২২ জুন ২০১৮

শান্তির পথে যাত্রা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন - ছবি : এএফপি

দীর্ঘ প্রায় সাত দশকের অচলাবস্থা কাটিয়ে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কয়েক মাসের নিরন্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। এটি একদিকে যেমন ‘যেকোনো সময় পারমাণবিক যুদ্ধ’ লাগার আশঙ্কা থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্তি দিয়েছে, সেই সাথে আভাস দিয়েছে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির বার্তার। এই কৃতিত্ব অবশ্যই দুই রাষ্ট্রনেতার। এই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে কী অর্জন হবে, শান্তি প্রক্রিয়া কতটা বাস্তাবায়িত হবে তা এখনই বলা না গেলেও দীর্ঘ অচলাবস্থা যে কেটেছে সেটিই আপতত স্বস্তি¡র। সমালোচকেরা অবশ্য উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের স্পষ্ট ঘোষণা দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। তবে কিম যে স্বার্থ আদায় না করে কোনো ছাড়ই দিতে রাজি নন, সেটি জেনেই ট্রাম্প এই আলোচনায় বসেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের ১১ জন প্রেসিডেন্ট যা করতে পারেননি, সেই অসাধ্য সাধন করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেটিই বা কম কিসে! কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা সেই গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে; কিন্তু দীর্ঘ প্রায় সাত দশকেও তাতে সফলতা আসেনি। ১৯৫৩ কোরীয় যুদ্ধের অবসানের পর শুরু হয় অঞ্চলটিতে শান্তির প্রক্রিয়া। তিন বছরের কোরীয় যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে অবস্থান ছিল চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের। অন্য দিকে দক্ষিণ কোরিয়াকে অর্থ ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স জেনেভায় এক সম্মেলনে মিলিত হয়েছিল কোরীয় ইস্যুতে। কিন্তু সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন ফস্টার ডুলাসের একগুঁয়েমির কারণে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ডুলাস চেয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডুয়াইট আইসেনহাওয়ার। বিষয়টিতে চীনের সাথে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এমনকি চীনা প্রতিনিধির সাথে তিনি হ্যান্ডশেকও করেননি।

এরপর ১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে কোরীয় যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে উপদ্বীপে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। পরের বছর তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য যে কমিশন গঠন করা হয়েছিল তা ভেঙে গেছে।
গত শতাব্দীর ষাটের দশকে প্রেসিডেন্ট জন এ এফ কেনেডি ও প্রেসিডেন্ট জনসনের প্রশাসনের সময় উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্টতই শত্রুতার পর্যায়ে চলে যায়। ১৯৬৮ সালে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা নৌযান আটক করে। পরের বছর জাপান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা বিমান গুলি করে ধ্বংস করে কোরীয় সেনারা। ওই বিমানের ৩১ আরোহীর সবাই নিহত হয়।

১৯৭০ সালে কিছুটা ভিন্ন নীতি গ্রহণ করে উত্তর কোরিয়া। তারা ১৯৫৪ সালে শান্তি চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলতে শুরু করে। ১৭৯৪ সালে তারা একটি চিঠি পাঠায় মার্কিন কংগ্রেসে, যাতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বদলে স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে উত্তর কোরিয়ার সে সময়ের নেতা কিম ইল সুং প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সাথেও একটি শান্তি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেন, সেটিও ফলপ্রসূ হয়নি। তবে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য কমিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন জিমি কার্টারও, যদিও প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।
১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান ক্ষমতায় এসে আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। তিনি উত্তর কোরিয়ার সাথে শান্তি স্থাপনের প্রক্রিয়ারও কৌশলে বিরোধিতা করেন। তার উত্তরসূরি জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ দেশের বাইরে মোতায়েনকৃত পারমাণবিক অস্ত্র প্রত্যাহার করে নেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েনকৃত সৈন্য সংখ্যাও কমিয়ে আনেন। তবে শান্তিচুক্তির বিষয়ে আন্তরিক কোনো প্রচেষ্টা তার মধ্যেও ছিল না।

১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তার সময় অবশ্য এই ইস্যুতে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছিল। ১৯৯৪ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০০ সালে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং প্রজ্ঞাপন এর বড় উদাহরণ। তবে এক দশকের এই শান্তি প্রক্রিয়া আবার পিছিয়ে যায় জর্জ ডব্লিউ বুশের একগুঁয়ে পররাষ্ট্রনীতির কারণে। তিনি উত্তর কোরিয়াকে আবার ‘শত্রুরাষ্ট্রে’ ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করতে শুরু করেন। তার সময়েই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় উত্তর কোরিয়ার প্রকাশ্য পারমাণবিক তৎপরতা। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা ক্ষমতায় আসার পর তিনিও এ বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। তার সময়ও অব্যাহত ছিল উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া।

২০১১ সালে কিম জং উন ক্ষমতায় আসায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির পরিধি বেড়েছে। অবরোধের খড়গ নেমে আসছে জেনেও তিনি ক্রমেই বাড়িয়ে তোলেন দেশটির সামরিক সক্ষমতা। অব্যাহত রাখের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা। অবশেষে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এসে পাল্টাতে থাকে পরিস্থিতি। অবশ্য এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কিম জং উনের ভূমিকাও রয়েছে। কিম একদিকে যেমন অস্ত্র কর্মসূচি বাড়িয়ে আক্রমণাত্মক হতে থাকেন, পাশাপাশি ঘোষণা দেন তার রাষ্ট্রের নিরাপত্তার গ্যারান্টি পেলে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রাখার কোনো প্রয়োজন বোধ করেন না বলে। আর কিমের এই মানসিকতাই মূলত পাল্টে দেয় পরিস্থিতি। একপর্যায়ে কিম সরাসরি ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করার আগ্রহ দেখান। অভাবনীয় বিষয় হলেও ট্রাম্প তাতে একবাক্যে সাড়া দেন। আর এরপরই নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে কোরীয় ইস্যু। যার সর্বশেষ আপডেট গত মঙ্গলবারের ঐতিহাসিক বৈঠক।

সমালোচকেরা বলছেন, বৈঠক থেকে তারা কোনো স্পষ্ট শান্তির রূপরেখা পাননি। অনেকেই বলছেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ কবে, কিভাবে শুরু হবে তাও তারা জানতে চান। দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনীর সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল ইন বাম চুন বলেন, ট্রাম্প এই ‘শো’ তৈরিতে খুবই উত্তেজিত ছিলেন। তিনি বলেন, এখনো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যাপক, যাচাইযোগ্য ও প্রত্যাহারযোগ্য ধ্বংস করার বিষয় বিস্তারিত দেখতে চাই। মূলত পরমাণু অস্ত্রমুক্তির পরই পিয়ংইয়ংকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়া হবে। তবে আমি মনে করি, মানবিক কর্মসূচি ও মানবিক সাহায্যও একই সাথে শুরু করা যেতে পারে।

রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মিচেল ম্যাকফল বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৈঠকে বিশেষ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভব কিভাবে? আমার সাথেই অন্য কারো হলে তা-ই হতো খুবই অদ্ভুত ব্যাপার, আর উত্তর কোরিয়ার একনায়কের সাথে হলে...? ম্যাকফল আরো বলেন, এ আলোচনা থেকে নতুন কিছুই আসেনি। বরং কোনো ছাড় ব্যতীতই উত্তর কোরিয়ার একনায়ককে বৈধতা দিয়ে দেয়া হলো। তিনি বলেন, এর আগে এ বছরের শুরুর দিকে পানমুনজমেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনকেও এ ধরনের আশ্বাস দিয়েছিলেন কিম।

অনেক বিশ্লেষক অবশ্য বৈঠকের আগে থেকেই বলে আসছেন, পারমাণবিক অস্ত্রমুক্তকরণের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সংজ্ঞায় ভিন্নতা রয়েছে। ওয়াশিংটনের ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিসের সিনিয়র গবেষক অ্যান্থনি রুগিয়েরো বলেন, ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের জন্য আরো আলোচনা, দর কষাকষি চলবে কি না তা পরিষ্কার নয়। এটা দেখে মনে হচ্ছে- ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে আমরা আলোচনা যেখানে থামিয়েছিলাম, তাই আবার বলা হয়েছে এবং তা থেকে এক কদমও এগুনো যায়নি।’
অনেক বিশ্লেষক দেড় পৃষ্ঠার স্বাক্ষরিত দলিলটিকে ‘অস্পষ্ট ও সারবস্তুহীন’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। বিবিসির বিশ্লেষক লরা বিকার ভরসা রাখতে পারছেন না ট্রাম্পের আশ্বাসের ওপর। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে এটা হবে (নিরস্ত্রীকরণ)। তাই হয়তো আমাদের ‘দেখা যাক কী হয়’ বলে অপেক্ষা করতে হবে- যেমনটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই বলে থাকেন’।
লরা বিকার বলছেন, দুই নেতার ঘোষণায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ অনুপস্থিত ছিল। একটি হচ্ছে ‘রিভার্সিবল’- অর্থাৎ এমনভাবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হতে হবে, যাতে উত্তর কোরিয়া আর কখনো এই কর্মসূচি শুরু করতে না পারে। আরেকটি হচ্ছে ‘ভেরিফায়েবল’- অর্থাৎ স্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে যে, সত্যিই তা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার প্রত্যাশা ছিল।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই বৈঠকের সফলতা দেখতে তারা ধৈর্য ধরতে আগ্রহী নন। সিঙ্গাপুরের ওই বৈঠক কতটা সফল হয়েছে তা বলার এখনো সময় আসেনি। এত দীর্ঘ একটি সঙ্কট থেকে এক বৈঠকেই উত্তরণ আশা করাও সমীচীন নয়। তবে কয়েক দশকের অচলাবস্থা কাটিয়ে বিষয়টি যে আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে এবং সেটিও একেবারে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্জন। কোরিয়া সঙ্কট যত বড় এর সমাধানেও হয়তো দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে আলোচনার ট্র্যাকে ওঠাটাই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সফলতা।

ট্রাম্পের পূর্বসূরি অনেক দাপুটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা পারেননি তিনি তাই করে দেখিয়েছেন আপাতত। অন্য দিকে কিম জং উন বিচ্ছিন্ন এক রাষ্ট্রনায়ক থেকে উঠে এসেছেন বিশ্বমঞ্চে। নিজের দাবির প্রতি তিনি অটল আছেন, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই বসেছেন আলোচনার টেবিলে। এটিকে অবশ্য কিম জং উনের বড় জয় হিসেবে দেখছেন অনেকে। এই অবস্থা থেকে কোরীয় উপদ্বীপ কোন পথে চলবে সেটি একটি বড় প্রশ্ন। অবশ্য এ জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। শান্তিচুক্তিতে সম্মত হওয়ার মধ্য দিয়ে কিম জং উন মূলত ওয়াশিংটনের কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছেন।

যেখানে হয়েছে বৈঠক

যে ৬৩টি ছোট্ট দ্বীপ রয়েছে সিঙ্গাপুরে তার একটি সেন্তোসা। ৫০০ হেক্টর আয়তনের দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে খুব বেশি দূরে নয়। দ্বীপটির জনসংখ্যার বেশির ভাগ মালয়। আছে চীনা ও বুগিস। বুগিস বলতে বোঝায়- ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপ থেকে আসা লোকদের। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বিলাসবহুল এলাকা সেন্তোসা। পর্যটন এলাকা হিসেবে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেখানে। বিলাসবহুল রিসোর্ট, বেসরকারি নৌবহর, উন্নতমানের গলফ কোর্স- কী নেই সেখানে। পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল সব থিম পার্ক, রাইড আর অ্যাডভেঞ্জারের নানা আয়োজন রয়েছে সেখানে। অনেকের কাছেই জায়গাটি ‘স্টেট অব ফান’ বা বিনোদন রাজ্য হিসেবে পরিচিত। আছে একটি ইউনিভার্সাল থিম পার্ক, একটি ওয়াটার পার্ক, বিশ্বমানের ক্যাসিনো।

সিঙ্গাপুরের এই দ্বীপটিকে বলা যায় ধনীদের স্বর্গরাজ্য। দেশটির সবচেয়ে অভিজাত আবাসিক এলাকা এই দ্বীপে। সেন্তোসা দ্বীপেই ৩০ একর জায়গার ওপর নির্মিত ক্যাপেলা হোটেলটি মূলত ব্রিটিশ—ঔপনিবেশিক যুগের নকশায় তৈরি। অত্যন্ত বিলাসবহুল হোটেলটি কাস্টমারদের জন্য ব্যয়বহুলও। প্রতিটি রুমের সর্বনিম্ন ভাড়া প্রতিদিন বাংলাদেশী টাকায় ৪০ হাজার। আর তিন বেড রুমের প্রতিটি স্যুটের ভাড়া প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা প্রতিদিন। ট্রাম্প-কিম বৈঠক উপলক্ষে পুরো হোটেলই বুকিং দেয় সিঙ্গাপুর সরকার।

রাষ্ট্রীয় নাম : ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া
রাজধানী : পিয়ংইয়ং; সর্বোচ্চ নেতা : কিম জং উন;
ভাষা : কোরিয়ান; আয়তন : এক লাখ ২০ হাজার ৫৪০ বর্গকিলোমিটার; জনসংখ্যা : ২ কোটি ৫৪ লাখ; মুদ্রা : ওন; ধর্ম : প্রধানত ধর্মহীন; শিক্ষার হার : প্রায় শতভাগ; পার্লামেন্ট : এক কক্ষবিশিষ্ট; শাসনব্যবস্থা : একদলীয়

দেখুন:

আরো সংবাদ