২৩ জুন ২০১৮

কিমের সাথে ট্রাম্পের বৈঠককে ধোঁকাবাজি আখ্যা ডেমোক্র্যাটদের

-

ট্রাম্প-কিম বৈঠকটির মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা হ্রাস। বৈঠক শেষে বিভিন্ন বিষয়ে এক পৃষ্ঠার চুক্তি স্বারিত হয়। সেই বৈঠক আর পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা একে ‘প্রচারণামূলক’ পদপে হিসেবেই দেখছে।
সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপে ক্যাপেলে হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, দারুণ বৈঠক হয়েছে। দুর্দান্ত সম্পর্কের সূচনা ঘটতে যাচ্ছে। দিনের শুরুতে এমন চুক্তি স্বারের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে মধ্যাহ্নভোজের আগে একটি দীর্ঘসময় বিরতির উল্লেখ ছিল। দুপুরের দিকেই হঠাৎ করে চুক্তি স্বারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানান ট্রাম্প। বলা হয়, নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে দুই দেশই সহযোগিতামূলক আচরণ করবে। আর উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলেন, ‘কিম জং তার দেশের ভালো চান। আমি আগেই বলেছি, যে কেউ যুদ্ধ শুরু করতে পারে তবে শুধু সবচেয়ে সাহসীরাই শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।’ কিম জংও আশ্বাস দেন যে তিনি কোরীয় উপদ্বপে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে পদপে নেবেন।
দুই বছর আগে বারাক ওবামা যখন কিউবা সফরে যান তখন অনেকেই এর সমালোচনা করছিলেন। কনজারভেটিভরা সমালোচনা করলেও প্রশংসা করেছিলেন লিবারেলরা। ট্রাম্পের েেত্র ঘটনা ঘটেছে পুরো উল্টো। ট্রাম্পকে সব সময়ই সমর্থন দিয়ে আসা কনজারভেটিভ ফক্স নিউজ এই বৈঠকের প্রশংসা করেছে। আর ডেমোক্র্যাটরা একে পাবলিসিটি স্ট্যান্ট হিসেবে মনে করছে। এখান থেকে সাফল্য আসার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করেন তারা।
কংগ্রেসে থাকা রিপাবলিকানরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এই ইস্যুতে অনেক কথা হয়েছে। সিনেট রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। বিস্তারিত প্রকাশের পর কী হয় তার জন্য অপো করছেন তিনি। কয়েকজন কনজারভেটিভ তো যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা পাশাপাশি লাগানোরও সমালোচনা করেছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী একটি দেশের সাথে ট্রাম্পের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ মেনে নিতে পারেননি তারা। আল্লাহপণ্ডিত নামে এক ব্লগার টুইট করে বলেন, ‘ওবামা এমন কাজ করলে আমরা আরো প্তি হতাম।’
মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বরাজনীতি গত ১৬ মাস থেকে একদম উল্টে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, স্বারিত নথিতে কোনো কিছুর বিস্তারিত উল্লেখ নেই। বিশেষ করে কিভাবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ হবে সেই বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।


আরো সংবাদ