২০ নভেম্বর ২০১৮
শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী

শ্রীমদ্ভাগবতগীতা : জ্ঞান ও ভক্তির সমন্বয়

শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী - ছবি : সংগ্রহ

‘ওঁ শ্রী পরমাত্মানে নমঃ’/ ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাহ পূর্ণমুদচ্যতে।/ পূর্ণম্য-পূর্ণমদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে॥ / বাসুদেব সুতং দেবং কংস চানুর মর্দনম্। দেবকী পরমানন্দং কৃষ্ণ বন্দে জগৎগুরুম। নারায়ণং নমস্কৃত্য নরং চেব নরোত্তম। দেবাং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ। যিনি শ্রী বাসুদেবের পুত্র দিব্যরূপধারী, মাতা দেবকীর পরম আনন্দস্বরূপ, সেই জগৎ গুরু ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বন্দনা করি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, মনুষ্য শ্রেষ্ঠ অর্জুনকে এবং সরস্বতী ও শ্রী বেদব্যাসকে নমস্কার করে মহাভারতের কথা আলোচনা করা উচিত।

মধ্যরাত হতে কিছু বাকি। মেঘমুক্ত আকাশ। তারকাগুলো জ্বল জ্বল করছে। রোহিনী নক্ষত্র উদিত হয়ে জানিয়ে দিচ্ছে শুভমুহূর্ত সমাগত। স্বর্গের দেবতারা দুন্দুঙি বাজিয়ে ভগবানের মর্ত্যে আগমনের বার্তা ঘোষণা করছেন; আনন্দে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি করছেন। মধ্যরাতে ঘন অন্ধকারে দেবকীর সন্তানরূপে জন্ম নিলেন শিশু শ্রীকৃষ্ণরূপী মহাবিষ্ণু। বাসুদেব বললেন, কী অপরূপ শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। ভাগ্যের কী পরিহাস! এখনই কংস এসে শিশুটিকে হত্যা করবে। তিনি উপলব্ধি করলেন, এ তো সাধারণ শিশু নয়। এ যে নবরূপে ভগবান স্বয়ং। তার মনে কংসের ভয় দূর হলো। তিনি বললেন, আপনার অসীম কৃপায় পৃথিবীর পরিত্রাণরূপে আমাদের ঘরে আপনি আবির্ভূত হয়েছেন। জন্মের সংবাদ পেয়ে সে আপনাকেও বধ করবে।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, দেবকী, তুমি সবার চেয়ে পবিত্র নারী। পূর্বজন্মে তুমি দীর্ঘকাল ধরে তপস্যা করেছিলে। তোমার অনন্তকালের সাধনায় তুষ্ট হয়ে তোমাকে একটি বর চেয়ে নিতে বলেছিলাম। তুমি প্রার্থনা করেছিলে, আমি যেন তোমার সন্তানরূপে জন্মগ্রহণ করি। অবতাররূপে আমার বিগত আবির্ভাবকালে তুমি আমার জননী হয়েছিলে। এবারো তোমার সন্তানরূপে জন্মগ্রহণ করেছি।’ বাসুদেব কারাকক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন। কারারক্ষীরা ঘুমে অচেতন। তিনি যমুনার তীরে এসে পৌঁছুলেন। হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। অবিরাম বর্ষণে নদীতে দেখা দিলো বন্যা। বাসুদেবের চলার জন্য একটি শুকনো পথ তৈরি করে দিয়ে নদী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। তিনি সে পথ ধরে হেঁটে অপর পাড়ে পৌঁছে নন্দরানী যশোদার ঘরে প্রবেশ করলেন। দেখলেন, যশোদার পাশে একটি সদ্যোজাত কন্যাসন্তান শুয়ে আছে। বাসুদেব নিজপুত্রকে যশোদার পাশে শুইয়ে রেখে, ওই কন্যাটিকে নিয়ে মথুরায় এলেন। কংস বলল, এ বালক দুটোকে মথুরা থেকে তাড়িয়ে দাও। নন্দকে গ্রেফতার ও হত্যা করো। সে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বাসুদেবকে এখনই বধ করো। আমার পিতা উগ্র সেনকেও হত্যা করো। তাকে বিশ্বাস করি না। কারণ সে আমার শত্রুর পক্ষ নিয়ে কথা বলে।

গুরুজনের প্রতি কংসের অশ্রদ্ধা শ্রীকৃষ্ণ সহ্য করতে পারলেন না। দেহকে হালকা করে একপলকে গিয়ে উপস্থিত হলেন অলিন্দে। সেখানে কংস সিংহাসনে বসে আছে। কৃষ্ণ তার দিকে দ্রুত বেগে ধেয়ে আসছেন দেখে কংস ঢাল-তলোয়ার নিয়ে প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত হলো। শ্রীকৃষ্ণ এক ধাক্কায় তাদের মাথা থেকে রাজমুকুট ফেলে দিলেন। কংসের মৃত্যু হলো। শ্রীকৃষ্ণ সর্বব্যাপী অপূর্ব মূর্তি। অসংখ্য চোখ, অসংখ্য বাহু ও অসংখ্য চরণ ত্রিলোকে তার মধ্যে বিরাজমান। শ্রীকৃষ্ণ যে ভগবান, প্রথমে তা অর্জুন বুঝতে পারেননি। শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বরূপ দর্শন করার পর তার সন্দেহ দূর হয়। অর্জুন দেখলেন, সেই বিশ্বরূপ অনেক মুখ ও অনেক নেত্রযুক্ত, অনেক অদ্ভুত আকৃতি ও অসংখ্য দিব্য অলঙ্কারবিশিষ্ট এবং অনেক উদ্যত দিব্য অস্ত্রে সজ্জিত। সে বিশ্বরূপ দিব্যমালা ও দিব্যবস্ত্রে ভূষিত, দিব্য গন্ধ দ্বারা অনুলিপ্ত। আশ্চর্যজনক জ্যোর্তিময়, অনন্ত ও সর্বোতমুখবিশিষ্ট। যদি আকাশে সহস্র সূর্যের প্রভা যুগপৎ উদিত হয়, তা হলে সেই দীপ্তি বিশ্বরূপের প্রভার কিঞ্চিত তুল্য হতে পারে।

শ্রীমদ্ভাগবতগীতা স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখের বাণী। শ্রীমদ্ভাগবত ১৮০০০ শ্লোকে রচিত। মহাভারত হলো শ্রীব্যাসদেব কর্তৃক সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ মহাকাব্য এবং সনাতন ধর্মের সর্ববৃহৎ পুরাণ। মহাভারতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তার প্রিয়তম ভক্ত ও সখা অর্জুনের মধ্যে কথোপকথন রয়েছে। গীতা হলো মহাভারতের প্রাণ। শ্রীশংকরাচার্য শ্রীমদ্ভাগবতগীতাকে মহাভারত থেকে বাইরে এনে টীকা ভাষ্য রচনা করেন। ৬০টি ভাষায় শ্রীমদ্ভাগবত গীতার অনুবাদ হয়েছে। গীতায় আছে ১৮টি অধ্যায় ও ৭০০ শ্লোক। তার মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে ৫৭৫টি শ্লোক। অর্জুন ৮৪টি শ্লোক। সঞ্জয় ৪০টি শ্লোক। একটি শ্লোক ধৃতরাষ্ট্র। সর্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দন। পার্থো কংস সুধাভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ। এই গীতোপনিষদ ভাগবতগীতা সমস্ত উপনিষদের সারাংশ। তা একটা গাভীর মতো এবং রাখাল বালকরূপে প্রসিদ্ধ, ভগবান শ্রীকৃষ্ণই এই ‘গাভী’কে দোহন করেছেন। অর্জুন যেন গোবৎসের মতো এবং জ্ঞানী গুণী ও শুদ্ধ ভক্তেরা গীতার সেই অমৃতময় দুগ্ধ পান করেন। অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন, যখন মৃত্যুর সম্মুখীন হবেন, তখন কিরূপে আপনাকে স্মরণ করা যাবে? তিনি বললেন, হে অর্জুন, এ জগতে যার জন্ম আছে, তার মৃত্যু সুনিশ্চিত। আবার মৃতের জন্ম ও অবশ্যম্ভাবী। আত্মা অবিনশ্বর। আমার জন্মও নেই, মৃত্যুও নেই।

আত্মাকে অস্ত্রের দ্বারা কাটা যায় না। আগুনে পোড়ানো যায় না। জলে ভেজানো যায় না অথবা শুকানোও যায় না। এই আত্মা অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ এবং অশোষ্য। তিনি চিরস্থায়ী সর্বব্যাপ্ত, অপরিবর্তনীয়, অচল ও সনাতন। এই আত্মা অব্যক্ত, অচিন্ত্য ও অবিকারী বলে শাস্ত্রে উক্ত হয়েছে। অতএব, এই সনাতনস্বরূপ অবগত হয়ে তুমি দেহের প্রতি শোক পরিত্যাগ করো। পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ সর্বজীবের হৃদয়ে অবস্থিত পরমাত্মা এবং সর্বভূতের আদি ও মধ্যঅন্ত। পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ সবার হৃদয়ে অবস্থান করেন। মানুষ যা চিন্তা করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, পরজন্মে সে চিন্তার অনুরূপ হয়ে জন্ম পরিগ্রহ করে। ‘মৃত্যুর সময়ে যিনি আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন। তিনি তৎক্ষণাৎ আমার ভাবেই প্রাপ্ত হন। যারা পরমায়ু লাভের জন্য সংযমের সাথে সুখ ভোগ করে শরীরকে সুস্থ ও নিরোগ রাখতে সচেষ্ট, আনন্দে কাল অতিবাহিত করে; তারা সাত্বিক।

উগ্রবস্তু বা উগ্রভাব রাজস্যিক ব্যক্তির প্রিয়। তপস্যা দুই প্রকার : শারীরিক ও মানসিক। পূজা আচার শারীরিক তপস্যার দৃষ্টান্ত। মানসিক তপস্যা হলো : সদা সত্য কথা বলা, প্রসন্নতা, সরলতা ও সংযম। দান তিন প্রকার- সাত্বিক, তামসিক, রাজসিক। যারা সাত্বিকদাতা, তারা দেশ-কালপাত্র, বিচার না করে দান করেন; প্রত্যুপকারের আশায় দান করেন না। মহাত্মাগণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে চলে গেলে তাদেরকে আর এ দুঃসময়ে ফিরে আসতে হয় না। ভগবানের সৃষ্ট অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে নিত্যকালই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভৌমলীলা প্রকটিত আছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখনই যেখানে ভৌমলীলা বিস্তারের উদ্দেশ্যে তার নিত্য পিতামাতা শ্রীবাসুদেব দেবকীর শ্রনন্দ যশোদার পুত্ররূপে নিজেকে প্রকটিত করেন, সেখানে মহাত্মাগণ পরম সংসিদ্ধি লাভ করেন। জয়শাস্ত্রে শ্রীমদ্ভাগবতগীতা মানব দেহের পরমাত্মা। মহাভারতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তার প্রিয়তম ভক্ত অর্জুনের মধ্যে ধর্মবিষয়ক সারগর্ভ কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। নর ও নারায়ণ অবতারে অর্জুন ছিল নর এবং শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ।

পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জগত পরিচালনার সংবিধান বলা হয়েছে। গীতার আছে আত্মাতত্ত্ব। সুনির্দিষ্ট মুক্তির পথনির্দেশ, কর্মবন্ধন মুক্তির কৌশল। সাধনমার্গ হিসেবে ভক্তি মার্গ, জ্ঞানমার্গ, কর্মযোগ; কর্ম ও সন্ন্যাস যোগ, জ্ঞান কর্ম ও ব্যক্তির মধ্য দিয়ে স্রষ্টার প্রাপ্তি। দেব ও অসুরের মধ্যে পার্থক্য। বিশ্বরূপ দর্শনে দিব্যচক্ষুদান, দর্শনতত্ত্ব, মহাকাল, মহাপ্রলয়, অনন্ত জীবন প্রভৃতি। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন, পরমেশ্বর ভগবানই একমাত্র আশ্রয় মনে করে যে নিষ্কাম কর্মযোগী সর্বদা কর্ম করতে থাকেন, তিনি ভগবানের কৃপায় সনাতন অবিনাশী পরমপদ লাভ করেন। যে মানুষ মন দিয়ে সব কর্ম পরমেশ্বর শ্রীভগবানে অর্পণ করে, সমত্ত্ববুদ্ধিরূপে নিষ্কাম কর্ম অবলম্বন করে, ভগবানকেই পরমাশ্রয় বলে গ্রহণ করে; সে মানুষ সর্বদা ভগবানগতচিত্ত হয়ে যায়; ভগবানের কাছে নিজেকে অর্পণ করে। গীতা শাস্ত্রের পাঠন, পঠন ও শ্রবণ প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। বিশ্বে ধর্মে ধর্মে হানাহানি, ধর্ম নিয়ে চলছে মারাত্মক বাড়াবাড়ি। নানা দেশে সংখ্যাগুরু ধর্মীয় গোষ্ঠী অকারণে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করছে।

যেমন, মিয়ানমারের বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারছে। মানবতা নিভৃতে কাঁদছে। গৌতম বুদ্ধের নীতি ও শিক্ষা তারা মানছে না। বুদ্ধের বাণী হচ্ছে, জীবহত্যা মহাপাপ। অহিংসা পরম ধর্মও ‘সব্বে সত্তা ভবন্ত সুখিতত্তা’। মিয়ানমার সরকারের কাছে এসবই তিরোহিত। রাজনীতির নামে ভারতে চলছে অপরাজনীতি। ভারতে গরু জবাই ও গরুর গোশত ভক্ষণের অজুহাতে নর হত্যা করছে উগ্রবাদী হিন্দুরা। তারা মানছে না ধর্মের নীতিকথা : ‘নর হত্যা মহাপাপ নরকে বসতি।’ এখনো কোথাও পাইনি যে, গো হত্যা বা গো-মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ। ধর্ম নিয়ে আমার মোটামুটি পড়াশোনা আছে। সেদিনও কোরবানির পশু জবাই নিয়ে সারা ভারতে কম বেশি হানাহানি হয়েছে। কিন্তু কেন এ সহিংস নারকীয়তা ও নিষ্ঠুরতা?

ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের স্মরণ রাখা উচিত, আমরা শুধু সব ধর্মকে সহ্য করি না; সব ধর্মকেই আমরা সত্য বলে বিশ্বাস করি। এটাই সনাতন ধর্মের মূলমন্ত্র। তাই বিবাদ নয়, সহায়তা; বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ, মতবিরোধ নয়, সমন্বয় ও শক্তি। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিরা নির্বিচারে মুসলমানদের হত্যা করছে। ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্রিষ্টান অধ্যুষিত অঞ্চলে ধর্মীয় হানাহানি ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে কিছু লোক ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মেধাবী যুবকদের ‘জঙ্গি’তে পরিণত করছে। ধর্মীয় উন্মত্ততার মধ্যে যেসব হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ঘটছে, তার সুবিচার হয় না। এমনকি কোনো কোনো দেশের সরকার এসব মানবতাবিরোধী কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। অথচ শান্তি, সম্প্রীতি ও সাম্যই প্রতিটি ধর্মের মর্মবাণী। বিশ্বের প্রতিটি মানুষ যেন অবাধে ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রতিটি দেশের সরকার ও সমাজের। এ পৃথিবী ছেড়ে আমাদের সবাইকে পরপারে যেতে হবে। সে কথা মনে রেখে প্রত্যেক মানুষকে মানবতাবিরোধী উন্মত্ততার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এটাই হোক বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর আহ্বান। হিংসা, ক্রোধ, হত্যা, নির্যাতন দেখতে চাই না এ ধরনীতে।

‘শিবম সত্যম সুন্দরম; দুঃখের পৃথিবীটা হোক আনন্দ আশ্রম।’ এটাই হোক প্রতিটি ধর্মের অনুসারী মানুষের কামনা। বাংলাদেশ হাজার বছরের সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-এ দেশ সবার। ‘সর্বেসুখিন : ভরন্ত, সর্বেসন্ত নিরাময়া, সর্বে ভদ্রানি পশ্যন্ত। মা-কাশ্চিহ দুঃখ ভাগ ভবেহ। সব প্রাণী সুখী হোক। সবাই নিরাময় হোক। সবার কল্যাণ হোক। কেউ যেন দুঃখ না পায়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্ত জ্ঞানের আকর। তারই পাদপদ্মে ধ্যান করে এই শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ অধ্যয়নে প্রয়াসী হয়েছি। তাকেই প্রণাম নিবেদন করে এই পুরাণের পরিসমাপ্তি করছি। শুভ জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা। প্রীতি সম্ভাষণ ও শ্রদ্ধান্তে প্রণাম।
msnislamtransport@yahoo.com


আরো সংবাদ