২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে লাখো নারীর পদযাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রেজুড়ে গত শনিবার নারীদের তৃতীয় বার্ষিক পদযাত্রায় হাজার হাজার নারী অংশ নেন। লস এঞ্জেলেসের পদযাত্রায় অন্যদের সাথে এটর্নি গ্লোরিয়া অলরেডও যোগদান করেন। এবারের পদযাত্রায় সামাজিক পরিবর্তন ও বিশ্বব্যাপী নারী অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয় :এএফপি -

গত শনিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো প্রতিবাদী নারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। ঠাণ্ঠা তাপমাত্রা ও আর্দ্র আবহাওয়া কোনো কিছুই নারীদের উপস্থিতিকে বাধা দিতে পারেনি। পরপর তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো নারীদের পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওয়াশিংটনে বিশাল এক সমাবেশে মার্চ উদ্যোক্তা এবং লিঙ্গ-সমতা অধিকারের নেতা আব্বি স্টেইন প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কোনো কিছুই আমাদের বিভক্ত করতে পারবে না। আমরা সবাই নারী বলে এখানে একত্র হইনি, আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ আমাদের একত্র করেছে। সীমান্তে যতদিন না এক একটি শিশু তাদের বাবা-মা’র সাথে মিলিত হচ্ছে, আমাদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই প্রতিটি শিশু হোক মুক্ত, তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-পরিচর্যার সুযোগ পাক। ’
২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেই গণ-বিক্ষোভে প্রতিবাদের কণ্ঠ ছিল নারীদের। সমঅধিকার, নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমতায়ন, অভিবাসন সংস্কার, প্রজনন অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা উন্নতিসহ নানা বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ জানায় নারীরা। সেই ধারা বজায় রাখতে শনিবার পালিত হয় ওয়মেন্স মার্চ।
এবারে নারীদের পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা গত বারের তুলনায় অনেক কম।
এবারে আয়োজকেরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন রাজধানীতে পাঁচ লাখের মতো মানুষ অংশ নেবেন। কিন্তু ওয়াশিংটনে মাত্র এক লাখের মতো উপস্থিতি দেখা যায়। নিউ ইয়র্কসহ দেশব্যাপী কয়েক ডজন শহরে অন্যান্য পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেস প্রতিবাদকারীদের সাথে মিছিল করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে আমাদের অধিকার নিতে দেবো না। কার্যত আমরা তাদের অধিকারকেও প্রসারিত করব।
এর মাধ্যমে আমাদের পক্ষ সমর্থনের শুরু কারণ আমরা হাউজকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চাই এবং এখন আমরা এটি দেখাবো যে আমরা এটা কীভাবে করব।’ তিনি গত বছরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন যার ফলে তার পার্টি হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।
এবারে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেই সাথে যুক্ত হয় বৃষ্টি, কোনো কিছুই নারীদের উপস্থিতিকে বাধা দিতে পারেনি। বাজনার ছন্দে নাচতে নাচতে মিছিল আসতে শুরু করেছিল। চারদিক দেখে কেউ বিশ্বাস করবে না এটি একটি প্রতিবাদের সমাবেশ। এতে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের, পেশার, জাতির, নারীরা। সবার কণ্ঠে ছিল একই ধ্বনি, প্রতিবাদের ধ্বনি।
পদযাত্রায় অংশ নিতে আশা স্কুলের টিচার মিশা এলা বারস জানান, তিনি এসেছেন তার মতো আরো যারা আছেন তাদের প্রতিনিধি হয়ে জোর গলায় প্রতিবাদ জানাতে। তিনি বলছিলেন, অভিবাসীরা বেশির ভাগই আসে প্লেনে করে, দেয়াল টপকে নয়। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর চাইতেও আরো গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই দিকেই নজর দেয়া প্রয়োজন। তিনি তার ব্যর্থতা লুকানোর জন্য এই বিষয়গুলো নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন বেশি।
পদযাত্রায় নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পুরুষরাও। তারা মনে করেন নারীদের এই প্রতিবাদ যথাযথ এবং সব ধরনের সহায়তার জন্য তারা নারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই সমাবেশে। তাইতো রাস্তার ওপর শীতের টুপি বিক্রেতা থমাস স্লোগান দিচ্ছিলেন,‘ওয়মেন বিলংস ইন দ্য হোয়াইট হাউজ।’ তিনি এমনটি মনে করেন- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেই জঞ্জাল তৈরি করেছেন ওয়াইট হাউজে একমাত্র নারীরাই পারবেন ওই জঞ্জাল পরিষ্কার করতে। নারীদের সেই ক্ষমতা রয়েছে। যেকোনো বিষয়ে নারীরা সবকিছু বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেয়। কোনো সিদ্ধান্ত তারা হুট করে নেয় না।
তিনি বলছিলেন বিশ্বে নারী নেতৃত্বে যেই দেশগুলো চলছে, তারা তো পিছিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র একটি মুক্ত চিন্তা-চেতনার, অগাধ সুযোগের দেশ হিসেবে কেন নারীদের সেই ক্ষমতা দেবে না।
এই সমাবেশে ক্যানাডা থেকে আসে এনা ভ্রায়েন্স। আগের দিন অংশ নিয়েছেন জাতিগত অধিকার আদায়ের প্রতিবাদ সমাবেশে এবং পরের দিন যোগ দেন এই নারীদের সমাবেশে। তিনি বলেন, আমি আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এই সমাবেশে এসেছি। এখানে সবাই খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে, দেখে খুব ভালো লাগছে। যদিও আমি কানাডার নাগরিক কিন্তু এই প্রতিবাদ সমাবেশ তো পালিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। নারীদের ওপর অন্যায়-অবিচার চলছে বিশ্বজুড়ে। তার অবসানের লক্ষ্যে আমার এখানে অংশ নেয়া।
ওই সমাবেশে নারীরা বলছিলেন গত তিন বছরে নারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং সফলতা অর্জন করেছেন। তারা বলছিলেন নারীদের এখন দুর্বল ভাŸার অবকাশ নেই কেননা এখন কংগ্রেসেও উল্লেখযোগ্য আসন সংখ্যা এখন নারীদের কাছে রয়েছে। তিন বছর আগে এই নারীদের সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে কেউ ভাবেনি নারীদের ক্ষমতা।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme