Naya Diganta

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির কৃতী সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা :পিআইডি

গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতি স্মরণ করল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় মিরপুর ও রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ। ফুলের তোড়া ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে লেখা কালো ব্যানার নিয়ে দলে দলে মানুষ ভিড় করেন বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। সব শ্রেণী পেশার মানুষ পুষ্পমালা অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানোর পর তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, মোমবাতি প্রজ্বলন, শোক র্যালি, শ্রদ্ধা নিবেদন, চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
১৯৭১ সালে শহীদ বৃদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ সকাল ৭টা ৫ মিনিটে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। এর পরপরই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এরপর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেখানে উপস্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
শহীদ পরিবারের স্বজনেরা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা হুইল চেয়ারে বসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শুরু হয় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, কেন্দ্রীয় ১৪ দল, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, (সিপিবি) বাসদ, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন কর হয়।
সকাল ৮টায় ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর ভবনের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শেখ হাসিনা প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলতনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম ও মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতি বক্তব্য রাখেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান।
এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০টায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীর নেতৃত্বে ডিআরইউ সদস্যরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ফুল দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানায় সিটিজেন এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। মানবাধিকার কমিশন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের চেতনা নিয়ে সব অন্যায়-নির্যাতন রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর মহান বিজয় যখন দ্বারাপ্রান্তে তখন বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর দেশের কৃতী সন্তানদের বেছে বেছে ধরে নিয়ে হত্যা করে স্বাধীনতার শত্রুরা। তাদের স্মরণে প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয় শহীদ বৃদ্ধিজীবী দিবস।
বগুড়া অফিস জানায়, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বগুড়ায় শনিবার পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের টেম্পল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু। সভায় আরো বক্তব্য রাখেনÑ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা: মকবুল হোসেন, টি জামান নিকেতা, তোফাজ্জল হোসেন দুলু, আবুল কালাম আজাদ, মকবুল হোসেন মুকুল প্রমুখ। অন্য দিকে বগুড়া জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির নেতা রেজাউল করিম বাদশা, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদিন চাঁন, কে এম খায়রুল বাশার, সহিদ উন নবী সালাম, শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, মনিরুজ্জামান মনির, আকরাম হোসেন, খাদেমুল ইসলাম প্রমুখ। বগুড়া প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সহসভাপতি আবদুল মোত্তালিব মানিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মাহমুদুল আলম নয়ন, রেজাউল হাসান রানু, প্রদীপ ভট্টাচার্য শংকর, মুরশিদ আলম, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
রংপুর অফিস জানায়, নানা আয়োজনে রংপুরে শনিবার পালিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সকালে কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম, রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল আলীম মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, ডিসি আসিব আহসান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানমসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও সংগঠন। অন্য দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টায় রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এ ছাড়াও জেলা প্রশাসন শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করে। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল আলম শহীদ। জেলা প্রশাসক মো: শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন খান, জেলা পরিষদের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার সিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিকুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী প্রমুখ। এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি জেলা সদরের বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের শান্তি কামনা করে মুনাজাত করা হয়।
পটুয়াখালী সংবাদদাতা জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক দরবার হলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো: হেমায়েত উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো: মতিউল ইসলাম চৌধুরী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঈনুল হাসান পিপিএম, পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মন্নান। এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১০টায় পুরনো জেলখানার ভেতরে গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে কালেক্টরেট চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মৃণাল কুমার দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী, মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ, হাজী রফিকুর রহমান, সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, তাইজাল আলী খান, জাসদ সভাপতি গোলাম মহসিন প্রমুখ।
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা জানান, বুদ্ধিজীবী দিবসে ঠাকুরগাঁওয়ে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার প্রেস ক্লাব চত্বরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহা: সাদেক কুরাইশী এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম, পুলিশ সুপার মো: মনিরুজ্জামান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর, বেসরকারি সংস্থা ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. শহিদুজ্জামান, প্রেস ক্লাব সভাপতি মনসুর আলী, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠুসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
রাবি সংবাদদাতা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (রাবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তৃতা দেন। এ সময় প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো: জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: লুৎফর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে সকালে নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে সেখানে ভিসি প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল-আলম সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এ সময় নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো: মমিনুল হক, অনুষদগুলোর ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র নির্দেশনা পরিচালক, দফতরগুলোর পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মহানগরীর বিভিন্ন মসজিদে কুরআনখানি ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে রাজশাহী কোর্ট শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারাসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। দিবসের প্রথম প্রহরে রুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলাম সেখের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে রুয়েটের শহীদদের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া বাদ জোহর রুয়েট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলাম সেখ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো: সেলিম হোসেন, যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: মোশাররফ হোসেনসহ বিভাগীয় প্রধান, হলগুলোর প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে শহরের শেখ জামাল স্টেডিয়াম সংলগ্ন গণকবরে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্যে দিয়ে এ দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে প্রথমে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আ’লীগ, ফরিদপুর প্রেস ক্লাব, সরকারি সারাদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, সরকারি ইয়াছিন কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুরের বিভিন্ন কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।