২২ জুন ২০১৮

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

এস-৪০০ ক্ষেপাণাস্ত্র - ছবি : সংগ্রহ

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে রাশিয়া। ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং ইসরাইলের মতো পরস্পরবিরোধী আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর সাথে সমানতালে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে দেশটি। এমনকি এসব দেশ এখন রাশিয়ার সমরাস্ত্রের নতুন ক্রেতা হিসেবে সামনে চলে এসেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এতদিনের একচ্ছত্র প্রভাব সম্ভবত খর্ব হতে চলছে। সিরিয়ার যুদ্ধে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে রাশিয়া। এরপর থেকে মধ্যপ্রচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিতে রাশিয়ার ভূমিকা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে রক্ষায় রাশিয়া দেশটিতে সৈন্য পাঠায়। একই সাথে সিরিয়ার যুদ্ধে ইরানও জড়িয়ে পড়ে। ইরানের সাথে রাশিয়ার সামরিক সম্পর্ক অনেক পুরনো। রাশিয়া ও ইরানের সমর্থন নিয়ে বাশার আল আসাদ সরকার টিকে যায়। আসাদ বিরোধীগোষ্ঠীগুলোর সাথে নিবিড় যোগাযোগ ছিল তুরস্কের। এ অঞ্চলের একমাত্র ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশটির সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। আসাদকে উৎখাতে তুরস্ক সরাসরি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিলেও দৃশ্যত এখন তুরস্কের নীতিতে পরিবর্তন আসছে। এ পরিবর্তন আসছে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন সমর্থন নিয়ে এরদোগানবিরোধী সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর। এরদোগান-পুতিন পরস্পরের বন্ধুত্বে পরিণত হন। সম্পর্ক এতটাই নতুন রূপ নেয় যে, ন্যাটো সামরিক জোটের সদস্য দেশটির রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে ফেলে। এ ছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা ধরনের সমরাস্ত্র কেনা শুরু করে রাশিয়া থেকে। মার্কিন সমর্থনপুষ্ট কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার অভ্যন্তরে যখন তুর্কি সেনাবাহিনী অভিযান চালায় তখন রাশিয়া নীরবে তাতে সমর্থন দিয়ে যায়।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট যখন কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে তখন রাশিয়া কাতারের সাথে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করে। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ তুরস্ক শুরু থেকে কাতারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি কাতার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে বিপুল অঙ্কের সমরাস্ত্র কেনার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করে। এরমধ্যে এস-৪০০ ক্ষেপাণাস্ত্র রয়েছে। কাতারের এ সমরাস্ত্র কেনার খবরে সৌদি আরব শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, কাতারে হামলার হুমকি দিয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে রুশ এ ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবও কিনেছে। সৌদি আরবের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে কাতারকে এ সমরাস্ত্র সরবরাহ করবে। অর্থাৎ সৌদি আরব ও কাতার পরস্পর বিরোধী দুই দেশে সমরাস্ত্রের বাজার সম্প্রসারণ করছে।

সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারকে ইরান ও রাশিয়া একসাথে কাজ করছে। ইসরাইল অভিযোগ করছে- সিরিয়ায় ইসরাইল সীমান্তের কাছে ইরানের সৈন্যদের উপস্থিতি রয়েছে। ইসরাইলের যুদ্ধবিমান সিরিয়া সীমান্তে বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইলের দাবি ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ার অভ্যন্তরে ইসরাইলি এ হামলা নিয়ে বিস্ময়কর নীরবতা পালন করছে রাশিয়া। সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মস্কো সফর করেছেন। দাবি করেছেন মস্কোর সাথে তেলআবিবের বোঝাপড়া আগের চেয়ে অনেক ভালো। অথচ ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপের সময় থেকে রাশিয়া পুরোপুরি ইরানকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এখনো ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, তখন ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। দেখা যাচ্ছে ইরান ও ইসরাইল দুই দেশের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে রাশিয়া। কেজিবির সাবেক গোয়েন্দা রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এখন মধ্যপ্রাচ্যর এখন সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়।

দেখুন:

আরো সংবাদ