২৩ আগস্ট ২০১৯

ব্রেক্সিট ইস্যুতে থেরেসার দলে ভাঙনের আশঙ্কা

-

ব্রিটেনে ব্রেক্সিট প্ল্যান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির ব্রেক্সিটবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী স্টিভ বেকার মন্তব্য করেছেন, যদি থেরেসা মে তার তথাকথিত চেকার্স সমঝোতা নিয়ে গো ধরে বসে থাকেন তাহলে দল এ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। বেকার আরো বলেন, এ ক্ষেত্রে দলের ৮০ জন বা তার চেয়ে বেশি এমপি ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এর আগে সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছিলেন, থেরেসা মের ব্রেক্সিট প্ল্যানটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে তার দলের মধ্যেই বিরোধী পক্ষ তৈরি হয়েছে। থেরেসার ব্রেক্সিট ইস্যুতে পদত্যাগ করেছিলেন স্টিভ বেকার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি নেতৃত্ব বদলের কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না। কিন্তু তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দলের চার দিনব্যাপী সম্মেলনে ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে যাচ্ছেন থেরেসা।
তিনি বলেন, আমরা যদি লেবার পার্টির ভোটের ওপর ভিত্তি করে চেকার্স নিয়ে সম্মেলনে থেকে বের হই, তাহলে আমার মনে হয় ইইউর পক্ষের আলোচকেরা বিষয়টি বুঝবেন। সে ক্ষেত্রে টোরি পার্টি একটি বিপর্যয়কর বিভক্তির মুখে পড়বে, যা আমরা এতদিন ধরে এড়িয়ে আসছিলাম। বেকার মনে করেন, চেকার্স সমঝোতার চেয়ে থেরেসার উচিত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে কথা বলা। গত মার্চেই এ ধরনের একটি প্রস্তাব ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
আগামী বছরে ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবে ব্রিটেন। এখন পর্যন্ত অবশ্য এ ব্যাপারে খুব কমই পরিষ্কার হয়েছে। সম্ভবত এ ক্ষেত্রে ব্রিটেনের পুরোপুরি বেরিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। থেরেসা মের কিছু সমালোচক অবশ্য বলছেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মাধ্যমে চুক্তি পাস করিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সমস্যা পড়বেন তিনি। লন্ডন ও ব্রাসেলস উভয়ই বলছে, তারা অক্টোবরের ১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত ইইউ কাউন্সিলেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত চুক্তি তথা ডিভোর্স ডিল আশা করছেন। আর যদি তা না হয় তাহলে অন্তত এ বছরের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চায় সব পক্ষই।
ইইউ বিষয়ক যেকোনো বিষয় অবশ্যই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হতে হবে। ২০ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানে ক্রিস মাসের ছুটি রয়েছে। যদি ডিসেম্বরের শেষ দিকে অথবা জানুয়ারির প্রথম দিকে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা ব্রেক্সিট বিল প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ করার আশা তিন মাসের জন্য পিছিয়ে যাবে। যদি কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রিটেন ইইউ থেকে সরে যায়, তাহলে তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্বাভাবিক নিয়মেই সব দেশের সাথে বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবে, এ ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের অগ্রাধিকার পাবে না।
এ বিষয়ে সতর্ক করে কিছু ব্যবসায়ী বলেছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট হলে বড় ধরনের জটিলতা বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ তারা বলেন, ব্রিটেনের দক্ষিণাঞ্চলে ডোবার বন্দরের কাস্টমসে যদি প্রতিটি লরিতে দুই মিনিট করে সময় লাগে তাহলে একদিনের মধ্যেই অন্য প্রান্তে ১৪ মাইল লম্বা যানজট লেগে যাবে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet