০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ, নিহত ২

সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের
পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি ও রেশনিংয়ের সরকারি ঘোষণায় ক্ষুব্ধ ইরানিরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে : এএফপি -

অপ্রত্যাশীতভাবে পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি ও রেশনিংয়ের সরকারি ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইরানিরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
শুক্রবার রাতে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে ইতোমধ্যে কমপক্ষে দুইজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, তিনি সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে। বিদেশী শত্রুরা এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার দেশটিতে পেট্রলের মূল্য অন্তত ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে পেট্রলে দেয়া ভর্তুকি হ্রাস করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। এতে পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি পেলে ও সরকার নতুন রেশনিংয়ের ঘোষণা দেয়ায় ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার রাতে ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর সিরজানে ‘তীব্র’ প্রতিবাদ শুরু হয় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে। প্রতিবাদকারীরা শহরের একটি জ্বালানি গুদামে হামলায় চালিয়ে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে বলে বার্তা সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে। এখানে এক ব্যক্তি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, সিরজানের গভর্নরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি এমনটি জানিয়েছে বলে আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে। সিরজানের পাশাপাশি মাশহাদ, বিরজানদ, আহভাজ, গাচসারান, আবাদান, খোরামশহর, মাহশহর, শিরাজ ও বন্দর আব্বাসেও প্রতিবাদ হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে বহু ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারী তাদের গাড়িগুলো এলোপাতাড়ি ফেলে রেখে সড়ক অবরোধ করে।
অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে মোটরগাড়ির চালকদের রাজধানী তেহরানের ইমাম আলী মহাসড়ক বলে কথিত একটি সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে পুলিশকে তাদের সাথে যোগ দেয়ার সেøাগান তুলতে দেখা গেছে। আরেকটি ভিডিও ক্লিপে শীতের প্রথম ভারী তুষারপাতের মধ্যে তেহরান-কারাজ সড়কপথে অবরোধ বসাতে দেখা গেছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গাড়িচালক মাসে লিটারপ্রতি ১৫ হাজার রিয়াল দরে সর্বোচ্চ ৬০ লিটার পেট্রল কিনতে পারবেন, এরপর অতিরিক্ত প্রতি লিটারের জন্য ৩০ হাজার রিয়াল দিতে হবে। এর আগে চালকেরা লিটারপ্রতি ১০ হাজার রিয়াল দরে সর্বোচ্চ ২৫০ লিটার পেট্রল কিনতে পারতেন। পেট্রলে দেয়া ভর্তুকি হ্রাসে যে রাজস্ব আয় হবে তা স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে নগদ অর্থসহায়তা দিতে ব্যবহার করা হবে বলে সরকার জানিয়েছে। ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের নোবাখত্ জানিয়েছেন, এই মূল্য বৃদ্ধির কারণে চলতি মাস থেকে এক কোটি ৮০ লাখ পরিবার অতিরিক্ত নগদ ভাতা পাবে।
নতুন মূল্যমান নির্ধারণের কারণে বার্ষিক ৩০০ ট্রিলিয়ন রিয়াল আয় হবে, এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন তিনি। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘বর্তমানে ৭৫ শতাংশ ইরানি চাপের মধ্যে আছে, পেট্রলের মূল্য বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত যে রাজস্ব আসবে তা এই লোকগুলোই পাবে, সরকারি কোষাগারে যাবে না।’
এ দিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সরকারি সিদ্ধান্তে তার সমর্থনের কথা জানিয়ে বলেছেন, দেশে ও দেশের বাইরে ইরানের যেসব শত্রু ও বিরোধী রয়েছে তারাই চক্রান্ত করে এই অন্তর্ঘাতমূলক বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, যারা বিক্ষোভের সময় সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করেছে তারা ইরানের বিরোধী পক্ষের লোক। তারা ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন উসকানি দিচ্ছে। তবে দেশে ও দেশের বাইরে এই বিরোধী শক্তিগুলো কারা তার বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
খামেনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তের (পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির) বিরুদ্ধে কিছু মানুষ যে অসন্তুষ্ট হয়েছেন তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম ও অগ্নিসংযোগ আমাদের সাধারণ জনতারা করেনি, করেছে ইরানবিরোধী গুন্ডারা। বিরোধীরা সবসময় এসব অন্তর্ঘাতে সমর্থন জুগিয়েছে এবং উসকানি দিয়েই যাবে তারা।’
খামেনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ওপর ভিত্তি করেই পেট্রলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তকে সবার সমর্থন করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো বিশেষজ্ঞ নই, তাই আমার ভিন্ন মত থাকতেই পারে কিন্তু আমি বলব, যদি তিন শাখার প্রধান এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমি তাতে সমর্থন দেবো।’
তবে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তার ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া এক পোস্টে এই সমর্থন ঘোষণা করেন। আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে টুইট বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও লিখেছেন, ‘দেড় বছর আগেই আমি ইরানি জনগণকে বলেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের সাথে আছে’।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik