞ্চিত লোক। কিন্তু সে কথা বলার ভাষা তাদের নেই। এরশাদের ধর্মমন্ত্রী মাওলানা এম এ মান্নান সৌদি বাদশাহকে বলেছিলেন, ‘আপনাদের বছরে যে ফেতরা হয়, তা আমাদের দিলে আমরা উপকৃত হই!’

ভিক্ষা করা পাপ নয়। তবে ইসলাম ধর্মে তা নিরুৎসাহিত করা হয়। কারণ ভিক্ষা করাতে কোনো গৌরব নেই। তবে এটা ঘুষ-দুর্নীতি, চুরি-চামারি, মাদক, জুলুম-ডাকাতি ও জোচ্চুরি ইত্যাদির তুলনায় ভালো। ভিক্ষুকদের উদ্দেশে বলা হয়, ‘বেগারস আর নট চুজারস’, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ভিক্ষার চাল কাড়া আর আকাড়া’। কথাটা সত্য। গৃহস্থ যা এবং যেমনটাই দেয় তাই ভিক্ষুককে নিতে হয়। ভিক্ষুকের নিজের পছন্দের কোনো দাম নেই। মনে পড়ে, একসময় মার্কিন মুল্লুক থেকে পচা চাল এবং পচা গম এনে রেশনে আমাদের খাওয়ানো হতো। নবী করিম সা: বলেছেন, ‘যে কর্মবিমুখ ব্যক্তি ভিক্ষা করে, শেষ বিচারের দিন তার মুখমণ্ডলে মাংস থাকবে না’ (বুখারি ও মুসলিম)। তবে জাকাত, সাদাকা ও উপহার নেয়া জায়েজ। অপর দিকে, প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির কর্মসংস্থান করা রষ্ট্রের দায়িত্ব।

ঢাকার রাজপথে ট্রাফিক জ্যামের সময়ে পথ-ভিক্ষুকদের দেখা যায় গাড়ি ঘেরাও করে হাত পাততে। ছোট ছোট শিশুদের কেউ বেলী ফুল বা অন্য কোনো ফুলের মালা বা ফুল হাতে গাড়ি ঘেরাও করে। রেওয়াজটা পশ্চিমা দেশের। প্যারিসের রাজপথে অভাবী শিল্পীরা ভিক্ষা চায় না। তবে ফুটপাথে নানা ধরনের শিল্পকর্ম রচনা করে পথচারীদের কাছ থেকে সাহায্য নেয়। কেউ কেউ দেশলাই বিক্রি করে; এর বিনিময়ে পথচারীরা যে যা দেয় তাতেই খুশি; এর কোনো বাঁধাধরা দাম নেই। ১৯৬০-এর দশকে করাচির সদর এলাকার ফুটপাথে এমন ভিক্ষুক আমার নজরে পড়েছে; এক বৃদ্ধা মহিলাকে হাত পাততে দেখেছি।
অন্য রকমের ভিক্ষুকও আছেন যারা প্রাণদণ্ড মওকুফ করতে রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে জীবন ভিক্ষা চান। কেউ আবার প্রেমের ভিখারি। একটি হিন্দি গানের কলি এরূপ : ‘না মাঙ্গে সোনা চান্দি/ মাঙ্গে দর্শন দেবী তেরি/দোয়ার খাড়া এক যোগী,/তেরি লিয়ে জগ ছোড়া/তেরি লিয়ে রীত ছোড়া/ ছোড় দিয়া ভগওয়ান’। মনে হয় আবুল মনসুর আহমদের কোনো লেখায় পড়েছি, এক বাড়ির দরজায় কড়া নাড়া শুনে গৃহকর্ত্রী দরজা খুলে দেখেন- এক সুদর্শন সুবেশী ভদ্রলোক দরজায় দাঁড়ানো। গৃহকর্ত্রী জানতে চাইলেন- ‘আপনি কে?’ আগন্তুক বললেন, ‘আমি ভিক্ষুক।’ সন্দিগ্ধ গৃহকর্ত্রী একটি টাকা এনে তাকে দিতে চাইলে আগন্তুক তা নিলেন না। গৃহকর্ত্রী জানতে চাইলেন, ‘আপনি ভাত খাবেন?’ আগন্তুক মাথা নেড়ে জানালেন, তাও না। ‘চাল নেবেন?’ ‘না।’ গৃহকর্ত্রী বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘কী চান আপনি?’ আগন্তুক স্মিত হেসে বললেন, ‘ভোট। আমি নির্বাচনে প্রার্থী।’ আজকাল আর নির্বাচন প্রার্থীদের এভাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট ‘ভিক্ষা’ করার রেওয়াজ নেই। এই প্রার্থীরা খোদ নির্বাচন কমিশনকেই কব্জা করে ফেলেন। তবে আমাদের লোকসঙ্গীত শিল্পীদের গাওয়া, ‘ভবে কাঙাল হইলে কেউ জিগায় নারে, কাঙাল’- গানটির এ বাণী চিরন্তন সত্য।

লেখক : অর্থনীতির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক,
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet