১৮ আগস্ট ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার পর চলছে দোষারোপের খেলা

-

গোয়েন্দা সতর্কতা কেন আমলে নেয়া হয়নি তা হয়তো রাজনৈতিক অন্তদৃষ্টি ব্যাখ্যা করতে পারবে। তবে বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কায় শুরু হয়েছে দোষারোপের খেলা।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার পাঁচটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় তিন শতাধিক মানুষ মারা গেছে। এই হামলা ঠেকানোর ব্যর্থতা সম্পর্কে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে একে অপরকে দোষারোপ। প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহের মধ্যে দ্বন্দ্ব সরকারকে এতটা অসহায় করে তুলেছিল যে, ক্ষয়ক্ষতি রোধের তথ্য জানাও কঠিন ছিল। এই হামলায় একটি অল্প পরিচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দোষারোপ করা হয়েছে।
হামলার শিকার হয়েছেন মূলত খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা কলোম্বোর তিনটি চার্চ, কাছাকাছি নেগোম্বো ও পূর্ব উপকূলের বাত্তিকালোয়ায় ইস্টার সানডে উপলক্ষে উপাসনা করতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া কলম্বোর পাঁচ তারকা হোটেলে তিনটি বিস্ফোরণে ৩৮ জন বিদেশী নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক। এ ঘটনায় যখন মাইথ্রিপালা সিরসেনাকে বারবার দোষারোপ করা হচ্ছিল তখন তার মুখপাত্র রাজিথা সেনারতœ বলেন, ‘আমরা সরকার হিসেবে খুবই দুঃখিত।’ সিরিসেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহকে তিনি আক্রমণের সম্ভাব্য রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। রিপোর্ট দিতে পারলে হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত।
আরো বলা হয়, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ৪ এপ্রিলের মতো তাদের সতর্কতা জারি করেছিল। ৯ এপ্রিল একটি চিঠিতে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান সন্দেভাজনদের নামও জানিয়েছিলেন। এমন একটি বিবরণ যা এ ধরনের সতর্ক বার্তা হিসেবে খুব বিরল। আক্রমণের কিছু দিন আগে কয়েকটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেছিল, ধর্মীয় উপাসনাকেন্দ্র বিশেষ করে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের চার্চ ও পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা হতে পারে।
ক্যাথলিক চার্চের স্থানীয় প্রধান কার্ডিনাল ম্যালকম রঞ্জিত বলেন, যোগাযোগের ব্যর্থতা আমাদের চিন্তাকে আটকে রাখে। গত বছরের অক্টোবর থেকে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সভায়ও প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহকে ডাকা হয়নি। সে সময় সিরসেনা হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাহিন্দা রাজাপাকসের নাম ঘোষণা করেন। কিন্তু ডিসেম্বরে আদালত বিক্রমাসিংহকে প্রধানমন্ত্রী করতে সিরসেনাকে অপমানজনকভাবে বাধ্য করে। সোমবার কলম্বোর প্রধান বাস স্টেশনে ৮৭টি বোমা বিস্ফোরক আবিষ্কার সন্ত্রাসী হামলার সংগঠিত পরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। দশ বছর আগে তামিল টাইগারদের সাথে রক্তাক্ত ২৭ বছরের গৃহযুদ্ধের সমাপ্তির পর শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বড় সংঘটিত হামলা ছিল এটি। সন্ত্রাসীদের প্রথম টার্গেট ছিল শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান।
মুখপাত্র সেনারতœ একটি ক্ষুদ্র উগ্রবাদী গোষ্ঠী ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতকে এই হামলার জন্য দায়ী করে বলেছেন, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা শ্রীলঙ্কান। তবে তিনি বলেন, এত বড় হামলা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ছাড়া সম্ভব হতে পারে না। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র শেরল লাকথিলাক পৃথকভাবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হামলায় আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট।’ ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত (এনটিজে) একটি অতি রক্ষণশীল উগ্রবাদী গোষ্ঠী। এর সাথে তামিলনাড়–র উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে সংযোগ রয়েছে। তামিলনাড়– ভারত মহাসাগরের তীরে শ্রীলঙ্কার পার্শ্ববর্তী ভারতের একটি রাজ্য। এদের নেটওয়ার্ক মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
হামলার পর ২২ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি তদন্তের তিন সদস্যের একটি প্যানেল নিযুুক্ত করা হয়েছে। ২০ এপ্রিল ঘোষণা করা হয় জাতীয় শোক দিবস। টুইটারে দেশটির একজন আইন শিক্ষক আসঙ্গা ওয়েলিকালা এ ঘটনাকে বর্ণনা করেছেন ‘অ্যাসোলুট রাবিশ টোকেনিজম’ হিসেবে।
কোনো ঘটনার রাজনৈতিক বিতর্কের সাথে সাথে বিতর্কের পথেও হতাশা দেখা দেয়। তবে হামলার কারণে শ্রীলঙ্কায় উগ্রবাদের প্রসার সম্পর্কে একটি উন্মুক্ত আলোচনা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার মুসলিম কংগ্রেসের নেতা রউফ হাকিম বলেছেন, সম্প্রদায়ের মধ্যে কি ঘটছে তাতে জড়িত হতে হবে। চরমপন্থা মোকাবেলার জন্য মুসলিম সম্প্রদায় মসজিদসহ অনেক দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


আরো সংবাদ

bedava internet