২৩ জুন ২০১৮

জাতিসঙ্ঘ-মিয়ানমার চুক্তির অস্পষ্টতায় রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

আশ্রয়শিবিরে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার :এএফপি -

প্রত্যাবাসন প্রশ্নে মিয়ানমার সরকার ও জাতিসঙ্ঘের মধ্যে স্বারিত চুক্তি নিয়ে রোহিঙ্গাদের হতাশার কথা জানা গেছে আগেই। এবার ওই চুক্তির প্রক্রিয়া আর অস্পষ্টতা নিয়ে ােভ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা সংগঠন। তাদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে যতোটুকু যা জানা গেছে, তাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রশ্নের কোনো মীমাংসা করা হয়নি।
রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলেছে, মিয়ানমার সরকার ও জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তারা চুক্তি স্বারের আগে কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করেনি। জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সঙ্গে গত ৬ জুন সমঝোতা স্মারকে স্বার করে মিয়ানমার সরকার। নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বারিত হয়েছে। ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এই চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদপে’ হিসেবে চিহ্নিত করেন মিয়ানমারে নিয়োজিত জাতিসঙ্ঘের আবাসিক এবং মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী নাট ওৎসবি। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো ওই চুক্তি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
মিয়ানমার সরকার সমঝোতা চুক্তি সম্পন্নের পর দাবি করে, এর মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। তবে মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি। তাদের ‘বাস্তুচ্যুত মানুষ’ আখ্যা দেয়া হয়েছে। ১০ জুন রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, চুক্তিতে রোহিঙ্গা সঙ্কটের ‘মূল কারণ’-এর কথা উল্লেখ করা হয়নি; বিশেষ করে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নটি সুরাহা করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের ‘নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব ও অধিকারের’ েেত্র পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সুরা নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো নিশ্চিত হলেই তারা রাখাইন রাজ্যে বসবাস করতে পারবে। কক্সবাজারের কুতুপালং শিবিরে বসবাসরত এক রোহিঙ্গা নাম প্রকাশ না করার শর্তে চুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পূর্ববর্তী উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘লোকজন (রোহিঙ্গা) চিন্তায় আছে, অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করেই যদি তারা ফিরে যায় তবে আগের মতো অবস্থা হবে।’
মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি ও মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী নাট ওৎসবি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যথাযথ পরিবেশ গড়ে তোলার কাজে সহায়তার জন্য ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি স্বার করেছে।’
সমঝোতা চুক্তি সংক্রান্ত মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, ২৫ বছর আগে ২ লাখ ৩০ হাজার বাস্তুচ্যুতর প্রত্যাবাসনে জাতিসঙ্ঘকে সহায়তা করেছিল মিয়ানমার।’ তবে রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো মিয়ানমার ও জাতিসঙ্ঘের মধ্যে স্বারিত পূর্ববর্তী প্রত্যাবাসন চুক্তিগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বলছে, সেই চুক্তিগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত সুরা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুনর্র্নির্মাণ করে দিতে এবং তাদের আন্তর্জাতিক সুরা দিতে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরী বাহিনীসহ ‘রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক ক্রীড়ানকদের’ প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা নিধনে দায়ীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা না করেই, তাদের মতামত ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে। এমনকি ওই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি ও মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী নাট ওৎসবি জানান, চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। ফ্রন্টিয়ারকে তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি হলো ইউএনএইচসিআর, ইউএনডিপি ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক রূপরেখা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি আইনি চুক্তি। সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু প্রকাশের ব্যাপারে তিন পরে মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে তিন পরেই সম্মতি লাগবে।
বাংলাদেশে থাকা শরণার্থী ও রাখাইনের সব সম্প্রদায়ের লোকজনসহ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করার কথা রয়েছে জাতিসঙ্ঘের দুই সংস্থার।’ জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকেতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির বিশেষ সাাৎকার প্রচারের দুই দিন পরই বিবৃতিটি দেয় রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো। ওই সাাৎকারে সু চি বলেছিলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য আস্থা গড়ে তোলার দায়িত্বটি মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুই দেশের ওপরেই বর্তায়। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আস্থা স্থাপনের বিষয়টি কেবল মিয়ানমারের ওপর বর্তায় না। আমি মনে করি, আস্থা স্থাপনের জন্য অন্য পকেও জরুরি পদপে নিতে হবে।’

 


আরো সংবাদ