১৮ আগস্ট ২০১৯

নারীর ভূষণ

‘পর্দা’ শব্দটি সম্পর্কে সমাজের শিক্ষিত সবাই অবগত। এমনকি অশিক্ষিতজনেরাও পর্দার অর্থ বোঝেন। ‘পর্দা’ হচ্ছে বস্ত্রাদি নির্মিত আবরণ বা আচ্ছাদন, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Screen|। পর্দা বলতে পর্দা-পুশিদাকেও বোঝায়, যার অর্থ অন্তরাল বা গোপনীয়তা। পর্দানসিন হওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে পর্দানসিনের এক অর্থ হচ্ছে- অবরোধবাসিনী বা অন্তঃপুরবাসিনী। অর্থাৎ পর্দার অন্তরালে বসবাসকারী নারীদেরই বোঝানো হয়েছে। এতে মোট কথা পর্দা শব্দটি নারী এবং নারীসমাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

‘পর্দা’ প্রকৃত অর্থে নারীর ভূষণ। অর্থাৎ নারীর অলঙ্কার যাকে সাজসজ্জা বা সৌন্দর্য বলা হয়েছে। এই পর্দা বিশেষ কোনো ধর্মের নারীদের ভূষণ নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র নারীসমাজের জন্যই এই ভূষণ। অতি প্রাচীনকাল থেকেই এর প্রচলন ছিল বিভিন্ন অঞ্চলের নারীদের মাঝে। প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন গ্রন্থে দেখা যায়, ভারতে কুমারী মেয়েদের জন্য দুইখানা বস্ত্র পরিধানের ব্যবস্থা ছিল। তবে পরিণীতা রমণীদের জন্য ব্যবস্থা ছিল বহুবস্ত্রের। কিন্তু এই বস্ত্রের সাথে সবাইকে অবগুণ্ঠন ব্যবহার করতে হতো আলাদাভাবে। আর্যদের প্রথম অধ্যুষিত পাক-ভারত উত্তরাঞ্চলের উপমহাদেশে চিরন্তন প্রথা ছিল অবগুণ্ঠনের ব্যবহার।

শ্বশুর কিংবা অন্য মুরব্বিদের কিংবা অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তির সামনে যেতে হলে রমণীরা অবগুণ্ঠন বা শিরঃচ্ছাদন ব্যবহার করতেন। সংস্কৃত কবি বাল্মিকীর কবিতাতেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাকবি মাঘের বর্ণনাতেও রমণীদের মাথায় অবগুণ্ঠন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। বীর-কেশরী রাক্ষস-নেতা দশানন দাশরথীর বাণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিপতিত হলে শোকাতুরা মন্দোদরী বিলাপকালে বলেছিলেন, ‘মহারাজ! তুমি আজ এই যুদ্ধভূমিতে আমাকে অবগুণ্ঠনশূন্যা দেখিয়া ক্রোধ করিতেছ না কেন?’

এ বক্তব্যে স্পষ্ট যে, আদিকালে ভারতে রমণীদের মাথায় ঘোমটা দিয়ে চলতে হতো। অবগুণ্ঠনহীন রমণীদের পুরুষেরা ভালো চোখে দেখতেন না। সম্ভবত কঠোর নিয়মে পরিণত হয়েছিল অবগুণ্ঠনের ব্যবহার। আর এজন্যই মন্দোদরীর মাথায় অবগুণ্ঠন না থাকা সত্ত্বেও কেন দশানন রাবণ ক্ষুব্ধ হননি কিংবা ক্রোধ প্রকাশ করেননি, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আর এ প্রশ্ন থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, ভারতে রমণীদের পর্দা করা ভারতের নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ।

অথচ অনেকেই মনে করেন, ভারতে হিন্দু রমণীদের অবগুণ্ঠন বা পর্দার ব্যবহার মুসলমানদের বাড়াবাড়ি বা অত্যাচারের ফসল। মুসলিম রমণীরা ধর্মীয় নির্দেশে পর্দা প্রথা অনুসরণ করে থাকেন। ইসলাম ধর্মের সাথে পর্দাপ্রথার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পর্দার ব্যবহার মুসলিম রমণীদের অধিকমাত্রায় সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। পর্দার অর্থ যে অলঙ্কার এবং সৌন্দর্য সে কথা লেখার শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে। অনেকে পর্দার সৌন্দর্য পছন্দ করেন না। আর এ জন্যই পর্দা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই মনে করে থাকেন, তাদের সমাজে পর্দার ব্যবহার মুসলমানদের বাড়াবাড়ির ফল ধারণা। কিন্তু এটা মোটেও বাস্তবসম্মত ধারণা নয়। কারণ, ভারতের বহু প্রাচীন গ্রন্থে পুরুষ ও রমণীরা কী ধরনের বস্ত্র ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে লিখিত আছে।

কোন ধরনের এবং কোন কোন রঙের কাপড় কারা ব্যবহার করতে পারবেন আর কারা পারবেন না সে বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। ক্রমানুসারে থান কাপড় আর্যদিগের পরিধানের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। তসর কাপড় পরিধান করে খাওয়া-দাওয়া কিংবা মলত্যাগ করলে সেই কাপড় পরিষ্কার করে শুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, সধবা রমণীরা রক্তবস্ত্র অর্থাৎ রঙিন বস্ত্র ব্যবহার করবেন, যা বিধবারা ব্যবহার করতে পারবেন না। আবার বলা হয়েছে, ‘কুমারী মেয়েরা শুক্লবস্ত্র বা সাদা কাপড় ব্যবহার করতে পারবে না।’

এসব নিয়মের ব্যতিক্রমকে পাপকার্য বলা হয়েছে। মহর্ষি আপস্তম্ব বলেছেন- নীল রঙের কাপড় পরিধান করলে স্নান, দান, তপস্যা, হোম, বেদপাঠ, তর্পণ ও পঞ্চযজ্ঞ নিষ্ফল হয়ে যায়। কেবল তাই নয়, এতে যে পাপ হয় তার জন্য অহোরাত্র উপবাস পালন এবং পঞ্চগব্য পানরূপ প্রায়শ্চিত্ত করা কর্তব্য। এ বিষয়ে ভবিষ্যপুরাণে উল্লেখ আছে। নীল রঙের অনুরূপ গাঢ় রক্তবর্ণ বা ঘন লাল রঙের বস্ত্র ব্যবহারও যে নিষিদ্ধ, সে কথা নরসিংহপুরাণে উল্লেখ আছে। তা ছাড়া বৈধকর্ম অনুষ্ঠানের সময় সেলাই করা কাপড়, দগ্ধ বস্ত্র, পরকীয় বস্ত্র ও মূষিকোৎকীর্ণ জীর্ণ বস্ত্রের ব্যবহারও বিশেষভাবে নিষিদ্ধ ছিল। বস্ত্র এবং বস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে এরূপ অসংখ্য তথ্য পাওয়া যায় ভারতের প্রাচীন নানাগ্রন্থে।

উল্লিখিত নিয়মকানুন মোতাবেক, পাপ-পুণ্যের বিবেচনায় এবং অবশ্যপালনীয় কর্তব্যের ধারণায় হিন্দু ধর্মের নর-নারীরা বস্ত্র ব্যবহার করেছেন। সুতরাং মুসলমানদের বাড়াবাড়ি কিংবা অত্যাচারের ফসল পর্দা, এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অসত্য। আর এ কারণে ‘প্রাচীন শিল্প-পরিচয়’ নামক গ্রন্থে গিরীশচন্দ্র বেদান্ততীর্থ বলেছেন যে, ... সুতরাং ‘মুসলমানের অত্যাচার ঘোমটার উদ্ভাবক’ বলিয়া কল্পিত হইতে পারে না (পৃ. ২৬)।

প্রকৃত অর্থে, পর্দা এবং পর্দার অংশ অবগুণ্ঠনসহ শালীন পোশাক নারীর ভূষণ। তা প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের রমণীরা ব্যবহার করতেন। ভারতে যেমন এর ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত রয়েছে তেমনি দৃষ্টান্ত রয়েছে অন্যান্য দেশেও। এ কথা বিশ্বের অনেকেরই জানা, ইসলাম ধর্মের অনুসারী রমণীরা পর্দানশিন। তারা মাথায় ঘোমটা টেনে, বোরখা পরে কিংবা অবগুণ্ঠনের সাহায্যে পর্দা করে থাকেন। ইসলামে স্বামী ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের সাথে প্রকাশ্যে মেলামেশা বা কথা বলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আর এই কারণে মুসলিম রমণীদের অনেকেই পর্দা করে থাকেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কোরিয়ায় অতি প্রাচীনকাল থেকেই এরূপ পর্দা পালনের রেওয়াজ লক্ষ করা যায়। সম্ভবত মুসলিম রমণীদের চেয়েও কঠোরভাবে পর্দা পালন করতেন কোরিয়ার রমণীরা।

এ কারণে প্রাচীনকালে কোরিয়ার কোনো পরিবারে পুরুষ মেহমানের আগমন ঘটলে মেহমানদারি করতে হতো বাড়ির বা পরিবারের পুরুষ সদস্যদের। কোরিয়ায় মেয়েরা কখনোই পর পুরুষের সামনে যেতেন না। কোরিয়ার শিল্পীদের চিত্রেও এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এমনি একটি চিত্রে দেখা যায় যে, একজন রমণী আপাদমস্তক কাপড়ে ঢেকে রাত্রিবেলায় স্বামীর সাথে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। তারা যে রাতে বের হয়েছেন, সেটা বোঝার জন্য শিল্পী রমণীর স্বামীর হাতে একটি লণ্ঠন ধরিয়ে দিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পরিধেয় বস্ত্রে কোরিয়ার প্রাচীন ঐতিহ্যের দিকটি প্রস্ফুটিত হয়েছে এবং একই সাথে প্রাচীন কোরিয়ার রমণীদের পর্দা করার সামাজিক বিষয়ও প্রকাশ পেয়েছে।

ভারতবর্ষ বিশেষ করে প্রাচীন ভারতের শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম দেখেও অনুমান করা যায়, ভারতের নারীরা শালীন পোশাক ব্যবহার করতেন, যাকে পর্দার সাথে তুলনা করা যায়। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে অঙ্কিত এমনি এক চিত্রের শিরোনাম ‘প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা’। চিত্রটি ‘পাহাড়ি ধারা’য় অঙ্কিত। সোনালি রঙের নকশায় সমৃদ্ধ, লাল রঙের শাড়ি পরিহিতা প্রকৃতির সুন্দর পরিবেশে উপবিষ্ট রমণীকে লক্ষ করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, তৎকালে ভারতের নারীরা রুচিসম্মত ও মার্জিত পোশাক পরতেন। রুচিসম্মত এবং মার্জিত পোশাক পরা অপূর্ব সুন্দর রমণীর এ চিত্রটি ‘মাস্টারপিস’ হিসেবে স্বীকৃত। নানা রঙের ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ বৃক্ষরাজির শাখা-প্রশাখায় বিচিত্র ধরনের পাখির উপস্থিতি চিত্রের সমগ্র পরিবেশকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করে তুলেছে।

১৭৫৭ সালে অঙ্কিত মহারাজা সাওয়ান্ত সিং-এর স্ত্রী বাণী থানির প্রতিকৃতিও একই অনুভূতি ব্যক্ত করছে। ১৭৮৪ সালে অঙ্কিত এক চিত্রে ইংরেজ অফিসার ওয়ারেন হেস্টিংস ও তার পতœীর সাথে ভারতীয় যে মেয়েকে দেখা যাচ্ছে, তার শরীর ওড়না দিয়ে আবৃত। তার পোশাকে কোনোরূপ উগ্রতা নেই। বিশ শতকের প্রথমপাদে অঙ্কিত ‘ভাইফোঁটা’ নামক চিত্রে যে ৯ জন রমণীকে দেখা গেছে তাদের প্রত্যেকের পোশাকই মার্জিত। শাড়ি দিয়ে সুন্দরভাবে আবৃত তাদের শরীর। কোথাও অরুচিকর কিংবা অশালীন দৃশ্যের বিন্দুমাত্র আভাসও নেই চিত্রে। অথচ ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমনের কারণে ভারতে শিল্পীদের চিত্রে, বিশেষ করে রমণীদের চিত্রে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আগে যেখানে নারীর শরীর আবৃত থাকত সুন্দর পোশাকে, সেখানে পাশ্চাত্যের বদৌলতে নারীদের করা হয়েছে বিবসনা। অর্থাৎ নগ্ন। বহু শিল্পীর চিত্রেই ন্যুড বা উলঙ্গ নারীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

বাস্তব জীবনেও বহু নারী প্রায় বিবসনা। তারা যে ধরনের পোশাক পরে তাকে রুচিশীল কিংবা মার্জিত বলা যায় না। ফলে পর্দা যে নারীর ভূষণ, সেই বোধটি মন থেকে মুছে যেতে বসেছে। মুসলিম সমাজে এখনো অনেকেই পর্দা করতে পছন্দ করেন, কিন্তু এ ক্ষেত্রে এসেছে পরিবর্তন। কোনো কোনো পর্দাকে আর পর্দা মনে করা যায় না। অর্থাৎ পর্দাকে নারীর ভূষণ বা অলঙ্কার হিসেবে গণ্য করা সম্ভব হয় না। কারণ, এগুলো অলঙ্কারের সৌন্দর্যের পরিবর্তে বিকৃত রুচির অসুন্দরকেই প্রকাশ করে থাকে; যেমনটি পুরো পিঠখোলা ব্লাউজের ক্ষেত্রে ঘটছে। নারীর ভূষণ বা অলঙ্কার বলতে যে রুচিশীল পোশাককে বোঝানো হয় এগুলো তার বিপরীত। আধুনিকতার নামে পশ্চিমা জগতের উন্মুক্ততা যে, আমাদের সমাজের রুচিশীল ভূষণ, পর্দা, অলঙ্কারকে গ্রাস করে ফেলছে- এগুলো তারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এটা সচেতন রুচিশীল এবং নিজস্ব সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ পছন্দ করেন না।

আমরা যে সুন্দর বা সৌন্দর্যের কথা বলি, এর দু’টি দিক রয়েছে। এর একটি বাহ্যিক এবং অপরটি অভ্যন্তরীণ বা আত্মিক বা আধ্যাত্মিক। পর্দার ক্ষেত্রেও এই দুটো দিকই বিবেচনায় রাখা হয়। পর্দার বাহ্যিক দিকটা বিচিত্রমুখী। কারণ, দেশ-কাল-পাত্রভেদে এর রূপবৈচিত্র্য থাকে। তবে আধ্যাত্মিক বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে একই অনুভূতি সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য লক্ষ করা যায় না। কারণ, এ অনুভূতি আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তা এবং তার প্রদত্ত ধর্মসংশ্লিষ্ট। এ কারণে ধর্মীয় অনুভূতিতে বিশেষ ঐক্য পরিলক্ষিত হয় এবং এ কারণেই পৃথিবীর সর্বত্র ধর্ম-বর্ণ-ভাষা আর সংস্কৃতির বিভিন্নতা সত্ত্বেও ঐক্যের সুর শোনা যায়। পশ্চিমা দেশের কিংবা প্রাচ্য দেশের চিন্তাবিদদের চিন্তার ক্ষেত্রেও ঐক্য লক্ষ করা যায়। প্রখ্যাত দার্শনিক হেগেল, শোপেনহাওয়ার, কান্ট এবং ক্রোচে সৌন্দর্যকে আধ্যাত্মবোধ হিসেবে গণ্য করেছেন। প্লেটো মনে করতেন, সৌন্দর্যের মধ্যেই এমন কিছু অলৌকিক আছে যার দ্বারা তার চিত্তকে ক্রমেই বিশোধিত করার মাধ্যমে কলুষতা দূর হয় এবং পরম দিব্যদৃষ্টি লাভ করা যায়।

অর্থাৎ সৌন্দর্য শুধু দেখার বিষয় নয়, অনুভবেরও বিষয়। অনুভব করবেন এর অলৌকিকতা, যা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। তা ইহলোকের বিষয়ই নয়; লোকাতীত। এর সংস্পর্শ যেমন সুন্দরের অনুভূতি দান করে, তেমনি দিব্যদৃষ্টি আনয়নে সহায়তা করে। এ দিব্যদৃষ্টির সাথেও অলৌকিকতার সম্পর্ক রয়েছে, যা ইন্দ্রিয়াতীত। এ বিষয়কে দেখার বা উপলব্ধি করার অলৌকিক ক্ষমতা বা দৃষ্টিশক্তি কিংবা অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করতে সাহায্য করে সৌন্দর্য! এই দিব্যদৃষ্টি তখনই অর্জিত হয় যখন মানুষের চিত্ত বা হৃদয়কে, হৃদয়ের কলুষতাকে শোধিত করে নির্মল করে দেয় মানুষের সংস্পর্শে থাকা সৌন্দর্য। পোশাকের সৌন্দর্য কিংবা পর্দার সৌন্দর্য যার থাকে তার শরীরের এবং অভ্যন্তরের কলুষতা ক্রমান্বয়ে দূরীভূত হতে থাকে এবং প্রাধান্য পেতে থাকে নির্মলতা।

তা একপর্যায়ে দিব্যদৃষ্টি সম্পন্ন করে তোলে সেই মানুষকে। অবশ্যই পর্দার ব্যবহার লোক দেখানো হলে চলবে না। হৃদয়ের তাগিদে, পারলৌকিক সৌন্দর্য লাভের উদ্দেশ্যে তা হতে হবে। খ্রিষ্টান ধর্মের যাজক, ফাদার কিংবা ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় নেতা, ইমামদের পোশাক এবং এমন পোশাক পরিহিতদের যেমন পবিত্র ও পারলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বলে অনুভূত হয়, তেমনি এ পোশাক পরতে তারা গর্ব অনুভব করে থাকেন। কারণ, এর সাথে ধর্ম এবং ধর্মীয় অনুভূতির সম্পর্ক। থাকে পবিত্রতার সম্পর্ক। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, পোশাক এবং এর সৌন্দর্য ও শালীনতা নারী-পুরুষ উভয়কেই সুন্দর করে। করে তোলে পারলৌকিক সৌন্দর্যের আলোকে আলোকিত।


আরো সংবাদ




bedava internet