২১ নভেম্বর ২০১৮

ফ্লিপকার্টে 'জলের' দামে ‘ব্রাহ্মণ গরু’

ফ্লিপকার্টে 'জলের' দামে ‘ব্রাহ্মণ গরু’ - সংগৃহীত

১৬৬৮৮ রুপির জিনিস অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৪৬২ রুপিতে। প্রায় ৭৩ শতাংশ ছাড়ে। ভাবছেন এ আর এমন কী? অনলাইনে কত জিনিসই তো পাওয়া যায়৷ কিন্তু এবার ফ্লিপকার্টে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে 'ব্রাহ্মণ গোমাতাকেও' !!

হাঁ, ঠিকই শুনছেন৷ গরুও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে৷ ভাবা যায়! ফ্লিপকার্টে এবার বিক্রি হচ্ছে গরু৷ তাও যে সে গরু নয়, একেবারে 'ব্রাহ্মণ' গরু৷ প্রায় ৭৩ শতাংশ ছাড়ে ১৬৬৮৮ রুপির গরু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৪৬২ রুপিতে। পাওয়া যাচ্ছে আপনার পছন্দ মতো রঙে৷ হাতে পেয়ে পছন্দ না হলে ১০ দিনের মধ্যে পাল্টে নিতেও পারবেন গোমাতাকে৷


Collecta Brahman Cow (Multicolour) নামে গরু বিক্রি করছে অনলাইন শপিং পোর্টাল ফ্লিপকার্ট৷ রীতিমত একটি সাদা রঙের গরুর ছবি দিয়ে বিক্রি হচ্ছে গরু৷ দাম শুধু সস্তাই নয়৷ পাওয়া যাবে মাসিক কিস্তিতেও৷ মাসিক ১৪৯ রুপির কিস্তিতে কেনা যাবে এই খাঁটি ব্রাহ্মণ গরু৷ পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে ষাঁড় ও গরুর বাচ্চাও৷ তেমনই দাবি করেছে ফ্লিপকার্ট৷

এই ব্রাহ্মণ গরু কিনলে আবার এক্সট্রা ১০ শতাংশ ছাড় মিলতে পারে শর্তাধীনে৷ শুধু তাই নয়, ভিসা কার্ডে এই গোমাতাকে কিনলে আরো বাড়তি ৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে৷ এক্সিস ব্যাংক বাজ ক্রেডিট কার্ডে গরু কিনলেও পাওয়া যাবে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ছাড়৷ শুধু তাই নয়, অর্ডার দেবার ২ দিনের মধ্যে আপনার বাড়িতে পৌঁছে যাবে স্বয়ং 'গোমাতা'৷

এই পর্যন্ত পড়ে যারা ভাবছেন সত্যি সত্যি গরু কিনতে পাওয়া যাবে ফ্লিপকার্টে, তারা এবার বিজ্ঞাপণের নিচের অংশ পড়লেই হোঁচট খাবেন৷ হাইলাইটসে লেখা আছে, চওড়া ৫.০০৩৮ ইঞ্চি, উচ্চতা ৮.০০০১৷ ওজন ৫০০ গ্রাম। পাঁচ ইঞ্চি চওড়া ও ৮ ইঞ্চি লম্বা, ৫০০ গ্রামের গরুটা আবার কী? তাহলে কি এটা 'বামন' গরু? প্রথমে বিজ্ঞাপণের উপর অংশ দেখলে তাই মনে হবে৷

তবে, বিজ্ঞাপণের একদম শেষ দিকে লেখা, মেটারিয়াল প্লাস্টিক, কোনো ব্যাটারি নেই৷ আর বর্ণনায় লেখা আছে, কাঁধের উপর হাম্প আছে৷ এই 'ব্রাহ্মণ' গরু ফ্লিপকার্টের অন্যতম সেরা ছোটদের খেলনা বলেই লেখা আছে এরপর৷ প্লাস্টিকের গরুকে একেবারে গরুর মতো দেখতে বানাতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেয়া হয়েছে৷ গলার কাছে আছে গলাকম্বল, গায়ে আছে আসল গরুর মতো হালকা চুল৷

শিশুরা যাতে আরো বেশি করে প্রাণীদের সম্পর্কে জানতে পারে তার জন্যই এই প্লাস্টিকের গরু তৈরি বলে জানা গেছে৷ শিশুরা গৃহপালিত পশুদের সম্পর্কে জানতে পারবে, পাশাপাশি তাদের খাদ্য ও বাসস্থান সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা থাকবে৷ তবে, ‘ব্রাহ্মণ গরু’ লিখে বিক্রি করায় এমনিতেই তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷

তবে, গরুর রেপ্লিকা তৈরি করে একেবারে আসল গরু বলে বিক্রি করার ভাবনা চিন্তায় বেশ অবাক হয়েছেন সাধারণ মানুষ৷ এখন দেখার এটাই যে, নিজের শিশুর জন্য ৪৪৬২ টাকার প্লাস্টিকের গরু কিনতে কতজন মানুষ আগ্রহী হন৷ তবে, প্লাস্টিকের খেলনায় জাত-পাত লিখে বিক্রী, জাতে ব্রাহ্মণরা কতটা মেনে নেন সেটাই কিন্তু দেখার !!

আরো পড়ুন :
পুরীর মন্দিরে ‘চমৎকার’, সিল করা খামে মিলল রত্নভাণ্ডারের হারানো চাবি

অবশেষে মিলল ভারতের বিখ্যাত পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের চাবি। আচমকা সিল করা খামে করে চাবি ফিরে এসেছে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে। এমনটাই জানিয়েছেন জেলাপ্রশাসক অরবিন্দ আগরওয়াল। এভাবে মন্দিরের রত্মভাণ্ডারের চাবি উদ্ধার হওয়াকে ‘চমৎকার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন তিনি।

পুরীর এই রত্নভাণ্ডারে মোট সাতটি কক্ষ রয়েছে। প্রথম দু’টি বাইরের কক্ষ। এগুলো প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। বাকিগুলি ভিতরের কক্ষ। প্রায় মাস দু’য়েক আগে মন্দিরের এই চাবি হারিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। হাই কোর্ট আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে রত্নভাণ্ডারের অবস্থা দেখে আসার নির্দেশ দিয়েছিল। ৪ এপ্রিল জগন্নাথ মন্দিরের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ছিল। সেই মিটিংয়ে প্রায় ৩৪ বছর পর রত্নভাণ্ডারে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৬ জনের একটি দল মন্দিরের রত্নভাণ্ডারে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরনোর পর দেখা যায়, হারিয়ে গেছে রত্নভাণ্ডারের চাবি। এর পর থেকেই চাপে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। পুরীর শঙ্করাচার্য ও বিজেপি তাকেই দোষ দেন। বিষয়টির উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে এই ঘটনার জেরেই ক’দিন আগে মন্দিরের মুখ্য প্রশাসক প্রদীপ জেনাকে অপসারণ করা হয়েছিল।

বুধবার জেলাশাসক অরবিন্দ আগরওয়াল জানান, চাবি না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তারা। কিন্তু আচমকাই সিল বন্ধ করা খামটি এসে পৌঁছায়। খাম খুলতেই চাবির গোছা মেলে। এভাবে চাবি খুঁজে পাওয়া চমৎকার বলেই মনে করছেন জেলাপ্রশাসক। অবশ্য এটি ডুপ্লিকেট চাবি বলেই জানা গেছে। যদিও চাবিটি এখনো পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। কোথা থেকে এই খামটি এসেছে? কেই বা পাঠিয়েছে? সে সম্পর্কে জানার চেষ্টা চলছে বলেই জানা গেছে।


আরো সংবাদ