film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা একপেশে

তুরস্ক ও ইরানের প্রত্যাখ্যান ফিলিস্তিনের পাশে থাকার ঘোষণা সৌদির
ট্রাম্পের কথিত শন্তি পরিকল্পনার প্রতিবাদে গাজায় ফিলিস্তিনি নারীদের বিক্ষোভ : এএফপি -

জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত মঙ্গলবার কথিত ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনাকে আক্রমণাত্মক ও একপেশে বলে আখ্যায়িত করেছে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ ও নেতা। অন্য দিকে মার্কিনমিত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই পরিকল্পনা আক্রমণাত্মক এবং এটি অনেকের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করবে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করব না।’ ‘ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড বিক্রি করার জন্য নয়।’ মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটি ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল বুধবার জানায়, সৌদি বাদশাহ সালমান ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোনে ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।
ইরান এ পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘এটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি। এটি কোনো শান্তি চুক্তি নয়, বরং এর দ্বারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।’
কথিত মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রত্যাখান করেছে তুরস্কও। তুরস্কের ক্ষমতাসীন এ কে পার্টির ডেপুটি চেয়ারম্যান নুমান কুর্তুলমুস বলেন, ‘জেরুসালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী এবং মুসলিমদের হৃদয়।’
মিসর ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দুই দেশকেই মনযোগ দিয়ে এই প্রস্তাবটিকে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। এই পরিকল্পনাকে লজ্জার চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরাইলের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত সংগঠনটি।
ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরাও ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই বিষয়ে ইয়েমেনের হাউসি বিদ্রোহী নেতা মোহাম্মেদ আলি-আল হাউছি বলেন, ‘এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিন এবং ওই জাতির ওপর মার্কিন আগ্রাসন।’ ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড আত্মসাতের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জর্ডান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, একতরফা ইসরাইলি পদক্ষেপ বিপজ্জনক পরিণতি বয়ে আনবে।
এ দিকে ফ্রান্স শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দুই রাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়বিচার ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পরিমিতিগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান জরুরি।’
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার পর দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাইবা বলেন, ‘এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আলোচনার পথ আবার উন্মুক্ত হলো।’ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘকালীন শান্তি আসার একমাত্র উপায় হচ্ছে সব দলের সম্মতিতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ব্রিটেন। এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানায়, এই শান্তি পরিকল্পনা ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসঙ্ঘ জানায়, তারা ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি চায়। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে এমনটি জানায়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বহুল আলোচিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে জেরুসালেমকে ইসরাইলের অবিচ্ছেদ্য রাজধানী রাখার অঙ্গীকার রয়েছে। একই সাথে তিনি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রেরও প্রস্তাব করেছেন। পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনায়।
এ বিষয়ে গতকাল বুধবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনাটি অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পথ উন্মুক্ত করেছে। নাফতলি বেনেট জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে তিনি এরই মধ্যে একটি দল গঠন করেছেন।

 


আরো সংবাদ