২২ আগস্ট ২০১৯

তিউনিসিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে লড়বেন রশিদ ঘানুশি

-

তিউনিসিয়ার মধ্যপন্থী ইসলামী দল আননাহদা পার্টির প্রভাবশালী নেতা রশিদ আল ঘানুশি আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াবেন। এই সিদ্ধান্তকে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব গ্রহণের ব্যাপারে দলটির অবস্থান নেয়ার ব্যাপক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রায় দুই দশক ধরে দেশটির শাসক সাবেক প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বিন আলী বর্তমানে লন্ডনে নির্বাসিত। তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালের বিপ্লবের পেছনে ঘানুশির ভূমিকাই ছিল প্রধান শক্তি, কিন্তু তিনি কোনো সরকারি পদ গ্রহণের পেছনে কখনোই দৌড়াননি।
সমালোচকেরা বলছেন, ৭৮ বছর বয়সী একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যিনি ধর্মনিরপেক্ষ প্রেসিডেন্ট ৯২ বছর বয়সী বেজি সাইদ এসেবসির সাথে একত্রে দেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। প্রায়ই বয়সের কারণে তাদের ‘দুই শায়খ’ খেতাবে উল্লেখ করা হয়।
আননাহদা পার্টির কর্মকর্তা ইমদ খিমিরি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তিউনিসিয়ায় গণতান্ত্রিক সংহতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়টিতে এই দলগুলোর নেতারা আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চায়। তিউনিসিয়ার আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে আননাহদা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপিত তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে ঘানুশির নাম।’
পার্লামেন্টের আসনের জন্য ঘানুশির প্রার্থিতা আননাহদা নির্বাচনে জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রী বা স্পিকার হিসেবে তার প্রধান ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আশা করা হচ্ছে ৬ অক্টোবর পার্লামেন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৭ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১১ সালের বিপ্লবের পর এবার তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন হবে যেখানে তিউনিসিয়ানরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে।
পার্লামেন্ট নির্বাচনে আননাহদা পার্টির সাথে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ শাহেদের তাহিয়া তিউনস পার্টি, হাফেজ সাইদ এসেবসির নেতৃত্বাধীন নিদা তিউনস দল, প্রেসিডেন্টের ছেলে এবং কুরেন্ট ডেমোক্র্যাট পার্টির লড়াই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরব বসন্ত বিদ্রোহের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সাফল্য এসেছে শুধু তিউনিসিয়ায়। নতুন সংবিধান হয়েছে, মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো লড়াই ও অভ্যুত্থান ছাড়াই ধর্মনিরপেক্ষ ও মধ্য ইসলামপন্থীরা জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠন করেছে। তিউনিসিয়া ছাড়া এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশেই এমনটা দেখা যায়নি।
কিন্তু রাজনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে মিলিয়ে অর্থনৈতিক উন্নতি আসেনি। ২০১০ সালে বেকারত্ব ছিল ১২ শতাংশ, দুর্বল প্রবৃদ্ধি ও কম বিনিয়োগের কারণে বর্তমানে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশে।

 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet