২৩ জুন ২০১৮
ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় জাতিসঙ্ঘে প্রস্তাব পাস

ইসরাইলের মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নিন্দা

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর -

ফিলিস্তিনের বেসামরিক জনগণের ওপর ইসরাইলের মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়ে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা’র সুপারিশ করতে জাতিসঙ্ঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেরেসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার আলজেরিয়া, তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের আনা নিন্দা প্রস্তাবটি ১২০ ভোটে গৃহীত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলসহ আটটি দেশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়; ভোটদানে বিরত ছিল ৪৫টি রাষ্ট্র। চলতি মাসে একই ধরনের একটি প্রস্তাব ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।
বুধবারের প্রস্তাবে গাজা থেকে ইসরাইলের বেসামরিক এলাকার দিকে রকেট ছোড়ারও নিন্দা জানানো হয়। সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব মানতে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এর রাজনৈতিক মূল্য আছে। ভোটাভুটির আগে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ‘প্রস্তাবের প্রকৃতিতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, রাজনীতিই আজকের দিনগুলোকে পরিচালনা করছে। এটি (প্রস্তাব) পুরোপুরি একপেশে। এতে একবারো হামাসের নাম বলা হয়নি, যারা ধারাবাহিকভাবে গাজায় সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।’ হামাসকে নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবে একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ওই চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ভোটের আগে জাতিসঙ্ঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ডানন বলেন, ‘প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আপনারা সন্ত্রাসী একটি সংগঠনের সাথে গোপন অশুভ আঁতাতের অংশীদার হচ্ছেন; প্রস্তাবের পক্ষে থেকে আপনারা হামাসকে ক্ষমতায়িত করছেন।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান ছিল অস্ট্রেলিয়া, মার্শাল আইল্যান্ডস, নাউরু, মাইক্রোনেশিয়া, সলোমন আইল্যান্ডস ও টোগোর।
চলতি বছরের ৩০ মার্চ থেকে গাজা সীমান্ত বরাবর ফিলিস্তিনিদের ‘মার্চ অব রিটার্ন’ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত ১২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল ১৪ মে, এ দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগে ইসরাইলের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থাকলেও দেশটি বলছে, তাদের হামলায় নিহতদের বেশির ভাগই সন্ত্রাসী। ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা সীমান্তে হামলা প্রতিহত করছে বলেও দাবি তেল আবিবের। ইসরাইলের তথাকথিত ‘আত্মরক্ষার অধিকারের’ পক্ষে শক্ত অবস্থান ওয়াশিংটনের। তেল আবিবের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ আটকে দিতেও বেশ সচেষ্ট তারা।
অথচ গাজা-ইসরাইল সীমান্ত বরাবর চলমান বিক্ষোভে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীরা নিরস্ত্র, ইসরাইল তাদের ওপর অত্যধিক শক্তি প্রয়োগ করছে। সাধারণ পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব নিয়ে ভোটের আগে জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনি দূত রিয়াদ মনসুর বলেন, ‘আমাদের বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা প্রয়োজন। সহিংস পরিস্থিতির মাত্রা কমিয়ে আনাই এ প্রস্তাবের লক্ষ্য। ভয়াবহ সহিংস অপরাধ এবং যেভাবে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে তা নিয়ে চুপ করে থাকতে পারি না আমরা।’
বুধবারের প্রস্তাবে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবকে ৬০ দিনের মধ্যে ‘ইসরাইলি দখলকৃত অঞ্চলের বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাসহ তাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ভালো পরিবেশ নিশ্চিতের উপায় সংক্রান্ত’ সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সাধারণ পরিষদের ১২৮টি দেশ জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দানের বিরোধিতা করেছিল।


আরো সংবাদ