২০ আগস্ট ২০১৮

একরামের অপমৃত্যু ও ভাঁড়– দত্তের ভাঁড়ামি

ক্রসফায়ার
একরামের অপমৃত্যু ও ভাঁড়– দত্তের ভাঁড়ামি - নয়া দিগন্ত

চলতি মাসের শুরুর দিক থেকেই সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। এলিট ফোর্স র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করছে। দেশে যে মাদকদ্রব্যের সয়লাব এবং মাদকব্যবসায়ীরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে, এতে কেউ দ্বিমত পোষণ করেন না, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই ফেতনার মূলোৎপাটন করা জরুরি। তবে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সর্বমহলে প্রশংসিত ও গ্রহণযোগ্য হতো, যদি এই অভিযানকে কেন্দ্র ব্যাপকভাবে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটত। তাই চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে অর্জনের চেয়ে বর্জনের বিষয়টিই সাধারণ মানুষের কাছে আলোচনায় এসেছে। আর এর যৌক্তিকতার বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ খুব একটা সুযোগ থাকছে না।

মূলত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনা ঘটায় তা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। বরং জনমনে সরকারের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অপরাধ দমনের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যার ঘটনাও দেশী ও আন্তর্জাতিক কোনো মহলেই ভালো চোখে দেখছে না। এটিকে মওকাবাজি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আসলে মাত্র কয়েক দিনের এই অভিযানে এ পর্যন্ত প্রাণহানির সোয়াশ’ অতিক্রম করেছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘঠিত বন্দুকযুদ্ধে এসব মাদক সম্রাটেরা নিহত হচ্ছে। কিন্তু নিহতরা যে সবাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল না এরূপ তথ্যও গণমাধ্যমে আসছে। সামাজিক গণমাধ্যমে কিছু ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে। ফলে চলমান অভিযানে নিরাপরাধ মানুষও ভিকটিম হয়েছেন বা হচ্ছেন এমন জনধারণা সৃষ্টি হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযান বিষয়ে সরকারের দাবি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নানাবিধ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি নিহতদের পরিবারে পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা। তাদের কেউ কেউ দাবি করছেন, ঘটনার বেশ আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিকটিমদের আটক করে পরে বন্দুকযুদ্ধের মতো কল্পকাহিনী প্রচার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কথিত এনকাউন্টার বা বন্দুকযুদ্ধ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দাবি করা হচ্ছে- যে যাদের নামে বন্দুকযুদ্ধে যারা নিহত হচ্ছেন এরা তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ী। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে বন্দুকের মতো আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে আসছে আর কেনই বা তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে, তার কোনো যৌক্তিক কারণ সচেতন মহল খুঁজে পাচ্ছেন না। এমনকি সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এর কোনো সদুত্তরও দিতে পারছেন না। মাদক ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে, বিশে^র কোথাও এমন কোনো নজির নেই। আর আমাদের দেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা মানুষকে গেলানো খুব একটা সহজসাধ্য হবে বলে মনে হয় না। তাই মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে অনেক ঢাক পেটানো হলেও প্রাণহানির ঘটনায় তা হালে পানি পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। বরং তা কবিকঙ্কন শ্রী মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কালকেতু উপাখ্যানের ভাঁড় চরিত্রের ‘ভাঁড়– দত্ত’ সাথে তুলনীয় হচ্ছে।

সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলোও সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবীরাও এমন প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, যুগপৎভাবে সরকারের অংশ ও বিরোধী দলীয় নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদও এই অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জাতীয় সংসদেই মাদকদ্রব্যের গডফাদার রয়েছেন বলেও বেফাঁস মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মাঠ ফাঁকা করার মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য সরকার মাদকবিরোধী অভিযানকে হাতিয়ার বানিয়েছে।

সরকার পক্ষ দাবি করছে, তারা চিহ্নিত ও তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেই এই অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কথিত মাদক সংশ্লিষ্টদের তালিকা নিয়ে। কারা এই তালিকা করেছে বা কোন মানদণ্ডে এই তালিকা করা হয়েছে তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে। আর এই তালিকা নিরপেক্ষ কোনো অ্যাজেন্সি করেছে কি-না তাও জানা যাচ্ছে না। যতটুকু জানা গেছে, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা নাকি এই তালিকা প্রস্তুত করেছে। কিন্তু কোনো একটি বিশেষ অ্যাজেন্সির মাধ্যমে প্রণীত তালিকায় কোনো ধরনের ভেটিংয়ের সুযোগ না রেখেই সেই তালিকা ধরে প্রাণঘাতি অভিযান পরিচালনার বিষয়টি বেশ প্রশ্নবিদ্ধই হয়েছে।

আবার এই তালিকা তৈরিতে স্থানীয় সরকার বা প্রশাসন বা রাজনৈতিক প্রতিনিধির মতামত নেয়া হয়েছে কি না তাও পরিষ্কার নয়। একটি তালিকার ভিত্তি ধরে যখন এতগুলো লোকের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটবে, তখন এই তালিকা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা হওয়াও জরুরি ছিল। অভিযান চালানোর আগে এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতের বিষয়টিও উপেক্ষা করার মতো নয়। কিন্তু শতসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ না করেই এমন প্রাণঘাতি অভিযান কেউই ভালো চোখে দেখছে না এবং এর মধ্যে যে সরকারের মতলববাজি আছে তা এখন সবার মুখে মুখে। ক্রমেই এমন দাবি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও পাচ্ছে।

মূলত আমাদের দেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনের প্রয়োগের চেয়ে অপপ্রয়োগের মাত্রাটা অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই আমাদের দেশের সুশাসন ধারণাটি আজো অধরায় রয়ে গেছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে যেকোনো ভালো আইনও গণনিবর্তনের কারণ হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রবর্তিত জননিরাপত্তা আইনের বলা যেতে পারে। মূলত এই আইন প্রবর্তিত হয়েছিল জনগণের অধিকতর নিরাপত্তার কথা বলে। কিন্তু বিরোধী দল দাবি করেছিল, আইনটি নির্বতনমূলক কালো আইন এবং তা প্রণীত হয়েছে বিরোধী দলকে সাইজ করার জন্যই। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের কথাই সত্যে পরিণত হয়েছে।

এই আইনে জনগণ তো নিরাপত্তা পায়নি, বরং ব্যাপক অপপ্রয়োগের কারণেই বর্ণিত আইন জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এই আইনের ভিকটিম হয়ে বাড়িঘর ও ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি এই জননিরাপত্তা আইনের জনক তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও রেহাই পাননি। তার বিরুদ্ধেও জননিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছিল এবং এই আইনে তিনিও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজ। তিনি হাইকোর্টে বিভাগের এক রায়ে জননিরাপত্তা আইনকে অবৈধ ঘোষণা করে এই আইনকে ‘অবৈধ সন্তান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। তা না হলে হয়তো মন্ত্রীকে অনেক আরো হয়রানির শিকার হতে হতো।

যাই হোক, জননিরাপত্তা আইন দেশের উচ্চতর আদালতে বাতিল হলেও এই আইনে যারা ভিকটিম হয়েছেন, তাদের যা হওয়ার তা হয়েই গেছে। ঠিক একইভাবে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফের ওয়ার্ড কমিশনার ও যুবলীগ নেতা একরামুল হক নিহত হওয়ার পর সরকারি দলের নেতাকর্মীদের চেতনা ফিরতে শুরু হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এতদিন তারা এই অভিযানকে অলঙ্ঘনীয় স্বর্গীয় প্রত্যাদেশ হিসেবেই মনে করেছে বলে ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কিন্তু যখন নিজেদের লেজে পা পড়েছে, তখন এই অভিযান নিয়ে নানাবিধ কথা বলা হচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রমাণ করতে চাচ্ছেন, নিহত একরামুলক হক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তিনি তিনবারের নির্বাচিত ওয়ার্ড কমিশনার ও খুবই সৎলোক ছিলেন। আর্থিকভাবেও তার নাকি স্বচ্ছলতা ছিল না। কারণ, দাবি করা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা প্রভূত অর্থবিত্তের মালিক হয়ে থাকেন। যেহেতু নিহত একরামুল হক বিত্তহীন। তাই তার পক্ষে মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার অভিযোগ ধোপে টেকে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

নিহতের পরিবার ও তার দলের পক্ষে দাবি করা হচ্ছে, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে একরামের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রতিহিংসাবশত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত করে দিয়েছে। এমনকি এই তালিকায় আন্তঃদলীয় কোন্দলও স্থান পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আর সে ভুল তালিকার ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে একরামকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত একরামের স্বজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুরো অভিযানই এখন প্রশ্নবিদ্ধ হতে শুরু করেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহত ওয়ার্ড কমিশনার একরামের মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার পক্ষে জোরালো কথা বলছে।

ওয়ার্ড কমিশনার একরাম হত্যা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে প্রমাণ হয়, এই তালিকা নিরপেক্ষ বা গ্রহণযোগ্য কোনো অ্যাজেন্সি প্রস্তুত করেনি। বরং সেই তালিকায় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও অনুরাগ-বিরাগ স্থান করে নিয়েছে। ক্ষমতায় থেকে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা যদি এমন অনুরাগ-বিরাগের শিকার হন, তাহলে বিরোধী দলের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে তা সহজেই অনুমেয়। ফলে একথা বললে অত্যুক্তি হওয়ার কথা নয়, মাদক ব্যবসায়ী সংক্রান্ত প্রণীত তালিকা নিরপেক্ষভাবে প্রস্তুত করা হয়নি বরং এতে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতির প্রচ্ছন্ন প্রভাব রয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করার জন্য এই তালিকার অপব্যবহার হলে তা উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ খুব একটা থাকছে না। যতই দিন যাচ্ছে, ততই তার জোরালো ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

মূলত জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই রাষ্ট্র কোনোভাবেই জননিরাপত্তায় বিঘœ সৃষ্টি করতে পারে না। সংবিধান রাষ্ট্রকে সে অধিকার দেয়নি। দেশের অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ তথা নির্মূল করে জনমনে শান্তি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সে অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলের জন্য দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইন-আদালত রয়েছে। তাই রাষ্ট্রের পক্ষে স্বেচ্ছাচারি হয়ে ওঠার কোনো সুযোগ নেই, বরং সংবিধান ও আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকেই সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর সংবিধানে নাগরিকের জীবন ও বাকস্বাধীনতার নিশ্চিয়তা দেয়া হয়েছে। তাই কথিত অভিযানের নাম দিয়ে হত্যাযজ্ঞের মহড়া চলানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'No person shall be deprived of life or personal liberty save in accordance with law.’ অর্থাৎ আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও বাকস্বাধীনতা হইতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।

পরিবার ও দলের পক্ষে দাবি করা হচ্ছে, কক্সবাজারের টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিরপরাধ ছিলেন। তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রতিহিংসা ও আন্তঃদলীয় কোন্দল বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এমন দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক পরিণতির শিকার হয়েছেন। এখন প্রশ্ন এসে যায়, যে তালিকার ভিত্তি ধরে সারাদেশে এমন অভিযান চালানো হচ্ছে, তাতে ভাগ্যাহত একরামরা আরো থাকতে পারেন বা রয়েছেন। তাই একটি কাগজি তালিকা ধরে এমন প্রাণঘাতি অভিযান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বা শুধু তালিকার কথা বলে রাষ্ট্র কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না। বরং জনগণ যাতে যথাযথভাবে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারে, সে নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। রাষ্ট্রকে কোনো অবস্থায় ভাঁড়– দত্তের মত ভাঁড়ামির আশ্রয় নেয়া ঠিক হবে না।
smmjoy@gmail.com


আরো সংবাদ