১৫ অক্টোবর ২০১৮

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না - ছবি : নয়া দিগন্ত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক, ‘রাষ্ট্র প্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোনো আইনের দ্বারা তাহাকে প্রদত্ত ও তাহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন’। অবশ্য পরবর্তী ধারা অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) মোতাবেক রাষ্ট্রপতির সকল ক্ষমতা খর্ব করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এ কারণে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি শাহাব উদ্দিনের মতে, কবর জেয়ারত এবং মিলাদে অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্রপতির অন্য কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। তারপরও রাষ্ট্রপতিই রাষ্ট্রপ্রধান (সংবিধানে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকেই ‘রাষ্ট্র নায়ক’ উল্লেখ করে লেখা বক্তৃতার মঞ্চ, পোস্টার ও বিলবোর্ড প্রভৃতিতে দেখা যায়)। তিনি নাগরিকদের ঐক্যের প্রতীক যা জনগণ প্রত্যাশা করে এবং জনগণ এটাও প্রত্যাশা করে যে, রাষ্ট্রপতি যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে জনগণকে দল মত নির্বিশেষেÑ কাঠফাটা রোদে এক খণ্ড মেঘ ছায়া দিয়ে সান স্ট্রোক থেকে যেমনি রক্ষা করে তেমনি নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষকে তিনি ছায়া দিয়ে বাঁচাবেন।

১. তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি একজন নারী, যার বয়স ৭৩ বছর, কারাবন্দী অবস্থায় তার সুচিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতে এসে ধরনা দিতে হয় এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীসহ রাষ্ট্রীয় আইনজীবীরা জীবনকে বাজি রেখে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে যে, কার্য বিধির ৪৯৭ ধারার ‘শর্ত প্রভিশন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উক্ত শর্ত প্রভিশনে বলা হয়েছে, এই রূপ অপরাধে (অর্থাৎ জামিন অযোগ্য) অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ষোলো বছরের নি¤œ বয়স্ক বা স্ত্রী লোক বা পীড়িত বা অক্ষম হইলে আদালত তাহাকে জামিনে মুক্তি দেয়ার আদেশ দিতে পারিবেন।

০২. ঘটনা ঘটেনি এমন কাল্পনিক এজাহার করে রাষ্ট্রীয় কর্মচারী (পুলিশ) প্রতি থানায় এক মাসে ২৫-৩০-৪০ মৃত্যুদণ্ড হতে পারে এমন ধারায় (বিশেষ ক্ষমতা আইন’ ১৯৭৪ এর ১৫(৩) ধারা) মামলা রুজু করে এবং সেই মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্মচারী পুলিশকে ভালোভাবেই টু-পাইস কামানোর সুযোগ করে দেন, পত্রিকার ভাষায় যা গায়েবি মামলা এবং হাইকোর্টের ভাষায় বর্ণিত মামলায় ‘পুলিশের ইমেজ ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে।

০৩. জাতীয় নির্বাচন আসন্ন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা যখন হাইকোর্ট, জজ কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বারান্দায়, সেখানে সরকারি দল রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্বাচনী প্রচারণায় দেশ চষে বেড়াচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের অভিভাবকের তথা রাষ্ট্রপতির ন্যূনতম কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় একজন সচেতন নাগরিকের অবচেতন মনেই আস্থা-অনাস্থার বিষয়টি ঘুরপাক খেতেই পারে এবং হওয়াটাই অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু গত ৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর হিসেবে তার প্রদত্ত ভাষণে তিনি দেশে চলমান অবস্থা, সামাজিক অবক্ষয়, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ও জাতীয় রাজনীতিতে আমলাতান্ত্রিক নোংরা প্রভাব, দুর্বৃত্তায়ন ও অনাচার প্রভৃতি সম্পর্কে সঠিক চিত্র তুলে ধরেছেন, যার জন্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো: আবদুল হামিদকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না।

তিনি সাদামাটা আঞ্চলিক ও প্রাঞ্জল ভাষায় বলেছেন, ‘এখন রাজনীতি হয়ে গেছে গরিবের বউয়ের মতো। এখানে যে কেউ, যেকোনো সময় ঢুকে পড়তে পারে। কোনো বাধাবিঘ্ন নেই। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের লেকচারার হইতাম চাই, নিশ্চয়ই ভিসি সাহেব আমারে ঢুকাইবেন না বা আমি যদি কোনো হাসপাতালে গিয়া বলি, এত দিন রাজনীতি করছি, হাসপাতালে ডাক্তার করার লাইগ্যা দেও। বোঝেন, অবস্থাটা কী হবে? কিন্তু রাজনীতি গরিবের ভাউজ, সবাই ইঞ্জিনিয়ার কইন আর ডাক্তারই কইন, এই ভিসি সাবও ৬৫ বছর হইলে কইব, ‘আমিও রাজনীতি করুম।’ যারা সরকারি চাকরি করে, জজ সাবরা যারা আছে, ৬৭ বছর চাকরি করব। রিটায়ার্ড কইরা কইব, ‘আমিও রাজনীতি করিব।’ আর্মির জেনারেল অয়, সেনাপ্রধান অয়, অনেকে রিটায়ারমেন্টে গিয়েই কয়, ‘আমিও রাজনীতি করিব।’ সরকারি সচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, কেবিনেট সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারি প্রত্যেকেই রিটায়ার কইরা বলে, ‘আমি রাজনীতি করিব।’ এটার কোনো রাখঢাক নেই, কোনো নিয়মনীতি, বালাই নেই। যে ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা তখনই রাজনীতিতে ঢুকছে।

ডাইরেক্ট রাজনীতির মধ্যে আইসা তারা ইলেকশন করবে, মন্ত্রী হয়ে যাবে, এটা যেন কেমন-কেমন লাগে। যার জন্যই আমার মনে হয়, আমাদের দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে না। এমনকি পুলিশের অনেক ঊর্ধ্বতন ডিআইজি, আইজিরাও রাজনীতি করে। আবার মনে মনে কই, আমরা রাজনীতি করার সময় এই পুলিশ তোমার বাহিনী দিয়া কত পাছার মধ্যে বাড়ি দিছ। তুমি আবার আমার লগে আইছ রাজনীতি করতা। কই যামু। রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে। এই যে রাজনীতিবিদদের সমস্যা, এই সমস্যার কারণও এটা। বিজনেসম্যানরা তো আছেই।

শিল্পপতি-ভগ্নিপতিদের আগমন এভাবে হয়ে যায়। কী করবেন। এগুলো থামানো দরকার। অন্যান্য পেশায় চাইলেই যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও রাজনীতিতে তা আছে। যে কারণে সবাই চাকরি শেষ করে রাজনীতিতে ঢুকতে চায়। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।’ রাষ্ট্রপতি কোনো প্রকার রাখঢাক না রেখেই রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের কথা বলেছেন। রাজনীতিকে ব্যাংক লুটেরা, জনগণের অধিকারহরণকারী আমলাদের দুর্বৃত্তায়নের কারণে মাঠকর্মী, ত্যাগী-পরীক্ষিত রাজনীতিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় জাতীয় সংসদ এখন ‘কোটিপতিদের ক্লাব’ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা যারা মানুষের ওপর নির্যাতন করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন, যারা দুদকের ধরাছোঁয়ার বাইরে, তাদের সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি যে মন্তব্য করেছেন, এর মধ্য দিয়ে অনেক ব্যর্থতার মধ্যে জাতির সামনে একটি কঠিন সত্য উন্মোচিত হয়েছে। আবার বলছি, তিনি বলেছেন, ‘এমনকি পুলিশ অনেক ঊর্ধ্বতন ডিআইজি, আইজিরাও রাজনীতি করে। আবার মনে মনে কই, আমরা রাজনীতি করার সময় এই পুলিশ তোমার বাহিনী দিয়া কত পাছার মধ্যে বাড়ি দিছ। তুমি আবার আমার লগে আইছ রাজনীতি করতা, কই যামু।’

রাষ্ট্রপতির এই আক্ষেপ ও অভিযোগ দল-মত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক কর্মীর মনের আবেগ ও উৎকণ্ঠা বলে মনে করি। বাস্তবচিত্রই তিনি তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রপতি ‘পাছায়’ বাড়ি দেয়ার কথা বলেছেন, তিনি যদি গায়েবি মামলার শিকার হয়ে থাকতেন, তবে এ সম্পর্কেও হয়তো কথা বলতেন। ‘গায়েবি’ ও ‘মিথ্যা’ মোকদ্দমা এক কথা নয়। পুলিশ পূর্বে মিথ্যা মোকদ্দমা দিত এবং এখন কল্পনাপ্রসূত মামলা দেয়। এ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি নিশ্চয় অবগত রয়েছেন, কিন্তু মন্তব্য করেননি। তবে রাষ্ট্রের অভিভাবকের কাছে ‘গায়েবি’ মামলা সম্পর্কে প্রতিকারের আশা না করলেও এ ব্যাপারে মন্তব্য প্রকাশিত হলে জনমনে আশার সঞ্চার হতো।
আমলারা রাজনীতির মনোবাসনা নিয়ে প্রশাসন চালান বলেই প্রশাসনে স্বচ্ছতা নেই, বরং গ্রুপিং সৃষ্টি করে অনেক এলাকায় বঞ্চিত করা হয়েছে। একটি রাষ্ট্র যখন আমলা, পুলিশ, ব্যাংক লুটেরা, ভূমিদস্যুদের কাছে জিম্মি হয়ে যায়, তখনই রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয় দেশের জনগণ, যারা সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭ মোতাবেক এ দেশের মালিক।

ফলে দেশের সব সম্পদ মুষ্টিমেয় লোকের একটি শ্রেণীর কাছে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। সরকারি আমলাদের সীমাহীন সম্পদ বিদেশের ব্যাংকে জমা হচ্ছে। কুয়াকাটা ও কক্সবাজার সি বিচের কাছে অনেক সম্পত্তির মালিক আমলারা। পুলিশকে হাতিয়ার করেই সরকার গায়েবি মামলা ও বিনা কারণে গ্রেফতারের সংস্কৃতি চালুর মাধ্যমে গোটা সমাজের প্রতিবাদের মুখে তালা লাগানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। এ নাটকের যবনিকা কিভাবে হতে পারে, তার পূর্বাভাস এখনই দেয়া যাচ্ছে না। তবে বর্তমান সরকারের জন্য এটা বুমেরাং হবে। জাতীয় সংসদের নির্বাচন আসন্ন। সরকারি অর্থ, গাড়ি ও পতাকা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার চালানো হচ্ছে পুলিশ ও আমলাদের নগ্ন সহযোগিতায়। অন্য দিকে, প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারপারসন একটি ঠুনকো মামলায় অসুস্থ হয়ে জামিনবিহীন অবস্থায় রয়েছেন, যা শুধু ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থাহীনতা নয়, বরং সভ্যতার একটি মারাত্মক কলঙ্ক। আস্থাহীনতায় ফেলে দেয়া বিচার বিভাগকে জনগণের আস্থায় আনার জন্য রাষ্ট্রপতির ভূমিকা একটি মাইলফলক হতে পারে।

রাজনীতিতে গুণগত মান ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। রাজনীতিতে গুণগত মান আর নেই। টেন্ডার বাণিজ্য, রিমান্ড বাণিজ্যের মতোই রাজনৈতিক অঙ্গনে কমিটি বাণিজ্য, পদবাণিজ্য, নমিনেশন বাণিজ্য নামক ইত্যাদি কথার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও উপেক্ষিত হচ্ছেন চোঙা ফুঁকানো, মাঠ থেকে উঠে আসা তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। অন্য দিকে লাভবান হয়েছে তারা যাদের চরিত্র বা নীতি বলতে কোনো কিছু নেই। বরং মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলার মতো ওঁৎ পেতে থাকে, কাকে কখন ল্যাং মেরে নিজে চেয়ারে বসতে পারে। নীতি আদর্শ ও ত্যাগের কোনো বালাই নেই; চেয়ারটি হলেই হলো; ডান কী বাম, উত্তর কী দক্ষিণ, কোনো বাছ-বিচারের বালাই নেই। নেশা শুধু জনগণকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সম্পদের পাহাড় জমিয়ে টাকা দিয়ে জনগণকে বাঁদর নাচের মতো নাচানো। দেশে রাজনীতির যদি গুণগত মান থাকত বা বিন্দুমাত্র চলনসই রাজনীতি থাকত, তাহলে ৭৩ বছর বয়সে অসুস্থ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়াকে একটি পরিত্যক্ত কারাগারে দিন যাপন করতে হতো না।

রাজনীতির গুণগতমান বৃদ্ধিসহ সুস্থ ধারার রাজনীতি চালু করতে দল মত নির্বিশেষে সব রাজনীতিবিদকেই এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের সহযোগিতাও দরকার। তারাও আর কতদিন বান্দর নাচের মতো নাচবেন, কেউ কিছু পেয়ে, আর কেউ কিছুই না পেয়ে। আইন ও নৈতিকতা এক বিষয় নয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নিজেকে ‘নির্বাচিত’ দাবি করে সুবিধামতো আইন প্রণয়ন করে নিজ ইচ্ছামাফিক দেশ শাসন করছে। কিন্তু নৈতিকতার মাপকাঠিতে এই সরকার কি নির্বাচিত? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-কে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায়’ বলে জাতিসঙ্ঘ মন্তব্য করেছে। আইনটিকে অনুমোদন না করার জন্য সাংবাদিক মহল রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তাদের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে ০৯-১০-২০১৮ তারিখে বিলটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হলো! এ অবস্থায়, নৈতিকতা নিয়ে যদি প্রশ্ন তুলি, তবে কতটুকু অগ্রসর হওয়া যাবে? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যদি গণতন্ত্রের পরিপন্থী হয়, তাহলে বর্ণিত আইনটি কালো না সাদা আইনের পর্যায়ভুক্ত হবে?

রাজনীতিতে সুস্থ ধারা বা গুণগত মান বৃদ্ধি না পাওয়ার পেছনে জনগণের একাংশের দায় কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হতে হতে জনগণের একটি অংশ ‘নগদ যা আছে তা হাত পেতে নাও বা বাকি শূন্যের খাতা থাক’ এই নীতিতে যখন চলছে তখন রাজনীতির গুণগত মান উন্নত হবে না বরং বঞ্চিত হবে জনগণ। জনগণের একটি অংশ নির্বাচন এলে আদর্শ ও নীতিবান প্রার্থী খোঁজে না। তাদের টার্গেট থাকে লুটেরারা যারা জনগণের টাকা লুট করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ কেউ ঢোক গিলে আত্মতৃপ্তি পায়, আর ভুলে যায় নীতি ও আদর্শের কথা। রাজনৈতিক দলগুলো শুধু ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার অনুশীলন করবে, কিন্তু আত্মমর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সচেষ্ট থাকবে না- তা হতে পারে না। এর অবসান না হলে স্বাধীনতার চেতনা অর্থহীন হয়ে যাবে।

লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (আপিল বিভাগ)
taimuralamkhandaker@gmail.com


আরো সংবাদ