film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indirEzhel mp3 indir, Ezhel albüm şarkı indir mobilhttps://guncelmp3indir.com Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সমকামিতার বৈধতা ও উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপট

সমকামিতা
আসলে সমকামিতা কোনো কামাচার নয়, বরং রুচিবিকৃতির নিকৃষ্টতম পর্যায়। - ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে সমকামিতাকে বৈধতা দিয়েছেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী অস্বাভাবিক যৌনতা একটি অপরাধ। ১৮৬১ সালের আইন অনুযায়ী, এ অপরাধে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে এই আইন কার্যকারিতা হারিয়েছে। আবেদনকারীদের পক্ষে বলা হয়েছে, ১৮৬১ সালের ৩৭৭ ধারা সংবিধানের মূল ধারার বিরোধী ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্টের এক আদেশে ৩৭৭ ধারা বাতিল করে দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সমকামিতা এতদিন অবৈধই ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ আদেশে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অবৈধ ঘোষণায় সমকামিতা আইনগত বৈধতা পেল।

মূলত কথিত পশ্চিমা সভ্যতার বিকারগ্রস্ততা থেকেই সমকাম নামক ফেতনার আবির্ভাব হয়েছে। দ্বৈত যৌনজীবন একটি স্বীকৃত ও স্বাভাবিক মাধ্যম হলেও রুচিবিকৃতির কারণেই যৌনতাকে নানা অপবিশেষণ দেয়া হয়েছে। ০১. এধু বা পুরুষ সমকামী, ০২. খবংনরধহ বা নারী সমকামী, ০৩. ঝযধসধষব বা হিজড়া, ০৪ ইরংবীঁধষ বা দ্বৈত যৌনজীবন। এর মধ্যে চতুর্থ দফা স্বীকৃত ও অতিপ্রাকৃত। অন্যগুলোকে যৌনাচার বলে স্বীকার করার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, যারা নিজেদের সমকামী বলে দাবি করেন, তাদের বেশির ভাগই তথাকথিত সমকামী নন, বরং এদের বেশির ভাগই উভকামী। তারা বিয়ে করে সন্তান-সন্ততিও গ্রহণ করেন। কিন্তু বিকৃত মানসিকতাকে চরিতার্থ করতেই নিজেদের সমকামী হিসেবে পরিচয় দেন। যার কোনো ন্যায্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না।

মূলত সব বিষয়ে যেমন স্বাভাবিক ও স্বীকৃত পন্থা আছে, ঠিক তেমনি যৌনতাও সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই সংবিধিবদ্ধ। অনেকে সমকামিতাকে মানবাধিকারের সাথে গুলিয়ে ফেললেও তা কোনো বিচারেই গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না। সমকামিতাকে যদি মানবাধিকার বলা হয়, তাহলে ড্রাগ নেয়া, আত্মহত্যা ও নিজ শরীরের যেকোনো ক্ষতিসাধনকেও বৈধতা দিতে হবে। কারণ, সমকামিতা যেমন অন্যের অধিকার লঙ্ঘন বা ক্ষতি করে না, ঠিক তেমনি ড্রাগ গ্রহণ, আত্মহত্যা বা নিজের শরীরের ক্ষতিসাধনও ব্যক্তিসংশ্লিষ্ট। এতে অন্যের ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

আসলে সমকামিতা কোনো কামাচার নয়, বরং রুচিবিকৃতির নিকৃষ্টতম পর্যায়। কারণ, এতে অতিপ্রাকৃত নিয়মের লঙ্ঘন করা হয়। মানুষসহ প্রত্যেক জীবের জৈবিক প্রবৃত্তি নিবৃতির জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক পন্থা রয়েছে। বস্তুত বিপরীত লিঙ্গের প্রতি শুধু মানুষ নয়, সব জীবই আকর্ষণ অনুভব করে। আর এভাবেই সৃষ্টির ধারাবাহিকতাও রক্ষিত হচ্ছে। মজার বিষয় হলো- মানুষ রুচিবিকৃতির কারণে বিপরীত লিঙ্গের পরিবর্তে সমলিঙ্গে আকর্ষণ অনুভব করলেও কোনো ইতর প্রাণীকে এমনটা কখনো দেখা যায়নি। যদিও সমকামিতার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে কেউ কেউ ইতর প্রাণী বিশেষের সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের কল্পকাহিনী প্রচার করে থাকেন। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ ও যৌক্তিকতার মানদণ্ডে তা গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব হয়নি।

সমকামিতাকে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কোনো পুরুষ, নারী বা জন্তুর সাথে প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সহবাস করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

এই লেখাকে ধর্মতাত্ত্বিক বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসেও মানবজীবনে ধর্মের প্রভাব একটুও কমেনি। কেউ কেউ নিজেদের নাস্তিক দাবি করেন, ধর্মের অসারতা নিয়ে অনেক বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক যুক্তিও দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের বেশির ভাগের জীবনই ধর্মের প্রভাবমুক্ত নয়। বিয়ে করেন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে। আবার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যটাও ধর্মীয় বিধানেই। ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মের শেকড়টা আরো অনেক গভীরে। তাই যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছার আগে আর্র্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক প্রভাব বিবেচনায় আনা জরুরি। মূলত উচ্চ আদালতগুলো শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবও রয়েছে। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সমকামিতা বিষয়ক রায়ে এ বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষে ধর্মীয় অনুভূতিকে মোটেই বিবেচনায় আনা হয়নি। খুব সঙ্গত কারণেই সমকাম নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রধান প্রধান ধর্মের অবস্থান আলোচনা করা দরকার।

ইসলামে সমকাম বা হোমসেক্সয়ালিটি পুরাপুরি অবৈধ বা হারাম। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে হজরত লুত আ:-এর কওমকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন যেসব কারণে, এর মধ্যে সমকামিতা ছিল অন্যতম। আল কুরআনে সমকামিতাকে নিকৃষ্টতম পাপাচার ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘এবং আমি লুতকে পাঠিয়েছি। যখন তিনি স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি? তোমরা তো কামবশত পুরুষদের কাছে গমন করো নারীদের ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।’ (সূরা আরাফ ৭ : ৮১-৮২)

‘সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সাথে কুকর্ম করো? এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্য সঙ্গিনী হিসেবে যাদের সৃষ্টি করেছেন, তাদের বর্জন করো? বরং তোমরা সীমা লঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’ (সূরা শুয়ারা ২৬ : ১৬৫-১৬৬)

হাদিসে রাসূল সা: এ সমকাম অপরাধ বিষয়টি খুবই সুস্পষ্ট। ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘অভিশপ্ত সে, যে কিনা কোনো পশুর সাথে কামাচার করে, আর অভিশপ্ত সে, যে কিনা সেটা করে যা লুতের সম্প্রদায় করত।’ (আহমাদ : ১৮৭৮)

উল্লেখ্য, ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, হজরত লুত আ:-এর কওমের লোকেরা সমকামী ছিল। আর এ জন্যই তাদের ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

হিন্দু ধর্মেও সমকামিতা অপরাধ। মনুস্মৃতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের আইনশাস্ত্র। মনুসংহিতার অষ্টম অধ্যায়ের ৩৬৯ এবং ৩৭০ নম্বর ছত্রে দু’জন নারীর মধ্যে সমকামিতা সংঘটিত হলে কী শাস্তি হবে তার উল্লেখ আছে। যদি দুই কুমারীর মধ্যে সমকামিতার সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাহলে তাদের শাস্তি ছিল ২০০ মুদ্রা জরিমানা এবং ১০টি বেত্রাঘাত।

যদি কোনো বয়স্কা নারী অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নারীর (কুমারীর) সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তাহলে বয়স্কা নারীর মস্তক মুণ্ডন করে দুটি আঙ্গুল কেটে গাধার পিঠে চড়িয়ে ঘোরানো হবে’ (অনুসংহতি অধ্যায় ৮, ৩৭০ নম্বর সূত্র)।

দু’জন পুরুষ অপ্রাকৃতিক কার্যে প্রবৃত্ত হলে তাদের জাতিচ্যুত করা হবে এবং জামা পরে তাকে জলে ডুব দিতে হবে (জনসংহতি অধ্যায় ১১, সূত্র ১৭৫)।

বৌদ্ধ ধর্মেও সমকামিতাকে বৈধতা দেয়া হয়নি। ত্রিপিটকের ভাষ্যমতে, অতীত কর্মের কারণেই জন্মগতভাবে তাদের সমকামিতার মানসিকতা সৃষ্টি হয় (মহাবর্গ অ.১০৫)। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, হরমোন ও জিনগত কারণেই জন্মগতভাবে এরকম মানসিকতা তৈরি হয়। যদিও কেন হরমোন ও জিনগুলো সেরকম অস্বাভাবিক আচরণ করে, বিজ্ঞান তার কোনো উত্তর দিতে পারে না।
অথচ বৌদ্ধধর্ম সেটার কারণও নির্দেশ করে দিয়েছে এই বলে, সেটা হচ্ছে তাদের পূর্বকৃত কর্মের ফল।

খ্রিষ্টধর্মেও বলা হয়েছে, সমকামিতা এক ধরনের পাপ (আদি পুস্তক-১৯ : ১-১৩; লেবিয়-১৮ : ২২; রোমীয়-১;২৬-২৭; ১ করিন্থীয়-৬ : ৯) রোমীয় ১:২৬-২৭ পদ সুনির্দিষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, ঈশ^রের অবাধ্য হওয়া এবং তাকে অস্বীকার করার ফলে সমকামীদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। লোকেরা যখন অবিশ্বাসের কারণে পাপ করতেই থাকে, তখন ঈশ্বর ‘লজ্জাপূর্ণ কামনার হাতে’ তাদের ছেড়ে দেন যেন তারা আরো জঘন্য পাপে ডুবে যায় এবং ঈশ্বরের কাজ থেকে দূরে থাকার ফলে নিষ্ফল ও নৈরাশ্যের জীবন অনুভব করতে পারে। ০১, করিন্থীয় ৬ : ৯ পদে বলা হয়েছে, যারা সমকামিতায় দোষী তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকার পারে না। পবিত্র বাইবেলে বলা হয়েছে, লোকেরা পাপের কারণে সমকামী হয় (রোমীয়-১ : ২৪-২৭)

সমকামিতার সাথে জীববিজ্ঞান কী তা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, সমলিঙ্গের প্রতি যৌনাকর্ষণের পেছনে সামাজিক নির্ণায়ক ও জীববৈজ্ঞানিক উভয়বিধ কারণ যুগপৎভাবে সক্রিয়। মানুষের স্বভাব গঠনে ক্রিয়াশীল জিন ও হরমোন এবং সামাজিক নির্ণায়কগুলো মিশ্রিতভাবে এই যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণ করে থাকে বলে বিজ্ঞানীরা মত দিয়েছেন।

যৌন অভিমুখিতা ব্যাখার ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো বেশ জনপ্রিয়। এতে বংশানুক্রমিক বিষয়ের জটিল অন্তক্রিয়াসহ মস্তিষ্ক এবং মাতৃগর্ভকালীন প্রাথমিক জীবনের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা করা হয়। এই বিষয়গুলো জিন, জন্মপূর্বে মাতৃগর্ভে হরমোন এবং মস্তিষ্কের গঠনের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং ব্যক্তির বিষমকামী, সমকামী, উভকামী ও নিষ্কামী যৌন-অভিমুখিতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

বিংশ শতাব্দীজুড়ে, মনোবিজ্ঞানের সাধারণ মানদণ্ড অনুযায়ী রোগনির্ণয়ক আদর্শগুলোর পরিভাষায় সমকামিতাকে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে দেখা হতো। পরবর্তীতে গবেষণাগুলো যখন এই সিদ্ধান্ত সঠিক কি-না তা পরীক্ষা করা শুরু করে; তারা এর সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণাদি হাজির করতে ব্যর্থ হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আচরণিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের বহু অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ একে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে গ্রহণ করার মাঝে আবদ্ধ থাকেন। পরবর্তীতে, অনেকেই এই সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে দাবি করতেন এবং মানসিক অসুস্থতার ডিএসএম নির্দেশিকার সংজ্ঞায়নেও প্রচলিত প্রভাবশালী সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা-ভিত্তিক বিশ্বাস, পুনর্বাসন সংস্থা ও অপরাধমূলক আইনি বিচার-সংস্থাগুলোর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

১৯৭০-এর পর থেকে, বিশ্বজুড়ে বহু স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং আচরণগত-সমাজবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ সমকামিতাকে মানব যৌন অভিমুখিতার একটি স্বাস্থ্যকর প্রকরণ হিসেবে দেখেন, যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ একে অসুস্থতা হিসেবে বহাল রাখেন। ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মনোরোগ সংস্থা সমকামিতাকে অসুস্থতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়। মার্কিন মনোচিকিৎসক সমিতির প্রতিনিধি কাউন্সিল ১৯৭৫ সালে এবং এরপর অন্যান্য স্বাস্থ্য ও মনোস্তত্ব বিষয়ক বৃহত্তর সংস্থাগুলো ওই নতুন সংজ্ঞা অনুসরণ শুরু করে, যার মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯০ সালে মানসিক বিকৃতির তালিকা থেকে সমকামিতাকে বাতিল করে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমকামিতা কোনো মানসিক ব্যাধি নয়। কয়েক দশক ধরে গবেষণা ও ক্লিনিকের অভিজ্ঞতার ফলে প্রধান প্রধান স্বাস্থ্য ও মনোস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এসব প্রবৃত্তি মানুষদের স্বাভাবিক যৌনতার একটি ভিন্ন প্রকরণ মাত্র।
মূলত সমকামিতাকে বৈধতা দেয়ার পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। কোনো কোনো গবেষক সমকামিতাকে স্বাভাবিক যৌনাচার ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে এই নষ্টামির পালে হাওয়া দিচ্ছেন। অথচ মানব দেহের গঠনতত্ত্ব অনুযায়ী সমকামিতা একেবারেই অস্বাভাবিক। মানুষের শরীরের গঠনটাও এমন যে, একজন পুরুষ ও একজন নারীই কেবল সুষ্ঠু ও সাবলীল যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। জীবজিজ্ঞানও নারী-পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে স্বাভাবিক সম্পর্ক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। নারী ও পুরুষের মিলনের মাধ্যমেই কেবল সন্তান জন্ম নেয়।

সমকাম যে স্বাস্থ্যসম্মত নয়, তাও বিভিন্ন গবেষণায় ওঠে এসেছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, ‘...সমকামীদের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পর্ক অ্যানাল সেক্সের সাথে সম্পর্কিত। অস্বাভাবিক বা বিকল্প পন্থায় যৌনাচার করা হলে তা ভাইরাস সৃষ্টিতে সহায়ক হয়। ...শারীরিক ক্ষতিসাধনে সমকামী পুরুষদের যৌনাচারের প্রকৃতি উল্লেখযোগ্য। যা পেনাইল-অ্যানাল, মাউথ-প্যানাইল, হ্যান্ড-অ্যানাল এমনকি মাউথ-অ্যানাল সম্পর্ক আন্ত্রিক জীবাণুর মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করতে খুবই সহায়ক হয়। ... ক্ষত থেকে শরীরের ভেতরে জীবাণু প্রবেশ করে এবং অ্যানো-জেনিটাল সিফিলিসটিক আলসারের সৃষ্টি হয়। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়।

মূলত ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা অনেকটা আবেগতাড়িত হয়েছে সমকামিতাকে বৈধতা দিয়ে রায় দিয়েছেন। এখানে আর্থ-সামাজিক, আন্তঃরাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় ও জনমতের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আনা হয়নি। বিবেচনায় আনা হয়নি উপমহাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি। আমরা লক্ষ করেছি, যেসব মামলার বিষয়বস্তু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সম্পৃক্ত সেসব বিষয়ে ধর্মীয় স্কলারদের মতামত গ্রহণ করার রেওয়াজ রয়েছে। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে মুসলিম পুরুষদের বহুবিয়ে ও তালাক বিষয়ক মামলায় ইসলামিক স্কলারদের মতামত গ্রহণের দৃষ্টান্ত রয়েছে। বাংলাদেশের উচ্চ আলাদত ফতোয়া বিষয়ক মামলায় দেশের খ্যাতনামা আলেমদের মতামত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ভারতের সমকাম বিষয়ক সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোনো ধর্মের বিশেষজ্ঞে মতামত নেয়া হয়নি।

সমকাম বৈধতা বিষয়ক ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পুরো উপমহাদেশেরই একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, কোনো দেশের উচ্চ আদালতের রায় একই বিষয়ে ভিন্নদেশে নজির হিসেবে গ্রহনের রেওয়াজ রয়েছে। যদিও তা বাধ্যতামূলক বা নয়। তবু আমাদের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমকামিতার অধিকার চেয়ে মামলা করা হয় তাহলে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায় সে মামলায় নজির হিসেবে নেয়া হতে পারে। এর আগে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বিয়ে বহির্ভূত বসবাসকেও বৈধতা দিয়েছিল। তাই ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ধারাবাহিক রায় উপমহাদেশের জনজীবনে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা মোটামোটি নিশ্চত করেই বলা যায়। তাই মামলার রায় আবারো রিভিউ হওয়া জরুরি বলে মনে করেন আত্মসচেতন মানুষ।

[email protected]


আরো সংবাদ