১৮ আগস্ট ২০১৯

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়বে ভারত?

মোদি ও সালমান - ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের এখন রমরমা অবস্থা। দেশটি ইতিহাসের আর কোনো সময়ই মধ্যপ্রাচ্যে এত সাফল্য পায়নি। সম্পূর্ণ বিপরীত শিবিরে থাকা ইসরাইল, ইরান ও উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব প্রধান শক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে দেশটি এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্থান-পতন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মেরুকরণ বাড়তে থাকায় ভারতের জন্য ব্যাপক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাতে বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে পারে ভারত।

এসবের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জরিফ ৯ জানুয়ারি নয়াদিল্লি ত্যাগ করার পর ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেইর বেন শাবাত সিরিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইরানি হুমকি প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে লবি করতে ভারতের রাজধানীতে আসেন। অঞ্চলটি আবার সঙ্ঘাতে নিমজ্জিত হওয়ায় ভারত সম্ভবত পক্ষ গ্রহণের জন্য আরো বেশি চাপের মুখে পড়বে।

ভারত ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নানামুখী কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। ১৯৯০-৯১ সময়কালে কুয়েতে ইরাকি অভিযানের পর মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি ও কূটনৈতিক বিব্রতকর অবস্থার পর এবং এরপর শুরু হওয়া উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারত সিদ্ধান্ত নেয় ইরাকের ওপর থেকে নির্ভরতা হ্রাস করতে এবং ওই অঞ্চলে বৃহত্তর অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করতে। সে অনুযায়ী তারা ১৯৯১ সালে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, ১৯৯০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানি ও মোহাম্মদ খাতেমির সময় ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করে।

এখন পর্যন্ত ভারতের বৈচিত্র্যময় সম্পর্ক ঠিকমতোই কাজ করছে। কাতারের সাথে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সম্পর্কের অবনতি সত্ত্বেও সব দেশেই তার নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে ভারত। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কটের ফলে ভারতীয় নাগরিকদের সমস্যা হয়েছে সামান্যই। অন্যান্য দেশ সমস্যায় পড়লেও ভারতের নিরপেক্ষতা তাদের সুবিধাই দিয়েছে।

সিরিয়া সঙ্কটে ভারতের নিরপেক্ষতার আরেকটি উদাহরণ হলো, তারা সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের দারুণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে দ্বিতীয় ইন্ডিয়া-আরব ডায়ালগ আয়োজনের জন্য নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করা যেতে পারে। এসে আরব লিগে সিরিয়ার আবার ফেরত আসা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। অবশ্য তা স্থগিত হয়ে যায় ইইউ-আরব লিগ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ব্রাসেলসে হওয়ার সূচি থাকায়। সেটি হবে ৪ ফেব্রুয়ারি। উপসাগরীয় দেশগুলো আশা করছে, সিরিয়াকে আরব লিগের মধ্যে শামিল করা গেলে দেশটির ওপর থেকে ইরানের প্রভাব হ্রাস পাবে। বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দামেস্কে দূতাবাস খুলে এ উদ্যোগের সূচনা করেছে।

ইসরাইল ও আরব উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ইরানের চাহাবার বন্দরে কৌশলগত অবস্থান সৃষ্টি করেছে ভারত। ৭ জানুয়ারি ভারত সরকার ঘোষণা করে, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া পোর্ট গ্লোবাল বন্দরটি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ওমান উপসাগরের কাছাকাছি ওই বন্দরটির মাধ্যমে পাকিস্তানকে এড়িয়েই আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় যেতে পারবে ভারত।

তবে অঞ্চলটির ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে তার সম্পর্ককে চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশগুলো, জর্দান, মিসর ও অনানুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলকে নিয়ে গঠিত মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স (এমইএসএ) ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান গড়ে তুলবে।

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জানুয়ারি বক্তৃতাকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ঘোষণা করেন এমইএসএ এই অঞ্চলের সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি (পড়ুন ইরান) মোকাবেলা করবে। তিনি ইসরাইলের সাথে বেশ কয়েকটি আরব দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন। তারা সম্প্রসারণবাদী ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে সম্ভাবনাময় মিত্র হিসেবে দেখছে।

অধিকন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জন সি স্টেনিসকে গত ডিসেম্বরে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করেছে। এটিও এ অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরতেই রণতরীটি সেখানে মোতায়েন করা হয়। তবে চাবাহার বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি ভারতের জন্য অনুকূল নয়। এতে ইরান হয়ে আফগনিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় যাওয়ার ভারতীয় পরিকল্পনায় জটিলতার সৃষ্টি হবে।

আবার সিরিয়া নিয়েও জটিলতা রয়েছে। এসব ঘটনা ভারতীয় অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। ভারত এ পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেবে তাই দেখার বিষয়।


আরো সংবাদ

স্মিথের বদলি লাবুশানে; টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার এখন ফ্যাসিস্ট মোদির হাতে : ইমরান খানের হুঁশিয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো ঘড়যন্ত্র করছে : আইনমন্ত্রী দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো একটি পরিবার, ঈদ আনন্দে বিষাদের ছায়া ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদক হতে ইচ্ছুক ১০৮ তরুণ নেতা মানিকগঞ্জে বেড়েই চলছে ডেঙ্গু রোগী সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গু রোগে আক্রন্ত কলেজ ছাত্রের মৃত্যু উপকূল সুরক্ষায় ৬৪২ কিলোমিটার সুপার ডাইক নিমার্ণের উদ্যোগ ছাগলের ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা খুন মদিনায় হাজীদের বহন করা বাস উল্টে ১ বাংলাদেশীর মৃত্যু

সকল




bedava internet