২৩ জুন ২০১৮

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত উ: কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে : পম্পেও

সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইনের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও : এএফপি -

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কাজ দ্রুততার সাথে শেষ করতে হবে বলে পিয়ংইয়ংয়ের নেতা কিম জং উন উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এ প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না করা পর্যন্ত আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে পিয়ংইয়ং কোন পরিত্রাণ পাবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
পম্পেও বলেন, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে ওয়াশিংটন প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। সিঙ্গাপুরে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া বৈঠকের বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতির পর গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বললেন। এ দিকে এ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর ব্যাপারে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না থাকায় এর সমালোচনা করা হয়। পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে উত্তর কোরিয়ার প্রচেষ্টার ব্যাপারে পম্পেও বলেন, ‘অবশ্যই দ্রুততার সাথে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে পিয়ংইয়ংয়ের নেতা এমনটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে আমরা মনে করি।’
মঙ্গলবারের এ ঐতিহাসিক বৈঠকের বিষয় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে জানাতে ওয়াশিংটনের এ শীর্ষ কূটনীতিক বর্তমানে সিউলে রয়েছেন। সিউলে বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য পম্পেওর বেইজিং যাওয়ার কথা রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। বুধবার তিন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা জানান, থউত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিতে কাজ করবেন তারা।
বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারা কোনো ও দক্ষিণ কোরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাং কুং হোয়া দ্ইু দিনের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। পম্পেও বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সহজ হবে না।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিতে দুই নেতা ‘কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে’ কাজ করতে সম্মত হন। এ বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণায়ও স্বাক্ষর করেন তারা। কখন ও কিভাবে পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে, যৌথ ঘোষণায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কথা না থাকায় এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প-কিম বৈঠক সম্বন্ধে দক্ষিণ কোরীয় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ সম্মেলন শেষ করেই সিউল যান পম্পেও। তিনি জানান, উত্তর কোরিয়ার সাথে এখনো ‘অনেক কাজ করার বাকি আছে’। বড় ধরনের নিরস্ত্রীকরণ। আমরা আশাবাদী, এটা আমরা আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই অর্জন করতে পারবো।
সিঙ্গাপুরে স্বাক্ষরিত নথিতে সুনির্দিষ্ট করে এ সময়সীমার (২০২০ সাল) উল্লেখ নেই কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নকে ‘অপমানজনক’ ও ‘হাস্যকর’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দেন পম্পেও।


আরো সংবাদ