২৩ অক্টোবর ২০১৮

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে হবে

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে হবে - ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যে হতাশাজনক পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে, সেটাকে আমরা কেউ তুচ্ছ করে দেখতে পারি না। এটা সাম্প্রতিক সময়ে একটি বৃহত্তম মানবিক সঙ্কট। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শরণার্থী শিবিরগুলোতে গিয়েছি। সেখানে ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কয়েকটি গ্রামে সম্পূর্ণরূপে হত্যাকাণ্ড চালানোসহ অবর্ণনীয় সহিংসতা এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করার কারণে যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে গেছে, তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি; কথা বলেছি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে যে গণহত্যা ঘটেছে- সেটা শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের একঘরে তথা বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের উদ্যোগ আয়োজন ও প্রচার অভিযানের ফলে শেষ এই নৃশংসতা সঙ্ঘটিত হলো। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পেশ করার প্রতি সমর্থন জানাই।

বাংলাদেশে এসব মানুষ এখন দ্বিতীয় ট্র্র্যাজেডির মুখোমুখি। বর্ষা মওসুম আগমনের কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির, কুতুপালং আমি পরিদর্শন করেছি। সত্যিকার অর্থে কেবল বাঁশ ও পলিথিনের সাহায্যে এসব শিবির নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো বর্ষা মওসুমের উপযোগী নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব আশ্রয় ধ্বংস হয়ে যাবে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে আর অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের কারণে পানিদূষণের ঝুঁকি বাড়ছে এবং এতে কলেরার মতো রোগের প্রাদুর্ভাবের মাধ্যমে উদ্বাস্তুরা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

মৌলিক সেবাগুলোও বিপদের মুখে রয়েছে। ৩২ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং অনেক পুষ্টি কেন্দ্র হুমকির মুখে থাকায় গর্ভবতী ৬০ হাজার নারীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এসব রোহিঙ্গা নারীর বেশির ভাগই মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতনে অনাকাক্সিক্ষতভাবে গর্ভবতী। তাদের অনাগত সন্তানের অপুষ্টি, নারীদের সন্তান জন্মদান, নবাগত শিশুদের দুগ্ধ ও খাদ্যসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নারী ও শিশুরা নানা জটিলতার মুখে পড়তে পারে। শরণার্থী শিবিরে দ্রুত ও অপরিকল্পিত লোকসংখ্যা বৃদ্ধি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অবশ্য সেখানে পরিস্থিতির উন্নতি করার সুযোগ আছে।

তাই শিশুসহ হাজার হাজার মানুষের জীবনহানির আগেই অবিলম্বে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। অন্যদের মধ্যে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে আর্থিক সহায়তার ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছে। তারা ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা দানের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া তারা আরো ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যা হোক না কেন, কেবল অর্থ সহায়তার মাধ্যমে এই সঙ্কট অবিলম্বে সমাধান করা সম্ভব হবে না। বর্তমান বাস্তবতায় সীমান্তের উভয় পক্ষের সঙ্কট সমাধানে যুক্তরাজ্য রাজনৈতিকভাবে নেতৃত্বে অবতীর্ণ হয়ে সঙ্কট সমাধানে এগিয়ে আসবে- এটাই কাম্য।

জাতিসঙ্ঘ এবং অন্যান্য সাহায্য সংস্থা শরণার্থী শিবিরে প্রবেশ করতে গিয়ে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে যাচ্ছে। শরণার্থী শিবিরে সেবাদানের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে আমাদের অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করতে হবে। এতে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের জন্য সহজ হবে বাংলাদেশীদের সহায়তা দেয়াটা। এসব বিশেষজ্ঞ সহায়তা ছাড়া স্বাস্থ্য সহায়তা, খাদ্য এবং শিক্ষাগত বিষয়ে প্রায় অর্ধলাখ লোক সেবা দিতে পারবে না।
রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ- মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সর্বোচ্চ মাত্রার অধিকার রয়েছে। তাদের এই অধিকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। যে পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, বল প্রয়োগের মাধ্যমে এখনো সেই পরিস্থিতি অব্যাহত রাখা হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে সেবা গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আনান কমিশন রাখাইন রাজ্যের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এর পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের বিচ্ছিন্ন ও একঘরে করে রাখার বিরুদ্ধে যে পরিকল্পনা ও সুপারিশ পেশ করেছে, তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, মিয়ানমার সরকারের প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আঞ্চলিক খেলোয়াড় তথা কুশীলবদের সাথে অংশদারিত্বের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য সঙ্কট সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী হবে। এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়কে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং এটা এগিয়ে নিতে হবে।

অপর দিকে, দীর্ঘ মেয়াদে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এই সঙ্কট সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করতে হবে। সঙ্কটকে সংজ্ঞায়িত করা এবং সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে অর্থায়নের ব্যাপারে সম্মত হতে এবং সাড়া দিতে হবে- যাতে শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে উদ্বাস্তুদের আত্মনির্ভরশীল করতে এবং তাদের অবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ উদ্যোগী হতে পারে।
এ ছাড়া জর্ডান, লেবানন এবং ইথিওপিয়াসহ, শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা অন্যান্য দেশের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা দরকার, যাতে শরণার্থী বিষয়ে অগ্রগতি হয়। কিছু বিষয়ে বিশ্ব কেবল ‘লিপ সার্ভিস’ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার সময়। লাখ লাখ শরণার্থীর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ ইতোমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে গেছে।
লেখক : যুক্তরাজ্যের লেবার দলীয় এমপি
ভাষান্তর : এম কে বাশার

 

 


আরো সংবাদ

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ পুতিনের মির্জাপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা ব্যাটিং ব্যর্থতায় সফলতা দেখছেন মাশরাফি ‘মেহেদী স্যারের মহানুবতায় স্বামীর স্মৃতি ফিরে পেয়েছি’ ভারতীয় মুসলমান ও উগ্র হিন্দুবাদিদের নিয়ে যা বললেন কবীর সুমন আদালতে যেমন ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল মইনুল হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ হত্যার পর খাশোগির পোশাক পরেই বের হয়ে যান ঘাতক! ব্যারিস্টার মইনুলের মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের বিক্ষোভ মিয়ানমারের পাঁচ সেনা কর্মকর্তার ওপর অস্ট্রেলিয়ার কঠোর নিষেধাজ্ঞা শাসক শ্রেণী ডাকসু নির্বাচনকে ভয় পায় : অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম

সকল