২৩ জুন ২০১৮

সামরিক আলোচনায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার পানমুনজম গ্রামে বৈঠকের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন দুই কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা : এএফপি -

গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সামরিক আলোচনায় মিলিত হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সামরিক মহড়া বাতিলের মাত্র দুই দিন পরেই দেশ দু’টি এ বৈঠকে মিলিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষের দুই তারকাবিশিষ্ট জেনারেলরা অংশ নেন।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় সীমান্ত এলাকা পানমুনজম গ্রামে। এ গ্রামেই গত এপ্রিলে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা আলোচনায় মিলিত হয়ে সব ধরনের শত্রুতামূলক আচরণ পরিত্যাগ ও উত্তেজনা প্রশমনের ব্যাপারে রাজি হয়েছিলেন। এর আগে গত ১২ জুন সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরপরই তিনি ব্যয়বহুল হওয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টির অজুহাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক মহড়া বাতিল করেন।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ বিব্রত হলেও তারা জানায়, যখন উত্তরের সাথে আলোচনা চলমান, তখন এ ধরনের মহড়া বন্ধ থাকাই উচিত। প্রাথমিকভাবে মে মাসেই এ মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান মহড়ার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়া একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনা করলে মহড়াটি পিছিয়ে যায়। এ মাসের শুরুতেই মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দুই কোরিয়ার নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসলে পুরো পরিকল্পনাই পিছিয়ে যায়।
এর আগে দুই কোরিয়ার মধ্যে সামরিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৭ সালে। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেয়া আহান আই সান এ দীর্ঘ বিরতির কারণ হিসেবে শীর্ষপর্যায়ের বৈরিতার কথার উল্লেখ করেন। তবে তিনি এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, আন্তঃকোরিয়ান বৈঠকের কারণে সৃষ্ট দুই পক্ষের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ধারাবাহিকতায় এখন দুই পক্ষের উচিত ভবিষ্যতের বাধাগুলো দূর করা। অন্য দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের প্রধান কিম ডো-জিউন বলেন, তারা দুই পক্ষের সামরিক উত্তেজনা হ্রাস ও মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকের ব্যাপারে চেষ্টা চালাচ্ছেন। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি হটলাইন স্থাপনের জন্যও তারা আলোচনা করেছেন।


আরো সংবাদ