২১ নভেম্বর ২০১৮

অনলাইনে পশুর হাট

অনলাইনে পশুর হাট - ছবি : সংগৃহীত

শখের বশে নয়, বরং প্রয়োজনের তাগিদে এখন অনলাইনে কেনাবেচা করছেন অনেকেই। অনলাইনে কেনাবেচা সহজ বিধায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এসব সাইট। অনেক ক্ষেত্রে কোনো রকম ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে জিনিসপত্র। তাই অনেকেই স্বচ্ছন্দে কেনাকাটার জন্য বেছে নিয়েছেন অনলাইন শপিং। কোরবানির পশু অনলাইনে কেনার বিষয়টি শুনতে অন্যরকম লাগতে পারে; কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে আজ আর অবাস্তব নয়। কোরবানির পশু ক্রয় করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই অনেক নিয়মকানুন মেনে পশু ক্রয় করতে হয়। আবার অনেকে তাড়াহুড়া করেও কোরবানির পশু বাজার থেকে ক্রয় করেন না। এমনও দেখা যায়, কাক্সিক্ষত পশু না পেয়ে ক্রেতা হাট থেকে ফিরে এসেছেন। এটি এ দেশের প্রাচীন প্রথা।

অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার বিষয়টি একেবারে ভিন্ন। বাজার থেকে কোরবানির পশু কেনার পর দু-এক দিন পরিবর্চা করা কিংবা গোশত বানানো যারা ঝামেলা মনে করেন, তাদের জন্যই বিশেষ সুবিধা রয়েছে অনলাইন পশুর হাটে। এমনকি বিদেশ থেকে কোরবানির পশু কিনতে পারেন এসব ওয়েবসাইট থেকে। গত বছরও আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান বেশ কিছু কোরবানির পশু বিক্রি করেছে। এবারো তাদের আয়োজন শুরু হয়েছে। সারা বছর বিভিন্ন ধরনের পশু বিক্রি হলেও ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে বেচাবিক্রি শুরু হয়। মোটকথা ঝক্কিঝামেলা এড়িয়ে প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই কোরবানির পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন নগরবাসী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাইরে থেকেও ক্রেতারা এখন ভিড় করছেন অনলাইন কোরবানির হাটে। ক্লাসিফায়েড অনলাইন ও ই-কমার্স সাইটগুলোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিভিন্ন গ্রুপ পেজ খুলে চলছে কোরবানির পশু বিক্রি। মানুষ বিস্ময়করভাবে তা কাজে লাগাচ্ছে। অনলাইনে এখন কোরবানির পশু কেনার কাজটিও সেরে ফেলছেন অনায়াসে। 

আমারদেশ ই-শপ : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ও খামারিদের কোরবানির পশু নিয়ে অনলাইনে হাট জমিয়ে তুলেছে দেশের প্রথম অনলাইন কোরবানির পশুর হাট- আমারদেশ ই-শপ। তাদের http://amardesheshop.com সাইটটিতে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে হাট বেশ জমে ওঠে। কোরবানির পশুর ছবিসহ বিস্তারিত দেয়া থাকে ওয়েবসাইটে। ঘুরে দেখা গেছে, এখানে কিশোরগঞ্জ জেলার গরু প্রাধান্য দিয়ে জমানো হয় হাট। কোরবানির পশু হিসেবে আছে বেশ কিছু ছাগলও। ছাগলের মূল্য ১৪ হাজার থেকে শুরু আর গরুর মূল্য ৬৩ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত। আমারদেশ ই-শপের প্রধান নির্বাহী আতাউর রহমান বলেন, ‘পূর্ণোদ্যমে অনলাইন কোরবানির পশুর হাট চালু হতে আরো একটু অপেক্ষা করতে হবে।

ঈদের পশু বেচাকেনা শুরু হয় মূলত এক সপ্তাহ আগে থেকে। রাজধানীর মানুষ কোরবানির পশু পালন করতে অসুবিধা হওয়ায় শেষ সময়ে পশু ক্রয় করে থাকেন। তিনি জানালেন, আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত এই অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি হবে। পশু ঈদের আগেই ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে। ওয়েবসাইটে দেয়া মোবাইল নম্বরে কথা বলে বিস্তারিত জানা যাবে। 
ক্লিক বিডি : ক্লিক বিডি নামে একটি অনলাইন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ২০১২ সাল থেকে ওয়েবসাইটে কোরবানির পশু বিক্রি করছে। কোরবানির সময় ঘনিয়ে এলেই ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন তারা। তাদের ওয়েবসাইটে ঈদের ১০ দিন আগে থেকে পশুর ছবিসহ ওজন, বয়স, রঙ, উচ্চতাসহ নানা ধরনের তথ্য দেয়া থাকে। তা ছাড়া, ওয়েবসাইটে দেয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে আরো তথ্য জানা যাবে।

এ বিষয়ে ক্লিক বিডির প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা ইকরাম সিকদার জানান, কোনো গ্রাহক যদি সরাসরি কোরবানির পশু দেখতে চান তাহলে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে অথবা কেউ যদি শুধু কোরবানির গোশত নিতে চায়, তাহলে প্রসেসিং করে বাসায় গোশত পৌঁছে দেবো। ক্লিক বিডির ওয়েবসাইটের ঠিকানা : www.clickbd.com 

বিক্রয় ডটকম : দেশী-বিদেশী পশুর সমাহার নিয়ে কোরবানির হাট জমাতে পিছিয়ে নেই ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপনের ওয়েব ঠিকানা বিক্রয় ডটকম। এই ঠিকানায় ঈদে খোলা হয়েছে পশুর হাট। প্রতি কোরবানির আগে নিম্নের ঠিকানায় https://bikroy.com/en/ads/farm-animals-in-bangladesh-307 মিলছে ফ্রিজিয়ান গাভী, দেশী ষাঁড় ও বকনা গরু। গ্রাহকেরা চাইলে পশু ক্রয়ের আগে তাদের প্রত্যাশিত পশুটিকে যেখানে রাখা হচ্ছে, সেই খামারটি সরাসরি পরিদর্শন করতে পারবেন বলে জানান বিক্রয়-এর মার্কেটিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু বিক্রেতাদের বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বিক্রয় ডটকম। এ ছাড়া পশু কেনার পর ক্রেতার বাড়িতে সেই পশু পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এ সেবাটি মিলবে কেবল ‘বাই নাউ’ ফিচারে। বিক্রেতা সদস্যদের কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেই এটি বিক্রি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কোরবানির পশুহাট থেকে বাসায় ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিয়মিত বাজারে পশুর মূল্য চড়া থাকলেও ‘বাই নাউ’-এ মূল্য স্থিতিশীল থাকবে।

বেঙ্গলমিট : গত দুই বছরের মতো এ বছরও অনলাইনে পশুর হাট বসিয়েছে বেঙ্গলমিট। কোরবানির পশু জবাই থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণেরও ব্যবস্থা করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। http:/bengalmeat.com/qurbani ঠিকানা থেকে গরুর অর্ডার করে বাড়িতে কোরবানির পশু না এনেই দেয়া যাবে কোরবানি। এ ক্ষেত্রে হালাল ও নিরাপদ কোরবানির শর্তসাপেক্ষে প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে। পশু কিনে বাড়ি এনে দু-এক দিন রেখে ঈদের দিন জবাই করে চামড়া ছাড়িয়ে গোশত পাওয়ার জন্য আর চিন্তা করতে হবে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে এক দিকে যেমন হাটে গিয়ে পশু কিনতে হবে না, তেমনি কসাইয়ের কাছেও যেতে হবে না ক্রেতাদের।

এ বিষয়ে বেঙ্গলমিটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ হাসান হাবিব বলেন, ‘এবারের হাটের প্রধান আকর্ষণ হলো বেঙ্গলমিটের নিজস্ব ফিডলটে কমপক্ষে তিন মাস থেকে এক বছর পেশাদার ভেটেরিনারি ও পশুপালকের পর্যবেক্ষণে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর খাবার ও প্রাকৃতিক উপায়ে পালিত পশু। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সম্পূর্ণ স্টেরয়েড মুক্ত, রোগমুক্ত, স্বাস্থ্যবান কোরবানির পশু পাবেন ঘরে বসেই। বেঙ্গলমিট প্রতিষ্ঠানটি এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার ক্রেতাদের কোরবানির পশু সরবরাহ করবেন বলে জানিয়েছে।

 


আরো সংবাদ