২৪ জুন ২০১৯

গণতন্ত্র গণমাধ্যম ও বর্তমান বিশ্ব

গণতন্ত্র বলতে এমন শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রত্যেক নাগরিকের সমান ভোটাধিকার নিশ্চিত থাকে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরির ক্ষেত্রে সব রাষ্ট্রীয় সভ্যের অংশগ্রহণের সমান সুযোগও রয়েছে। যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়।

গণতন্ত্রের এই পদ্ধতিগত ধারণাকে রবার্ট ডাল তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘পলিয়ার্কি: পার্টিসিপেশন অ্যান্ড অপজিশন’-এ সবিস্তার আলোচনা করেছেন। ডাল যে ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেছেন, সেটাকে তিনি বর্ণনা করেন ‘পলিয়ার্কি’ বা ‘বহুজনের শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে। রবার্ট ডাল পদ্ধতিগত গণতন্ত্রের সুস্পষ্ট নির্ধারকের তাগিদ দেন এবং বলেন, বহুজনের শাসনব্যবস্থার কতগুলো মৌলিক উপাদান ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, সরকারে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত কর্মকর্তা থাকা; নিয়মিত, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা; সরকার বা কোনো একক গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমন উৎসের বিকল্প থেকে তথ্য পাওয়ার সুযোগ এবং সংগঠনের স্বাধীনতা। ডালের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বহুজনের শাসন হলো শাসনব্যবস্থার জন্য কতগুলো প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতির সমন্বিত রূপ। ডালের এই সংজ্ঞা বা বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে বিস্তর সমালোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও গুণাগুণ বিচারে এগুলোই সবচেয়ে বহুল আলোচিত ও প্রচলিত মানদণ্ড বলে মনে করা হয়।

গণতন্ত্রের একটি অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে বাকস্বাধীনতা। যে সমাজ-রাষ্ট্রে মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত নয় সেখানে গণতন্ত্র কল্পনা করাও বাতুলতা মাত্র। বস্তুত, বাকস্বাধীনতা হচ্ছে স্বতন্ত্র ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের নির্ভয়ে, বিনা বাধায় বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, অনুমোদন গ্রহণের বাধ্যতা ব্যতিরেকে নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার সমর্থিত মূলনীতি। ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ শব্দগুলোকেও কখনো কখনো বাকস্বাধীনতার স্থলে ব্যবহার করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতার সাথে মাধ্যম নির্বিশেষে তথ্য বা ধারণার অন্বেষণ, গ্রহণ এবং প্রদান সম্পর্কিত যেকোনো কাজের অধিকারকেও বুঝিয়ে থাকে।

বর্তমান গণতান্ত্রিক বিশ্বে গণতন্ত্র, সুশাসন ও গণমাধ্যম পরস্পর অবিচ্ছেদ্য এবং একে অপরের পরিপূরক বলে মনে করা হয়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা আর আইনের শাসন যখন পদদলিত হয়, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম তখন সাধারণ মানুষের অদ্বিতীয় অবলম্বন হয়ে ওঠে। কারণ, গণমাধ্যম সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং সরকার ও সরকার সংশ্লিষ্টদের আত্মসমালোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ করে দেয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে। সঙ্গত কারণেই ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের কোনোই বিকল্প নেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা বেশ পশ্চাৎমুখী।

গণমাধ্যমকে সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণও বলা হয়। যেহেতু আমাদের দেশে গণমাধ্যমে স্বাধীনতার প্রশ্নটা বেশ পুরনো তাই আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশটা ও চর্চাটাও স্বাভাবিক ও কাক্সিক্ষত হয়নি। যদিও কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া নানাবিধ বাধা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু আমাদের দেশের রূঢ় বাস্তবতায় গণমাধ্যমের পথচলা অতীতে যেমন মসৃণ ছিল না; এখনও নয়। আগামী দিনে কী হবে তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে। গণতন্ত্রের আরেক অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার। কিন্তু গণমাধ্যম যেখানে শৃঙ্খলিত সেখানে বাকস্বাধীনতার বিষয়টিও রীতিমতো প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।

একটি অবাধ গণতান্ত্রিক ও সুশাসনভিত্তিক নতুন বিশ^ গড়ে তোলার জন্য যেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হওয়া দরকার, সেখানে ঘটছে তার পুরো উল্টো। বিশ্বের প্রায় দেশেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুরো নিশ্চিত নয়। শুধু বাংলাদেশে নয় বরং গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীরা এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই দায়িত্ব পালনে নানাবিধ বাধা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে জীবনহানি, জেল-জুলুম, অপহরণ ও জিম্মি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত। এই অশুভ প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে বৈ কমছে না। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে সে ভয়াবহ চিত্রই উঠে এসেছে বিশ্ববাসীর সামনে।

সে ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে গোটা বিশ্বেই নজিরবিহীন সাংবাদিক নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। গত বছর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারা বিশ্বে ৮০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কারাদণ্ড ও জিম্মি করার ঘটনাও নেহায়েত কম নয়। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)-এর প্রকাশ করা রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে ৮০ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে, তাদের অর্ধেকেরও বেশিজনকে বিশেষভাবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাপ্ততথ্য মতে, ২০১৭ সালের তুলনায় সাংবাদিক হত্যা বেড়েছে অন্তত ১৫ শতাংশ।

এর বাইরেও বিদায়ী বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৩৪৮ জন সাংবাদিককে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ৬০ জন জিম্মি হয়েছেন বিভিন্ন গোষ্ঠীর হাতে। আরএসএফ উল্লেখ করেছে, ২০১৮ সালের মতো এতটা ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখে আর কখনোই পড়েননি গণমাধ্যম কর্মীরা। খুন, কারাদণ্ড, জিম্মি ও গুম সব ধরনের নির্যাতনেরই সম্মুখীন হয়েছেন তারা। রিপোর্টে উঠে এসেছে ইস্তাম্বুলে সৌদি দূতাবাসে কলামিস্ট জামাল খাশগির হত্যা কিংবা স্লোভাক জার্নালিস্ট ইয়ান কুৎসিয়াকের তার বাগদত্তাসহ নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো। সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বেশি খারাপ পরিস্থিতি আফগানিস্তানে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। গত বছর দেশটিতে ১৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে সিরিয়া। সেখানে নিহত হয়েছেন ১১ জন।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও বেশ হতাশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তাদের ভাষায়, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের র‌্যাংকিংয়ে কোনো পরিবর্তন না হলেও রেটিংয়ে অবনতি হয়েছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪৬। স্কোর ৪৮.৬২। ২০১৭ সালে স্কোর ছিল ৪৮.৩৬। ৭.৬৩ স্কোর নিয়ে তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে নরওয়ে। আর ৮৮.৮৭ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে নিচে আছে উত্তর কোরিয়া। সৌদি আরব ১৬৯ ও যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ নম্বরে আছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে সংবিধান সম্পর্কে সমালোচনা করা যায় না, যদিও দেশটি কাগজ কলমে গণতান্ত্রিক, যা গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আরো অভিযোগ রয়েছে, এখানে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ আছে, তবে সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের ওপর উপর্যুপরি আঘাতের কারণে সাংবাদিকরা ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ’ আরোপ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাংবাদিকদের ওপর আঘাত বা আক্রমণের বিচার না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে আইসিটি অ্যাক্ট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পরও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার অস্বচ্ছ ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাস করেছে। যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় বলেই মনে করছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের এক ভয়াবহ চিত্রই ফুটে উঠেছে। সংস্থাটি বলেছে, গত ২০০১ থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে নিহত হন ১৪ জন, আহত হয়েছেন ৫৬১ জন সাংবাদিক। আর ২০০৭ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৯ বছরে নিহত হন ৯জন সাংবাদিক। খুন ছাড়াও সাংবাদিকদের পরিবারের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলা হয়, ‘যখন-তখন চাকরিচ্যুতির আতঙ্কে সারাক্ষণই থাকতে হয় সংবাদকর্মীদের।’ ফলে গণমাধ্যম কর্মীরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৮ সালে সে ঝুঁকি আরো বেড়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এ বছর সবচেয়ে বেশি হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। সারা বছর বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক নির্যাতনের খতিয়ান তুলে ধরে নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে নরওয়ে। আর, ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬। আরএসএফের প্রতিবেদনে এ বছর সবচেয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক হিসেবে বলা হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশগির নাম। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে নিহত স্লোভাকিয়ার সাংবাদিক ইয়ান কুচিয়াকের নাম। মিয়ানমারে আটক রয়টার্সের সাংবাদিক কিও সো ও এবং ওয়া লোনের নামও রয়েছে নির্যাতিত সাংবাদিকের তালিকায়। বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৫০তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। ২০১৮-১৯ সালের জন্য প্রকাশিত এই সূচকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ পিছিয়েছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কঠোর নিয়মনীতির শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকেরা। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনাও বেড়েছে। বেড়েছে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিভিন্ন প্রাইভেট টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া এবং সাংবাদিকদের বিতর্কিতভাবে গ্রেফতারের ঘটনা বাড়ছে ক্রমবর্ধমান হারে। যা গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীন গণমাধ্যমের সাথে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরো বলেছে, বাংলাদেশে নতুন অস্ত্র হিসেবে এসেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে এ আইন চালু হয়। এ আইনের অধীনে ‘নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা চালানো যেকোনো পক্ষকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া যাবে। যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় বলেই মনে করা হচ্ছে।

গোটাবিশ্বে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ক্রান্তিকাল চলছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমাদের চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির অন্যতম হচ্ছে অবাধ গণতন্ত্র। কিন্তু গণমাধ্যমের মতো গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়ার অনুষঙ্গগুলো বেশ দুর্বল। সঙ্গত কারণে বিকশিত হতে পারেনি আমাদের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
[email protected]


আরো সংবাদ