২৩ জুন ২০১৮

ইয়েমেনের হোদায়দা বন্দরে যুদ্ধ অব্যাহত, নিহত ২৬

জাতিসঙ্ঘে জরুরি বৈঠক
হোদায়দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয় কিলোমিটার দক্ষিণে দুরাইহিমি শহরে যাচ্ছে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীর গাড়ির একটি সারি : এএফপি -

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের বৃহত্তম বন্দরনগরী হোদায়দাহতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই অভিযানে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউছি অধ্যুষিত এই এলাকাটিতে অভিযান শুরু করে সৌদি জোট। নিহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চারজন সেনা রয়েছেন। আর হাউছি বিদ্রোহীদের মধ্যে নিহত হয়েছে ২২ সেনা।
২০১৫ সালে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের পর এটাই সৌদি জোটের সাথে হাউছিদের সবচেয়ে বড় লড়াই। হাউছিদের সব ধরনের সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জন্যই বন্দরটিতে হামলা চালিয়েছে জোট। জঙ্গিবিমান ও জাহাজের পাশাপাশি আরব আমিরাত সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী, লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় দলগুলোর পাশাপাশি হাউছিদের হাতে নিহত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহর ভাতিজার নেতৃত্বাধীন একটি ব্যাটেলিয়ন জোটের পক্ষে এই অভিযানে অংশ নিয়েছে।
হোদায়দার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত শহরের বিমানবন্দর আল-দুরাইমিকে ঘিরেই মূলত লড়াই শুরু হয়েছে। হোদায়দা বন্দর দিয়েই দেশটির বেশির ভাগ ত্রাণ পৌঁছে। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। আমিরাতি বার্তা সংস্থা ওয়াম, তার চারজন সেনার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। আর মেডিক্যাল সূত্র জানিয়েছে হাউছি নিহতের সংখ্যা ২২। সৌদি জোট জানিয়েছে, বুধবার শহরের হাউছি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ১৮টি বিমান হামলা চালানো হয়।
এ দিকে ইয়েমেনের হোদায়দা বন্দরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানের পর জরুরি আলোচনার জন্য জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ব্রিটেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কূটনীতিকেরা এ কথা জানান। ইয়েমেন সঙ্কট নিয়ে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠক হলে চলতি সপ্তাহে পরিষদের এটি হবে দ্বিতীয় বৈঠক।
জাতিসঙ্ঘ ইয়েমেনের প্রধান বন্দরে জোটের সামরিক অভিযানের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেননা, এতে ইয়েমেনের লাখ লাখ লোকের কাছে বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক ত্রাণ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে হোদায়দার চারদিকে সামরিক অভিযান চালিয়ে এ বন্দর দিয়ে আসা পণ্যের সরবরাহ অবশ্যই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। জনসন বলেন, এ জোট আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে যে সেখানে অভিযান পরিকল্পনায় মানবিক বিষয় তাদের বিবেচনায় রয়েছে। ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটিতে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 


আরো সংবাদ