২০ অক্টোবর ২০১৯

ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশেষ অধিবেশনে বসবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নিজ দলে বিদ্রোহের মুখে জনসন

-

ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পার্লামেন্টে বিশেষ জরুরি বৈঠক ডাকা হচ্ছে। স্যাটারডে সিটিং নামে পরিচিত বিশেষ এই অধিবেশনে আগামী ১৯ অক্টোবর ব্রেক্সিটের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। ১৯৩৯ সালের পর থেকে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো আহ্বান করা হচ্ছে বিশেষ এই অধিবেশন।
ব্রিটেনের পার্লামেন্টের অধিবেশন সাধারণত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে। কখনো কখনো শুক্রবারেও অধিবেশন চলে। তবে এই দিনে সাধারণত আইনপ্রণেতারা নিজেদের পার্লামেন্টারি এলাকায় নানা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ৮০ বছরে মাত্র চারবার শনিবারে অধিবেশনে বসেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো ১৯৩৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্যাটারডে সিটিংয়ে বসে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট হাউজ অব কমন্স। ১৯৪৯ সালের ৩০ জুলাই বসে গ্রীষ্মকালীন স্থগিত বিতর্ক ইস্যুতে। ১৯৫৬ সালের ৩ নভেম্বর বসে সুয়েজ খাল সঙ্কট ইস্যুতে। আর সর্বশেষ ১৯৮২ সালের ৩ এপ্রিল ফকল্যান্ড দ্বীপে আগ্রাসন ইস্যুতে। আর এবার ব্রেক্সিট ইস্যুতে ১৯ অক্টোবর শনিবার বসতে যাচ্ছে এই অধিবেশন।
৩১ অক্টোবরের ব্রেক্সিট চূড়ান্ত করতে ইইউর সাথে গুরুত্বপূর্ণ এক সম্মেলনের পর শনিবারের ওই বিশেষ অধিবেশনে বসবেন আইনপ্রণেতারা। ওই অধিবেশনে ইইউ সম্মেলনে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হলে আইনপ্রণেতাদের তা অনুমোদনের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর চুক্তি না হলে বেশ কিছু বিকল্প উপস্থাপন করা হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট বা পুরো ব্রেক্সিটই স্থগিত করে দেয়া।
যেকোনো মূল্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর বরিস জনসন মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টারি দলের সমর্থনও হারাতে পারেন। এ দিকে ইইউ নেতারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের দায় সরাসরি জনসনের ওপর চাপাচ্ছেন। সব মিলে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ক্ষমতায় আসার পর তাকে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিরোধী ও বিদ্রোহী পক্ষ এবং আদালত সামাল দিতে হচ্ছিল। টোরি দলের মধ্যে বিপুল সমর্থন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় অন্তত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আশঙ্কা ছিল না। এবার মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টারি দলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের ফলে ঠিক সেটিই ঘটতে চলেছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। বুধবার দ্য টাইমস সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক খবর অনুযায়ী চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টারি দলের অনেক সদস্য পদত্যাগ করতে চলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে দ্য টাইমস এই দাবি করেছে।
দলের মধ্যে সত্যি এমন বিদ্রোহ ঘটলে বরিস জনসনের রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা বড় ধাক্কা খেতে পারে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যেকোনো মূল্যে ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করে আগাম নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থনের আশায় রয়েছেন তিনি; কিন্তু দলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ তার সঙ্গ ত্যাগ করলে নির্বাচনে সাফল্য অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। বিরোধীদের মধ্যে বেড়ে চলা ঐক্যও টোরি দলের জয়ের সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে পারে।
আর মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চুক্তির মাধ্যমে ব্রেক্সিট কার্যকর করার সম্ভাবনাও কমে চলেছে। মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা ম্যার্কেলের সাথে টেলিফোনে আলোচনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর শেষ মুহূর্তে বোঝাপড়ার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছে।
কূটনৈতিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করে ইইউ সরকারগুলোর পরিষদের প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক সরাসরি বরিস জনসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক টুইট বার্তায় তিনি জনসনের উদ্দেশে দোষ চাপানোর ‘বোকা’ খেলা ছেড়ে ব্রিটেন ও ইউরোপের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার ডাক দিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তার সরাসরি প্রশ্ন, ‘আপনি চুক্তি চান না, ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়াতে চান না, ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে চান না, কী চান আপনি?’
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রধান ডাভিড সাসোলি আরো এক ধাপ এগিয়ে বরিস জনসনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মঙ্গলবার লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর তিনি বলেন, পাঁচ দিন আগে জনসন ইইউ মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ের কাছে যে প্রস্তাব পেশ করেছেন তার আইডিয়া যদি শুধু সেটুকুর মধ্যেই সীমিত হয়, তার অর্থ জনসন আদৌ কোনো চুক্তি চাইছেন না।
এমন নেতিবাচক পরিবেশ সত্ত্বেও ব্রাসেলসে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকরের সাথে বরিস জনসনের টেলিফোন সংলাপের পর সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন কোভেনি শেষ মুহূর্তে বোঝাপড়া সম্পর্কে আশা প্রকাশ করেছেন।

 


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik