২১ জানুয়ারি ২০২০

ফ্লোরিডার নৌঘাঁটিতে সৌদি সেনাসদস্যের গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৪

-

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৌঘাঁটিতে গুলি করে তিন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে সৌদি আরবের নাগরিক ও সে দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্য মোহাম্মদ সাঈদ আলশামরানি। ওই ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণে সেখানে অবস্থান করছিলেন মোহাম্মদ সাঈদ। হামলার সময় নিরাপত্তারক্ষাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগে বুধবার হাওয়াইয়ে পার্ল হারবার সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনাসদস্য গুলি করে হত্যা করেছে দু’জনকে।
সেখানে মোহাম্মদ সাঈদ আলশামরানির গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষ আটজন। এর মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তারক্ষাকারীদের দুইজন কর্মকর্তা। হামলাকারী একটি হ্যান্ডগান ব্যবহার করেছিলেন। পেনসাকোলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওয়াটারফ্রন্টে ওই সামরিক ঘাঁটিতে হামলার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানতে পারে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫১ মিনিটে। এ বিষয়ে এসকামবিয়া কাউন্টির শেরিফ ডেভিড মর্গান বলেন, ঘটনাস্থলের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মনে হয়েছে যেন সেখানে কোনো সিনেমার সেট সাজানো হয়েছিল। দুইজন কর্মকর্তার পায়ে গুলি করা হয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানঘাঁটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ওই এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে কমপক্ষে ১৬ হাজার সামরিক সদস্য ও সাত হাজার ৪০০ বেসামরিক ব্যক্তি কাজ করেন। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্তিস বলেছেন, হামলাকারী বিদেশী নাগরিক। তাই এ বিষয়ে অবশ্যই অনেক প্রশ্ন থাকবে। তিনি সৌদি আরবের বিমানবাহিনীর সদস্য। তার ওপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রশিক্ষণের জন্য এসেছিলেন। স্পষ্টতই সৌদি আরব সরকারের উচিত এসব ভিকটিমের বিষয়ে উন্নততর কিছু করা। আমি মনে করি, এ বিষয়ে অবশ্যই তাদের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। এর কারণ, এই হামলায় তাদেরই একজন নাগরিক জড়িত।
ওই নৌঘাঁটির বেস কমান্ডিং অফিসার টিমোথি কিনসেলা বলেছেন, হামলায় তিনি একেবারেই হতবাক। তিনি আরো বলেছেন, আমি বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছি। আমরা বেদনাহত। এ এক অবাস্তব ঘটনা। এ ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে জানানো হচ্ছে না ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না।
হামলাকারী আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে না : বাদশাহ সালমান
ফ্লোরিডার নৌঘাঁটিতে শুক্রবার এক সৌদি নাগরিকের বন্দুক হামলার ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। এক ফোন কলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি জানিয়েছেন, ওই হামলাকারী সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করে না। টুইটারে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই এ ফোন কলের কথা জানিয়েছেন।
টুইটারে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ফ্লোরিডার পেন্সাকোলায় নিহত ও আহত সেনাদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাতে সৌদি আরবের রাজা সালমান এইমাত্র কল দিয়েছিলেন। রাজা বলেছেন, বন্দুকধারীর বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে সৌদি জনগণ চরমভাবে ক্ষুব্ধ। এই ব্যক্তি কোনোভাবেই সৌদি আরবের মানুষদের অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করে না; যারা আমেরিকানদের ভালোবাসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের জন্য ওই ঘাঁটিতেই অবস্থান করছিলেন হামলাকারী সৌদি নাগরিক। তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 


আরো সংবাদ