১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নেতানিয়াহুর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নিন্দার ঝড় জর্দান উপত্যকা ইসরাইলভুক্ত করার পরিকল্পনা

-

দখলীকৃত পশ্চিমতীরে বসতি সম্প্রসারণে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু যে ঘোষণা দিয়েছেন তার কড়া নিন্দা জানিয়েছে আরব দেশগুলো। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে পশ্চিমতীরের জর্দান উপত্যকা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার তার এ প্রতিশ্রুতির পর সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সমালোচনা করেছে জর্দান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। জরুরি ভিত্তিতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ডেকেছে সৌদি আরব। নেতানিয়াহুর এমন ঘোষণাকে আগ্রাসন আখ্যায়িত করে একে ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে আরব লিগ। ফিলিস্তিনি কূটনীতিক সায়েব এরিকাত বলেছেন, এমন পদক্ষেপ হবে যুদ্ধাপরাধ। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো সম্ভাবনাকে কবর দেয়া হবে।
১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর দখল করে আছে ইসরাইল। তবে এর সম্প্রসারণ করেনি তারা সেভাবে। অন্যদিকে অখণ্ড ফিলিস্তিনকে ভবিষ্যৎ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে ফিলিস্তিনিরা। এর আগে নেতানিয়াহু বলেছেন, নিরাপত্তার জন্য জর্দান উপত্যকায় সব সময় ইসরাইলের উপস্থিতি থাকবে।
আগামী সপ্তাহে ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হতে নেতানিয়াহু এই টোপ ফেলেছেন এবার। তিনি মঙ্গলবার ইসরাইলি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, আমি আমার মূল উদ্দেশ্য ঘোষণা করছি। নতুন সরকার গঠনের পর জর্দান উপত্যকায় এবং ‘ডেড সি’তে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের প্রয়োগ ঘটাব। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলি নাগরিকদের কাছ থেকে তিনি যদি সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট পান তাহলে নির্বাচনের পরপরই এমন পদক্ষেপ নেবেন।
জর্দান উপত্যকা ও উত্তরাঞ্চলীয় ডেড সি হলো পশ্চিমতীরের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ। এসব এলাকায় বসবাস করেন প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি এবং ১১ হাজার অবৈধ ইসরাইলি। তাদের নিয়ন্ত্রণ করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ওদিকে আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি নেতানিয়াহু। তাই তিনি ইহুদিদের সেন্টিমেন্টকে নাড়া দেয়ার জন্য এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিমতীরজুড়ে ইহুদি বসতির বিস্তার ঘটাবেন। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশের আগে ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে পরামর্শ না করে এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে না।
নিন্দায় সরব আরব বিশ্ব
নেতানিয়াহুর ঘোষণার পর এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব বিশ্ব। ওই ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে আরব লিগ। এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, জর্দান এবং সৌদি আরবও এর কঠোর সমালোচনা করেছে। ইসরাইলের এমন ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে উত্তেজনার জন্য একটি অত্যন্ত ভয়াবহতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সৌদি আরব। তারা এ বিষয়ে আলোচনা করতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।
আরব লিগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নেয়ার যেকোনো সুযোগকে এর মধ্য দিয়ে খর্ব করা হবে।
নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে ‘আগ্রাসন’ ও ‘বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আরব লিগ। সংস্থাটি বলছে, নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এ ধরনের পদক্ষেপ শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি নষ্ট করবে। ফিলিস্তিনের কূটনীতিক সায়েব এরিকাত বলেন, ‘এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এটি এ অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের কবর রচনা করবে।’ দেশটির কর্মকর্তা হানান আনসারি বলেন, ‘নেতানিয়াহু কেবল দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই নষ্ট করছেন না, তিনি শান্তি প্রক্রিয়ার সব সুযোগই নষ্ট করছেন।’
নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসোগলু। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু আগ্রাসী বার্তা দিচ্ছেন। জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি ওই পরিকল্পনাকে ‘ভয়ঙ্কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে সমগ্র অঞ্চলে সহিংসতা তরান্বিত হবে।
এই পদক্ষেপ নিয়ে যদি নেতানিয়াহু অগ্রসর হন তাহলে তাদের সাথে যত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং যেসব বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে তাদের তরফ থেকে, তার ইতি ঘটবে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আরো কড়া নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ সতায়ে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগকে তিনি শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি প্রধান ধ্বংসাত্মক ইস্যু বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হতে পারে না।


আরো সংবাদ