২০ আগস্ট ২০১৯

শিক্ষকদের কাছে জাতির প্রত্যাশা

শিক্ষকদের কাছে জাতির প্রত্যাশা - সংগৃহীত

জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের যে প্রক্রিয়া মানুষকে আলোকিত করতে সাহায্য করে, তাকেই শিক্ষা বলে। অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ যে ধারণা ও জ্ঞান অর্জন করে এবং ওই জ্ঞানের জ্যোতির দ্বারা নিজে আলোকিত হয় আর সমাজকে জ্যোতির্ময় করতে সহায়তা করে, শিক্ষা তাকেই বলা হয়। যে প্রক্রিয়ায় মানুষের মন-মনন, মানসিক উৎকর্ষ ঘটে; যার আচার-আচরণ, মন ও আত্মার ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ঘটায়; মেজাজ ও দৃষ্টিভঙ্গির সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন নিশ্চিত করে এমন কর্মপ্রক্রিয়াই শিক্ষা। আর শিক্ষক হচ্ছেন উল্লিখিত শিক্ষাপ্রক্রিয়াকে উৎসাহিত ও অনুপ্রেরণা দানকারী ব্যক্তি। তিনি সভ্যতার অভিভাবক ও সমাজের প্রতিনিধি।

শিক্ষক বলতে একজন আলোকিত, জ্ঞানী, গুণী ও বুদ্ধিদীপ্ত পণ্ডিত ব্যক্তিকে বোঝায়; যিনি কাক্সিক্ষত বিবর্তনের অনুঘটকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ সেবক, ব্যবসায়ী নন। তার সাফল্যের ভিত্তি হলো পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, চারিত্রিক গুণাবলি, জ্ঞান সঞ্চারণে সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টা। শিক্ষক বলতে এমন এক অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ববান জ্ঞানী, গুণী মানুষ বোঝায়, যিনি শিক্ষার্থীকে শিখনপ্রক্রিয়ায়, জ্ঞান অন্বেষণ ও আহরণে, মেধা বিকাশ ও উন্নয়নে, চরিত্র গঠনে, গুণাবলি বিকাশে এবং সমাজ বিবর্তনে অনুঘটক।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হচ্ছেন অন্য শিক্ষকদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাই তার দায়িত্বও বেশি। শিক্ষকদের কাছে সমাজের প্রত্যাশা অনেক। এ প্রত্যাশা যত পূরণ করতে পারবেন, সমাজও তত সম্মান শিক্ষকদের দেবে। সমাজের প্রত্যাশা, একজন শিক্ষক হবেন জ্ঞানতাপস, মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত, ব্যক্তিত্ববান, চৌকস, আন্তরিক পাঠদানকারী ও জ্ঞান বিতরণে আগ্রহী। তিনি সুবিচারক, সুপরীক্ষক, শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রক, যুক্তিবাদী, গবেষক ও উদ্ভাবক। তিনি সঠিক পথের দিশারী এবং পথপ্রদর্শক। শিক্ষক হবেন সরল, নির্মল হবেন, হবেন অকুতোভয় সত্যবাদী। সপ্রতিভ ব্যক্তিত্ববান, সমাজহিতৈষী, পরোপকারী এবং সমাজ সংস্কারক। শিক্ষক হবেন চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন, পরিশ্রমী, হাস্যোজ্জ্বল, সুপরামর্শক ও প্রাণবন্ত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

তিনি স্নেহশীল, আস্থাভাজন, চরিত্রবান, ধৈর্যশীল, প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষক। তার থাকবে স্বতঃস্ফূর্ত অঙ্গীকার। জ্ঞানসাধনায় হবেন সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে তৎপর এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রত্যয়ী। সাহসী, দৃঢ়প্রত্যয়ী, নির্মল, সৎ, মানবতাবাদী, ধার্মিক ও সমাজহিতৈষী। সমাজ যেহেতু একজন শিক্ষককে আলোকিত মানুষ হিসেবে দেখতে চায়, সে কারণে জ্ঞানী শিক্ষক সঙ্কীর্ণ মনের হবেন না, তোষামোদ করবেন না, নেশাদ্রব্য ধরবেন না, অসৌজন্যমূলক আচরণ করা থেকে বিরত থাকবেন, দলাদলি পরিহার করবেন, কপট নন তিনি, অসৎ সঙ্গ পরিহার করে চলবেন, নোংরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন, হালাল খাবার খাবেন। তিনি কখনো পক্ষপাতিত্ব করবেন না। অনৈতিক কোচিং ব্যবসায়ের সাথে জড়িত হবেন না।

দেশের কল্যাণ ভাবনা থেকে পিছিয়ে পড়বেন না। মেধা বিকাশে, অজ্ঞতা দূরীকরণে, মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে, নৈতিকতার উন্নয়নে, উদ্ভাবনী কাজে, গবেষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে থাকবেন তৎপর। তিনি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষক নন, তিনি সমাজের ও দেশের শিক্ষক। বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক বিধি দিয়েছে। কর্তব্য সম্পর্কে লিখিত বিধিবিধান রয়েছে। চাকরির শর্তাবলি বা চাকরিবিধি নামে প্রকাশিত অফিস আদেশগুলো পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা কর্তব্যও বটে। বলতে হয়, আমাদের দেশে শিক্ষক নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অভিযোগ আছে ঘুষ-দুর্নীতির। শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করার অভিযোগ তো আছেই। এসব শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জার বিষয়। শিক্ষকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, সব অনিয়ম-দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে তারা সুন্দর জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবেন।


লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা,

সাবেক কর কমিশনার ও চেয়ারম্যান;

ন্যাশনাল এফএফ ফাউন্ডেশন


আরো সংবাদ

bedava internet