২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গণতন্ত্রের আর্তনাদ ও জনতার লালকার্ড

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একটি দৃশ্য - ফাইল ছবি

‘এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’ জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় সঙ্গীতের কথাগুলোই যে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাবে, তা কখনোই ভাবা হয়নি। সত্তরের দশকের শেষের বিশেষ প্রেক্ষাপটেই গানটি রচিত হলেও সে প্রেক্ষাপট এখন নেই। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই তা আমাদের জন্য এত জীবনঘনিষ্ঠ এবং আবেদনময় হবে, তা আগে কল্পনা করা যায়নি। গানের কথায় বন্দিত্ব অবসানে পিঞ্জর ভাঙার একটা আকুতি প্রকাশ পেয়েছে, যা আমাদের কল্পনার রাজ্যে নিয়ে গেছে। কিন্তু তা সেখানে স্থির থাকেনি। আমরা স্বাধীনতাও অর্জন করেছি। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের শিকে ছেড়েনি, বরং গানের কথাগুলো এখন আমাদের জাতীয় জীবনের চলমান প্রতিচ্ছবির সাথে একাকার হয়ে গেছে। দেশে সুশাসন, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পিঞ্জরাবদ্ধ করা হয়েছে। আর্তনাদ ও আহাজারিতেও তার প্রতিকার মিলছে না।

প্রত্যেক জাতির স্বাধীনতার চেতনা হচ্ছে শৃঙ্খলমুক্ত হওয়া। সে আরাধ্য স্বাধীনতা আমরাও অর্জন করেছি। কিন্তু তার ফসল পুরোপুরি ঘরে তুলতে পারিনি, বরং শৃঙ্খলমুক্ত হওয়ার পরিবর্তে ক্রমেই শৃঙ্খলিত হচ্ছি। আমাদের সব আবেগ-অনুভূতি, বোধ-বিশ্বাস, অনুরাগ-বিরাগ, বিবেক-মূল্যবোধ সবই এখন খাঁচায় বন্দী হয়ে পড়েছে। মুক্তি মিলছে না কোনোভাবেই। প্রতিনিয়ত মুক্তির বাণী শুনানো হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সব কিছুই ‘আষাঢ়ে গল্প’ আর ‘রঙিন ফানুস’ এর মতোই শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই করুণ অসহায়ত্ব ও আর্তনাদ অনেকটা আরাধনা ও আহাজারিনির্ভর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশের আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু এই বন্দিত্ব থেকে মুক্তির আশু কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

আমরা শৃঙ্খলমুক্তির জন্যই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এ জন্য আমাদের চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। কিন্তু মানসিক দাসত্বমুক্ত না হতে পারলে শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতায় যে জাতিকে মুক্ত করতে পারে না তা আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে আবারো প্রমাণিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর আশা করা হয়েছিল, দেশে উদার গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে; কিন্তু আমাদের সে আশায় গুড়েবালি পড়তে চলেছে। এসব এখন ‘ধর হে লক্ষণ’ এর মতো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

যে গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য আমরা মরণপণ লড়াই করেছিলাম, নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও মূল্যবোধ বিমুখতার কারণেই তা পরিশীলিত হওয়া দূরের কথা, তা আঁতুড় ঘরেই অপমৃত্যুর প্রহর গুনছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে শিশু গণতন্ত্রকে যেভাবে পরিচর্যা, পরিপুষ্ট ও লালন করা প্রয়োজন ছিল, সে কাজটা আমরা যথাযথভাবে করতে পারিনি। বরং হাত-পা কেটে শৈশবেই গণতন্ত্রকে বিকলাঙ্গ করে রঙ্গমঞ্চের বামন বানানো হয়েছে। ফলে গণতন্ত্র এখন শ্রেণীবিশেষের আত্মবিনোদনের জন্য সহায়ক হলেও দেশ ও জাতির জন্য তেমন কাজে আসছে না। যারা এই হস্ত-পদহীন বিকলাঙ্গ গণতন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করছে, তাদের সাথে জনগণের সম্পর্কটাও একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের। মূলত এখন শুধু নামটা ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে তা এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে। কৃত্রিমভাবে হৃৎস্পন্দন চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের স্বার্থে এই স্পন্দন স্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে না। কারণ, গণতন্ত্রের পূর্ণ অবয়ব না হলেও হৃৎস্পন্দনটা শ্রেণী বিশেষকে মোহাবিষ্ট করে রেখেছে। তাই গণতন্ত্র মৃত্যুযন্ত্রণায় আর্তনাদ করলেও তা কারো কাছেই আমল পাচ্ছে না।

কালজয়ী কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দোপাধ্যায়ের প্রাগৈতিহাসিক গল্পের পাঁচী-বশীর জুটি যেমন তাদের ভিক্ষাবৃত্তির বেসাতি হিসেবে পাঁচীর পায়ের ঘা বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করত, ঠিক আমাদের দেশের রাজনৈতিক ময়দানের পাঁচী-বশীররা মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। পায়ের ঘাকে উপলক্ষ করে গল্পের পাত্র-মিত্ররা যেমন জঠরজ্বালা নিবারণ করত, ঠিক তেমনি রাজনৈতিক ক্ষুণিœবৃত্তি নিবারণের জন্যই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও চলৎশক্তিহীন গণতন্ত্রের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে না। শুধু বহিরাভরণ প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এর সাথে সাধারণ মানুষের স্বার্থের সম্পর্ক একেবারেই গৌণ। মুখ্য হচ্ছে- ময়দানের পাঁচী আর বশীরদের ক্ষুণিœœবৃত্তি আর জঠরজালা।

সাংবিধানিকভাবে আমাদের দেশ একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাই শাসনব্যবস্থায় জনগণের রুচি-অভিরুচির প্রতিফলন ঘটবে, এটাই কাক্সিক্ষত। কারণ, গণতন্ত্র বলতে কোনো জাতিরাষ্ট্রের এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিক বা সদস্যের সমান ভোটাধিকার থাকে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরির ক্ষেত্রে সব নাগরিকের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ‘গণতন্ত্র’ পরিভাষাটি সাধারণভাবে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হলেও অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে; কিন্তু আমাদের দেশের কোনো ক্ষেত্রেই গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলতে যা বোঝায়, তার স্বাভাবিক চর্চা প্রায় অনুপস্থিত।

আমাদের দেশে যে ধরনের গণতন্ত্রের চর্চা চলছে, তাতে শাসনক্ষেত্রে জনমতের প্রতিফলন ঘটছে না। বরং ক্ষেত্রবিশেষে গণবিরোধিতায় এখন আমাদের সমাজ-রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। দেশে সুস্থ ধারার গণতন্ত্র চর্চার জন্য যখন রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের কল্যাণে কাজ করা ও গণসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে হচ্ছে তার পুরোপুরি উল্টো। রাজনীতিকেরা এখন জনগণনির্ভরতার পরিবর্তে বিদেশনির্ভর হয়ে পড়েছেন। তারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য জনগণের কাছে না গিয়ে সামন্তবাদী মানসিকতায় প্রভুদের কাছে ধর্ণা দিতে রীতিমতো ঘোড়দৌড় শুরু করেছেন।

এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, আমরা দেশকে সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র বানানোর জন্য মুক্তি সংগ্রামে অংশ নিইনি। কিন্তু যাদের হাতে জনগণের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে সামন্ততান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যাচ্ছে। আর সে মানসিকতায় ভিনদেশী জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত হতেও দেখা যাচ্ছে আমাদের ভাগ্যনিয়ন্তাদের। বিশেষ গোষ্ঠীর আনুকূল্য পাওয়ার জন্য বিজাতীয় ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়নের প্রতিযোগিতাও বেশ চোখে পড়ার মতো। সীমান্তে নির্বিচারে নাগরিক হত্যা করা হলেও তার প্রতিবাদ করার মতো সাহসও তাদের নেই, যা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংজ্ঞার সাথে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

মূলত গণমুখী রাজনীতির অনুপস্থিতির কারণে আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ফলে দেশীয় রাজনীতি জনগণনির্ভরতার পরিবর্তে বিদেশনির্ভর হয়ে পড়েছে। এই প্রবণতা খুব সর্বসাম্প্রতিক শুরু হয়েছে এমনটা নয়, বরং আমরা যেকোনো জাতীয় সঙ্কট নিজেরা সমাধান না করে ভিনদেশীদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান মার্টিন স্টিফেন ও জাতিসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে দূতিয়ালি করতে দেখা গেছে, যা আমাদের মোটেই সম্মান বাড়ায়নি। আমরা বোধ হয় এখনো স্বাধীনতার জন্য যোগ্যই হয়ে উঠতে পারিনি। আমাদের উপর্যুপরি ব্যর্থতা সে প্রশ্নকে ক্রমেই তীব্রতা দিচ্ছে। কবির ভাষায়, ‘চাষায় মানিক পেলে দলে দুই পায়’ কথাটা শ্রুতিকটু হলেও নির্মম বাস্তবতায় সে কথাই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। কারণ, আমরা নিজস্ব বলয় থেকে বেরিয়ে পরধন লোভে মত্ত হয়ে পড়েছি। আর পরধন বাহ্যিক চাকচিক্য বাড়ালেও তা আত্মাকে শান্ত ও তৃপ্ত করে না। তাই কবিয়াল রামনিধি গুপ্তের অক্ষেপ, ‘...কত নদী সরোবর কি বা ফল চাতকীর, ধারাজল বিনে মেটে কি তৃষা’।

সম্প্রতি সরকার সমর্থিত গণমাধ্যম ও এজেন্সিগুলো একটি খবর ফলাও করে প্রচার করে দেশের মানুষকে এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে, জনগণ যাই ভাবুক আগামীতে ক্ষমতাসীনেরা আবারো ক্ষমতায় আসছে। প্রকাশিত খবরে বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের বরাতে বর্তমান সরকারের সাফল্যগাথা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় যে পর্বতপ্রমাণ সাফল্য দেখিয়েছে, তার ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশে^ও। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প, অ্যান্তেনিও সামারাস, শিনজো আবে, সোনিয়া গান্ধী, জাস্টিন ট্রুডো, নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বের অনেক নেতাই নাকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং প্রশংসা করেছেন। আর এই আস্থার প্রতিদান হিসেবেই ক্ষমতাসীনেরা আবারো রাজদণ্ড হাতে পাচ্ছেন এমনটাই বোঝানো হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, যেহেতু বিশ^নেতারা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন, তাই আসন্ন নির্বাচনে তিনি এবং তার দলই বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। কিন্তু সরকারের এমন সব ভালো কাজের জন্য যারা উপকৃত হয়েছেন বা হবেন তথা দেশের জনগণ সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে কি না বা তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করছে কি না বা তারা বর্তমান সরকারের ওপর সন্তষ্ট কি না বিষয়টি খুবই সযতেœ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে এ কথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আমাদের দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন জনগণের নিয়ন্ত্রণে নেই, বরং এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আর আমজনতাকে বানানো হয়েছে পুতুল নাচের নাট্যশালার পাত্র-মিত্র। এসব কথা বাস্তবসম্মত কি না তা নিয়ে কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করলেও বার্তাটা যে স্পষ্ট তা নিয়ে তেমন বিতর্ক নেই।

অবশ্য এর বিপরীত কথাও গণমাধ্যমের খবরে পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের চলমান ধারায় ‘যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তার আগের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও ভঙ্গুর গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আগামীতে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু এসবকে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করছে। সরকারের মন্ত্রীরা এসব নিয়ে কূটনীতিকদের একহাত নিয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের খাতিরেই বিভিন্ন দেশ যখন ক্ষমতাসীনদের প্রশংসা করছে, তখন তা তাদের কাছে উপাদেয়ই মনে হয়েছে। এমন দ্বিচারিতা ক্ষমতাসীনদের আদর্শিক দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করে।

গণতন্ত্রে অবাধ বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাকেও রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও গুজব সৃষ্টির অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিচার করা হচ্ছে। গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় সরকার তাদের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের অভিযোগ আনছে। দেশে নির্বাচনের নামে চলছে চর দখলের গণতন্ত্র। কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, মৃত ও প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনকে দলীয় অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বানানো আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা মুখে অনেক কথা বললেও অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে পারছি না। সম্প্রতি দেশের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘... জনগণই সরকারকে লালকার্ড দেখিয়ে বিতাড়িত করবে’। কিন্তু এ জন্য তো মাঠে বল গড়াতে হবে। আমরা যদি জনগণকে সে নিশ্চয়তা না দিতে পারি, তাহলে গণতন্ত্রের আর্তনাদ কখনো শেষ হবে না; ঘুচবে না বন্দিদশাও।হ
smmjoy@gmail.com


আরো সংবাদ