১৪ নভেম্বর ২০১৯

তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ

দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজধানী তিউনিসের পৃথক কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন কায়েস সাইদ (বাঁয়ে) ও নাবিল কারুই : এএফপি -

তিউনিসিয়ায় গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০% ভোট না পাওয়ায় ১৩ অক্টোবর (রোববার) শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়া হয়।
প্রথম দফায় প্রফেসর কায়েস সাইদ ১৮ দশমির ৪ শতাংশ ও অন্যতম প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক দল কালব তিউনিস পার্টির প্রধান নাবিল কারুই ১৫ দশমির ৬ শতাংশ ভোট পান। ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে সাইদ ও কারুই যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকায় এ দফায় তারা দুইজন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দেশটির প্রায় ৭০ লাখ ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য গতকাল ১৩ হাজার কেন্দ্র খোলা হয় এবং স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক প্রফেসর কায়েস সাইদ সবাইকে চমক লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সব হিসেব নিকেশ উল্টে দিয়ে তিউনিশিয়ার ২য় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম হন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সময় পর্যন্তও কেউ ভাবেনি তার কথা, দেশী-বিদেশী মিডিয়াতেও তার নাম ভালোভাবে কেউ নেয়নি, কোনো জরিপেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, নির্বাচনে তার পক্ষে সারা দেশে তেমন কোনো জনসভাও করতে দেখা যায়নি। এদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া নাবিল কারুইকে অর্থ কেলেঙ্কারি এবং কর জালিয়াতির অভিযোগে গত মাসে আটক করা হয়েছিল। তিউনিসিয়ার আপিল বিভাগ তার আটকাদেশ বাতিল করেছে। গত বুধবার মুক্তি পেলেও তিনি এখনো বিভিন্ন অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। সমালোচকরা বলছে কারুইর আটকের বিষয়টি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।
তিউনিসিয়ার নির্বাচন কমিশন জানান, রোববারের নির্বাচনে যদি কারুই হেরে যায় তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রচারের অনুমতি না পাওয়ায় এই ফলাফলের জন্য তিনি আদালতে আবেদন করতে পারবেন। রোববার বিজয়ী প্রেসিডেন্টকে ৫ বছর মেয়াদে দেশ পরিচালনার জন্য নিয়োগ দেয়া হবে।
এদিকে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কাকে সমর্থন দেবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামী দল আন নাহদা অধিকতর কম সেক্যুলার প্রফেসর কায়েস সাইদকে এবং নিদে তিউনিস তাদের সাবেক নেতা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নাবিল কারুইকে সমর্থন দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৬ তারিখে তিউনিসিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইসলামপন্থী আন নাহদা সর্বোচ্চ আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে জয় পায়নি।

 


আরো সংবাদ